পাবলিক পরীক্ষার সময়সীমা কমানোর প্রস্তাব

পরিবর্তন আসছে গ্রেডিংয়ে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়
শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ছবি: যুগান্তর

প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণে সময়সীমা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এ লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, সাড়ে ৭ মাস বাকি থাকতেই ২২ দিনে আগামী এসএসসি পরীক্ষা শেষ করার প্রস্তাব সংবলিত রুটিন অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর সাড়ে ৪ মাস আগেই জেএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি মাসেই দুই রুটিন প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে পাবলিক পরীক্ষার ফল তৈরিতে বিদ্যমান গ্রেডিং পদ্ধতি সংস্কারের চিন্তা চলছে। এ নিয়ে এক দফা আলোচনা হয়েছে। ফিরতি আলোচনা আগামীকাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভার এজেন্ডায় আছে। ওই সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির উপস্থিত থাকার কথা আছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আলাপকালে সোমবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষাগুলো আমরা অল্পদিনের মধ্যে শেষ করতে চাই। বর্তমানে এ ধরনের একেকটি পরীক্ষা নিতে সর্বোচ্চ ২ মাস লেগে যায়। এতে একদিকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক শক্তির অযথা বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। আরেকদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পাবলিক পরীক্ষার ফল মূল্যায়নে বর্তমানে সর্বোচ্চ ব্যান্ড হচ্ছে জিপিএ-৫। এটা আমরা জিপিএ-৪ করার চিন্তা করছি। সর্বোচ্চ ব্যান্ড জিপিএ-৪ হলে ফেল স্তর পর্যন্ত গ্রেডিং কিভাবে বিন্যাস করা হবে সেটার চূড়ান্ত খসড়াও এখন পর্যন্ত প্রস্তুত হয়নি। তবে কাজ চলছে। কিছু একটা দাঁড়ালে বুধবারের (আগামীকাল) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। নইলে আরেকটু বিলম্বিত হবে। তবে আসন্ন জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায়ই এটা প্রবর্তনের লক্ষ্য আছে আমাদের আছে।

পরীক্ষার সময় হ্রাস : জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের একটি বিষয়ের পরীক্ষার পর আরেকটি গ্রহণের মাঝে বর্তমানে সর্বনিু ১ দিন এবং ৩-৪ দিনও বিরতি দেয়া হয়ে থাকে। এ বিরতি বা ছুটি কমিয়ে পরপর পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা ১০ দিনের মধ্যে নেয়া হবে। বর্তমানে এ পরীক্ষা হয় ১৫ দিনে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হবে ২২ দিনের মধ্যে। সর্বশেষ এ পরীক্ষা ১ মাস ধরে নেয়া হয়। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেয়া হবে ৩০ দিনের মধ্যে। এ পরীক্ষা নিতে বর্তমানে দেড় থেকে দু’মাস লাগে।

২০১৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের পর গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে পাবলিক পরীক্ষার সময়সীমা কমানোর সুপারিশ ছিল। কমিটির পর্যবেক্ষণ ছিল, লম্বা সময় ধরে পরীক্ষা নেয়ায় প্রশ্ন ফাঁসের আশঙ্কা থাকে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ওই সুপারিশের বিষয়টি আমরা মাথায় রাখছি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরীক্ষা ব্যবস্থাটা আর মুখস্থ নির্ভর নেই যে, শিক্ষার্থীদের গোটা বই পরীক্ষার আগের রাতে রিভিশন দিতে হবে। তাই পরীক্ষার সময় কমানো হলে সে ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ার কথা নয়।

ষাটের দশকে সকাল-বিকাল দু’বেলা পরীক্ষা নেয়া হতো। আর নব্বইর দশকে দৈনিক এক বিষয় করে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। অধ্যাপক হক এ প্রসঙ্গে বলেন, আজকে দুটি বিষয়ের মধ্যে বিরতি দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে নিশ্চয়ই তখনকার চাহিদা অনুসারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, উল্লিখিত প্রস্তাব অনুযায়ী জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার রুটিন তৈরি করা হয়েছে। ১২ জুন উভয় পরীক্ষার রুটিন অনুমোদনের জন্য দাখিল করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি অনুমোদন করলে কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। অপরদিকে এইচএসসি পরীক্ষার রুটিনও তৈরি করা হয়েছে। আগামী মাসের শেষ নাগাদ এটি প্রকাশের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।

