আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

হারানো স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতেই আ’লীগের প্রতিষ্ঠা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের আজকের অঙ্গীকার। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। রোববার সকালে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
ছবি: যুগান্তর

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের আজকের অঙ্গীকার। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। রোববার সকালে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, সারা বিশ্বে বাঙালি জাতি মর্যাদা অর্জন করেছে। বাংলার হারানো স্বাধীনতাকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দেশের সেই সম্মান আমরা ফিরিয়ে এনেছি। কারণ আওয়ামী লীগই দেশকে দেয়, মানুষকে দেয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব- আজকের দিনে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। বক্তৃতার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব থেকে প্রাচীন এবং বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, চার জাতীয় নেতা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মাহুতি দানকারী দলের নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। পরে দলের সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে তিনি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পায়রা ও বেলুন উড়ানো হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে কিছু সময় অবস্থান করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ড. আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ও পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এসএস রেজাউল করিম, রেলওয়েমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আহমেদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট মেজবাহউদ্দিন সিরাজসহ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। ঢাকা মহানগর আওয়ামী যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সহসভাপতি মাইনুদ্দিন রানা, সোহরাব হোসেন স্বপন, আনোয়ার ইকবাল সান্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বাবু, মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমানসহ মহানগর ও ওয়ার্ডের শত শত নেতাকর্মী পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল সমাবেশ, র‌্যালি ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে। র‌্যালি-পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. হারুন-অর-রশিদ। বক্তব্য দেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আওয়ামী লীগ নেতা সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ শরীফ উদ্দিন প্রমুখ।

দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদ এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ডা. এসএ মালেক বক্তৃতা করেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা আজ : আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। সভায় দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী এবং জাতীয় নেতারা অংশ নেবেন। এ সভা সফল করতে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দল ও দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার তথ্য জানানো হয়।

কাজটাকে কেবল চাকরি হিসেবে নিলে হবে না -নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবীন সরকারি কর্মচারীদের কেবল চাকরির জন্য চাকরি নয়, সেবার মানসিকতায় দেশপ্রেম, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রসার ঘটিয়ে কর্মক্ষেত্রে আত্মনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের কাজটাকে কেবল চাকরি হিসেবে নিলে হবে না। দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য দেশপ্রেম এবং কর্তব্যনিষ্ঠা নিয়ে কাজ করতে হবে।

রোববার সকালে রাজধানীর শাহবাগের বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে ১১০, ১১১ ও ১১২তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের ভেতরে ইনোভেটিভ চিন্তা-ভাবনা থাকতে হবে। নিজের ভেতরে একটা আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। কোনো কাজ পারব কি পারব না এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগলে চলবে না। হ্যাঁ, আমি পারব, সেই বিশ্বাসটা সব সময় নিজের ওপর রাখতে হবে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা চাইতেন বাঙালিরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে তাই পৃথিবীতে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং আমরা তা করতে পারব। এ কথাটা সব সময় মনে রাখতে হবে, এই আত্মবিশ্বাসটা থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, কর্মক্ষেত্রে সব থেকে বড় কথা আত্মবিশ্বাস। যে কোনো একটা কাজ করতে গেলে কিভাবে করব, কিভাবে হবে, কয় টাকা আসবে, কোথা থেকে টাকা পাব- একদম দুশ্চিন্তা না করে কোন কাজটা করে উন্নতি করা সম্ভব সেটা নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এইচএম আশিকুর রহমান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রতিষ্ঠানের রেক্টর কাজী রওশন আরা আখতার স্বাগত বক্তৃতা করেন। ১১০, ১১১ ও ১১২তম কোর্সের রেক্টর পদকজয়ী তিন শিক্ষার্থী মাহবুব উল্লাহ মজুমদার, রঞ্জন চন্দ্র দে এবং মাবরুল আহমেদ অনিক অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ১১০, ১১১ এবং ১১২তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের শিক্ষার্থীদের মঝে সনদ বিতরণ করেন এবং তাদের সঙ্গে পৃথক ফটো সেশনে অংশগ্রহণ করেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার উন্নয়নের সুফল এ সময় তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সরকারি কর্মচারীদের নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সরকারি নবীন কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো কাজ যে ছোট কাজ নয়, এ কথাটাও মানুষকে বোঝাতে হবে। লেখাপড়া শিখলেই আমি ধান কাটতে পারব না, এই যে মানসিকতা তা পরিহার করতে হবে। ধান কাটার লোক না পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ছাত্রলীগকে নিজ নিজ এলাকায় ধান কাটায় নেমে যাওয়ার হুকুম দেন বলে জানান।

১৭৫৭ সালে ২৩ জুন, পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সৃষ্টিই হয়েছিল এ দেশকে স্বাধীনতা এনে দেয়ার মাধ্যমে শোষিত-বঞ্চিত মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে। তাই এই দিনেই পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে দলটির জন্ম। তিনি এ সময় ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী সামরিক ও বেসামরিক চাকরিতে পূর্ববাংলার জনগণের বঞ্চনার চিত্র উল্লেখ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশিদের মাঝে বাঙালি জাতিসত্তার উন্মেষ ঘটানোর ২৩ বছরের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের গত ১০ বছরের ধারাবাহিক শাসনে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×