ছাত্রদলের কাউন্সিল ১৫ জুলাই

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ১৫ জুলাই ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করবেন। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ হবে।
ফাইল ছবি

নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ১৫ জুলাই ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করবেন। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ হবে।

নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের অবশ্যই ২০০০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী হতে হবে। বিবাহিতরা প্রার্থী হতে পারবেন না। রোববার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের তারিখ ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণা করেন খায়রুল কবির খোকন, যিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

তফসিল অনুযায়ী আজ ২৪ জুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকার ওপর আপত্তি ১৪ জুন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২৬ জুন, মনোনয়নপত্র বিতরণ ২৭ ও ২৮ জুন, মনোনয়নপত্র জমাদান ২৯ ও ৩০ জুন এবং প্রার্থী বাছাই ১, ২ ও ৩ জুলাই। ৪ জুলাই প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ, তালিকার ওপর আপত্তি ও নিষ্পত্তি ৫ ও ৬ জুলাই এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ৭ জুলাই। প্রার্থীরা ১৩ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত ভোটের প্রচার চালাতে পারবেন।

৩ জুন বিএনপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয়। এরপর ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কমিটি বিলুপ্তের পর থেকে বয়সসীমা উঠিয়ে দিয়ে অতীতের মতো কমিটি করার দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিক্ষুব্ধরা। বয়স্ক এসব নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালাসহ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তারা। বিষয়টি সমাধানে ছাত্রদলের সাবেক নেতারা কয়েক দফা বৈঠক করেন। বিষয়টি নিয়ে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন তারা। কিন্তু বয়সসীমার ব্যাপারে অনড় থাকে দলটির হাইকমান্ড। যারা বাদ পড়বে, তাদের দলের অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পেয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যান। সংবাদ সম্মেলন করে তাদের দাবি মেনে নেয়ার হুশিয়ারি দেয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের সংকট নিয়ে শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। কিন্তু বিক্ষুব্ধদের দাবি না মানার ব্যাপারে সবাই একমত হন। যারা দলের সিদ্ধান্ত মানছে না, তাদের বহিষ্কার করতে কেউ কেউ পরামর্শ দেন। বৈঠকের পর রাতেই ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ ১২ জনকে বহিষ্কার করা হয়। দলের মহাসচিব স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। এদিকে বহিষ্কারের পর ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয় নিজেদের দখলে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। রোববার পদপ্রত্যাশী কয়েকশ’ নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। বহিষ্কৃতদের ঠেকাতে যোগ দেন মহানগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরাও।

জানা গেছে, একদিকে বহিষ্কার, অন্যদিকে কাউন্সিলের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন অনেকে। তাদের দাবি মানা না হলে কাউন্সিল ভণ্ডুল করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বহিষ্কৃতরা। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে আদালতে রিট করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। পরবর্তী করণীয় চূড়ান্ত করতে রোববার বিকালে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিক্ষুব্ধরা। বৈঠকে যে কোনো মূল্যে কাউন্সিল প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি দাবি আদায়ে কর্মসূচি অব্যাহত রাখারও সিদ্ধান্ত হয়।

জানতে চাইলে ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা ইকতিয়ার রহমান কবির বলেন, আমরা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছি। দাবি আদায়ে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। আমাদের কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিলে প্রতিহত করা হবে।

এদিকে নয়াপল্টনে তফসিল ঘোষণার সময় উপস্থিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ১২ নেতার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বলেন, ছাত্রদল একটি নিয়মশৃঙ্খলার সংগঠন। সেই সংগঠনের কেউ যদি নিয়মশৃঙ্খলার বাইরে যায়, গঠনতন্ত্র মোতাবেক তারা শাস্তির আওতায় আসে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর আমরা এখানে (নয়াপল্টনের কার্যালয়ে) তাদের (বিক্ষুব্ধদের) সঙ্গে কথা বলার জন্য এসেছিলাম। আমাদের দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এখানে পার্টির নির্দেশে কাজ করছেন, পার্টি তাকে যেটা বলতে বলে, সে ততটুকু বলে। সেখানে তাকে টার্গেট করাটা সমুচিত তো নয়ই, এটা শৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে না। এটা নৈতিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এটা ছাত্রদলের সঙ্গে যায় না। এ বিষয়ে পার্টি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্যে ড. আসাদুজ্জামান রিপন, রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আজিজুল বারী হেলাল, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শফিউল বারী বাবু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, ইয়াসিন আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×