নতুন ব্যান্ড প্রস্তাব : বর্তমানে ৭টি ধাপে তৈরি করা হয়ে থাকে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল। এগুলো হচ্ছে- জিপিএ-৫, জিপিএ-৫>৪, জিপিএ-৪>৩.৫, জিপিএ-৩.৫>৩, জিপিএ-৩>২, জিপিএ-২>১ এবং জিপিএ-১। যারা সর্বনিু ১ গ্রেড বা পাস নম্বর ৩৩ পায়নি তারা ফেল। ৩৩ থেকে ৪০ নম্বর প্রাপ্তরা জিপিএ-১ বা ডি গ্রেড পেয়েছে বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। এছাড়া জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা লেটার গ্রেডে ‘এ প্লাস’ প্রাপ্ত হিসেবে বিবেচিত। এভাবে জিপিএ-৫>৪ প্রাপ্তরা ‘এ’, জিপিএ-৪>৩.৫ প্রাপ্তরা ‘এ মাইনাস’, জিপিএ-৩.৫>৩ প্রাপ্তরা ‘বি প্লাস’, জিপিএ-৩>২ প্রাপ্তরা ‘বি’ এবং জিপিএ-২>১ প্রাপ্তরা ‘সি’ গ্রেড পেয়েছে বলে ধরা হয়।

কিন্তু নতুন গ্রেডিং সিস্টেম ৮টি ধাপের পরিবর্তে ১১টি করার পরিকল্পনার কথা জানান অধ্যাপক জিয়াউল হক। সেটা অনুসারে বর্তমানের জিপিএ-৫ বা ‘এ প্লাস’ ভেঙে দুটি করা হবে। এর মধ্যে ৯০ থেকে ১০০ হবে একটি। এ স্তরটিই হবে সর্বোচ্চ ব্যান্ড জিপিএ-৪। এর নামকরণ বা লেটার গ্রেড কি প্লাস হবে না এক্সিলেন্স সেটা এখনও নির্ধারিত হয়নি। এর পরের স্তর হবে জিপিএ-৩.৭৫। ৮০ থেকে ৮৯ প্রাপ্তরা এ গ্রেডভুক্ত হবে। এভাবে জিপিএ-৩.৫০ (প্রাপ্ত নম্বর ৭৫-৭৯), জিপিএ-৩.২৫ (প্রাপ্ত নম্বর ৭০-৭৪), জিপিএ-৩.২৫ (প্রাপ্ত নম্বর ৭০-৭৪), জিপিএ-৩.০০ (প্রাপ্ত নম্বর ৬৫-৬৯), জিপিএ-২.৭৫ (প্রাপ্ত নম্বর ৬০-৬৪), জিপিএ-২.৫০ (প্রাপ্ত নম্বর ৫৫-৫৯), জিপিএ-২.২৫ (প্রাপ্ত নম্বর ৫০-৫৪), জিপিএ-২.০০ (প্রাপ্ত নম্বর ৪৫-৪৯), জিপিএ-১.৫০ (প্রাপ্ত নম্বর ৪০-৪৪), জিপিএ-১ (প্রাপ্ত নম্বর ৩৩-৩৯)। পাস নম্বর আগের মতোই ৩৩ থাকছে।

জিয়াউল হক বলেন, গ্রেডিং পদ্ধতি পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটকে আমরা সামনে রাখছি। চূড়ান্ত করার আগে আমরা এ নিয়ে এক্সারসাইজ (চর্চা) এবং ট্রাইআউট (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) করছি। বিশেষ করে সর্র্বোচ্চ ব্যান্ড পুনর্বিন্যাসে সার্বিক ফলাফলে কী প্রভাব পড়ে সেটা আগে দেখা প্রয়োজন। সেই কাজই এখন চলছে।

জানা গেছে, এ পরিবর্তনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অংশীজন হিসেবে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটের (বেডু) পরিচালক অধ্যাপক অধ্যাপক রবীউল কবির চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে ৮০ থেকে ১০০ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ধাপ নির্ধারিত আছে। এতে সর্বোচ্চ মেধাবীদের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় না। এজন্য নতুন পদ্ধতির প্রবর্তন সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×