প্রশ্নফাঁসের মামলা

ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ছাপাখানা থেকেই প্রশ্ন ফাঁস করা হতো * চক্রের সদস্যের নামে বিপুল অংকের অর্থ-সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বহুল আলোচিত প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৮৭ শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত শেষে রোববার সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস সংশ্লিষ্ট শাখায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আগামী ২৬ জুন অভিযোগপত্রটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফাইল ছবি

বহুল আলোচিত প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৮৭ শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত শেষে রোববার সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস সংশ্লিষ্ট শাখায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আগামী ২৬ জুন অভিযোগপত্রটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

৬৫ পৃষ্ঠার মূল চার্জশিটে আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিসিএস, ব্যাংক ও বিভিন্ন সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাসকে চক্রের মূলহোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন ইব্রাহীম, মোস্তফা কামাল, হাফিজুর রহমান হাফিজ এবং তাজুল ইসলাম।

চার্জশিটভুক্ত ১২৫ আসামির মধ্যে ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তার মধ্যে ৪৬ জনই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি ৭৮ আসামি পলাতক রয়েছেন। মামলায় একজন কিশোরকেও আসামি করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে ৬৯ জনকে। অভিযোগপত্রে ৮৯ জন আসামির নাম-ঠিকানা যাচাইপূর্বক সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের আবেদনও করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ৬৩ ধারাসহ পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এর ৯(খ) ধারায় এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিরা সবাই এখন জামিনে।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, মূলত দুইভাবে প্রশ্নফাঁস চক্রটি কাজ করত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন যেই ছাপাখানা থেকে ছাপা হতো, চক্রের সদস্যরা সেই প্রেস থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করত। পরীক্ষার আগের রাতে সেসব প্রশ্নের সমাধান বের করে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মুখস্থ

করানো হতো। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করা হতো।

উল্লেখ্য, ঢাবিতে প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি পরীক্ষার দিন ফাঁস হলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের জোরালো দাবি জানানো হলেও ঢাবি কর্তৃপক্ষ গোটা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, ছাপাখানা থেকে প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের সবাই চিহ্নিত হলেও ডিজিটাল ডিভাইস চক্রটিকে চিহ্নিত করতে তাদের বেগ পেতে হয়। শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল জালিয়াত চক্রটিকেও চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। চক্রটির মাস্টারমাইন্ড ছিল বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস। সিআইডির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, তদন্তে প্রশ্নফাঁস চক্রের মূলহোতাদের অঢেল অবৈধ অর্থ-সম্পদের সন্ধানও পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিক তদন্তে প্রায় ২০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়।

২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে শহীদুল্লাহ হল থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন রানা ও আবদুল্লাহ আল মামুন নামে দুই ছাত্রকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তাদের কাছ থেকে এটিএম কার্ডের মতো দেখতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৬৩ ধারা এবং ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৯(খ) ধারায় মামলা করে সিআইডি।

যাদের নামে চার্জশিট : মো. ইব্রাহিম, অলিপ কুমার বিশ্বাস, মো. মোস্তফা কামাল, মো. হাফিজুর রহমান, মো. মাসুদ রহমান তাজুল, মো. রিমন হোসেন, মো. মহিউদ্দিন রানা, মো. আইয়ুব আলী বাঁধন, আবদুল্লাহ আল মামুন, ইশরাক হোসেন রাফি, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মামুন মিয়া, অসিম বিশ্বাস, মো. অনোয়ার হোসেন, মো. নুরুল ইসলাম, মো. হাসমত আলী সিকদার, হোসনে আরা বেগম, গোলাম মো. বাবুল, টিএম তানভির হাসনাইন, সুজাউর রহমান সাম্য, রাফসান করিম, মো. আখিনুর রহমান অনিক, নাজমুল হাসান নাঈম, ফারজাদ ছোবহান নাফি, আনিন চৌধুরী, রকিবুল হাসান, বনি ইসরাইল, মো. মারুফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, খান বাহাদুর, কাজী মিনহাজুল ইসলাম, নাহিদ ইফতেখার, রিফাত হোসেন, মো. বায়জিদ, ফারদিন আহম্মেদ সাব্বির, তানভির আহম্মেদ মল্লিক, প্রসেনজিত দাস, মো. আজিজুল হাকিম, নাভিদ আনজুম তনয়, সালমান এফ রহমান হৃদয়, সজীব আহাম্মেদ, শিহাব হোসেন খান, এনামুল হক আকাশ, মোশারফ মোসা, মোহায়মেনুল ইসলাম বাঁধন, সাইদুর রহমান, আবদুর রহমান রমিজ, গোলাম রাব্বী খান জেনিথ, উৎপল বিশ্বাস, বেলাল হোসেন বাপ্পী, মো. মশিউর রহমান সমীর, মো. আবু জুনায়েদ সাকিব, মোস্তাফিজ-উর-রহমান মিজান, আবুল কালাম আজাদ, শরমিলা আক্তার আশা, মাসুদ রানা, জেরিন হোসাইন, শেখ জাহিদ বিন হোসেন ইমন, তাজুল ইসলাম সম্রাট, আবির হাসান হৃদয়, মোর্শেদা আক্তার, সালমান হাবিব আকাশ, আলামিন পৃথক, শাহ মেহেদী হাসান হৃদয়, অনিকা বৃষ্টি, ফিওনা মহিউদ্দিন মৌমি, সিনথিয়া আহম্মেদ, শাবিরুল ইসলাম সনেট, মো. লাভলুর রহমান লাভলু, মো. ইছাহাক আলী ইছা, মো. আবদুল ওয়াহিদ মিশন, তানজিনা সুলতানা ইভা, ইশরাত জাহান ছন্দা, মো. আশেক মাহমুদ জয়, নাফিসা তাসনিম বিন্তী, প্রণয় পান্ডে, নুরুল্লাহ নয়ন, জিয়াউল ইসলাম, মো. আশরাফুল ইসলাম আরিফ, জাকিয়া সুলতানা, মো. শাদমান শাহ, সাদিয়া সিগমা, মো. রবিউল ইসলাম রবি, মেহেজাবীন অনন্যা, মো. রাকিবুল হাসান, এম ফাইজার নাঈম সাগর, সাদিয়া সুলতানা এশা, সামিয়া সুলতানা, ফাতেমা আক্তার তামান্না।

এদিকে গত ৩০ মে সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজি মোহা. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চার্জশিটে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে খুব শিগগির চিঠি দেয়া হবে। তিনি জানান, তদন্তকালে আসামিদের নামে ২০ কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে এরই মধ্যে উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং আইনে মামলাও করেছে সিআইডি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×