খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে ৬ ব্যাংককে চিঠি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে ৬ ব্যাংককে চিঠি
ফাইল ছবি

ঋণখেলাপির সংখ্যা ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ৬টি ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে রোববার ব্যাংকগুলোর নির্বাহীকে দেয়া চিঠিতে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চিঠিতে আগামীতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও ঋণখেলাপির সংখ্যা কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এ তথ্য।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব জেহাদ উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠি দেয়া হয়েছে জনতা, অগ্রণী, রূপালী, সোনালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রাপ্ত ঋণ হিসাব বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর ঋণখেলাপির সংখ্যা এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০১৯-এর মার্চ প্রান্তিকে উদ্বেগজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ গ্রহণযোগ্য সীমায় কমিয়ে আনার জন্য কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও এ তিন মাসে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪ হাজার ১৮৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের বেড়েছে ৩৯৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ২৩৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ও সোনালী ব্যাংকের বেড়েছে ১৭৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া বেসিক ব্যাংকের ঋণখেলাপি বেড়েছে ১৭২ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বেড়েছে ১৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

গত তিন বছরে ঋণখেলাপির সংখ্যা অত্যধিক বেড়েছে উল্লেখ করে চিঠিতে আরও বলা হয়, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি মোটেই কাম্য নয়।

গত তিন মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। আর গত তিন বছরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪৩ হাজার ২১০ কোটি টাকা। গত শনিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে এসে এর পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৩১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ তিন বছরে নতুন করে ৫৮ হাজার ৪৩৬ ব্যক্তি ঋণখেলাপির তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

এছাড়া দেশের শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকা সংসদে উপস্থাপন করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এদের ঋণখেলাপির পরিমাণ ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। এ খেলাপিরা সরকারি ও বেসরকারি খাতের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর ২০১৮ শেষে ছিল ৯৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা।

২০১৯ সালের মার্চের শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী) ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২০ শতাংশ। এ সময় ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণ এক লাখ ৬৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ছিল ৪৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা।

মার্চ শেষে বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের (বেসিক ও ডিবিবিএল) খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

আলোচিত সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৭ লাখ পাঁচ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকাই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এ ছাড়া বিদেশি ৯ ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে ৩৬ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ দুই হাজার ২৫৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×