ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খেলোয়াড়দের জন্য দুটি বিশেষ তহবিল হবে * ক্রিকেটারদের অভিনন্দন

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সারা দেশে রেল ও সড়ক সেতুগুলোর অবকাঠামো দ্রুত জরিপ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো বর্ষা শুরুর আগেই সংস্কারের নির্দেশ দেন।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে এ নির্দেশ দেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা বৃদ্ধ বয়সে যাতে অর্থকষ্টে না ভোগে সেজন্য একটি সহায়তা তহবিল এবং সারা বছর ধরেই যেন অনুশীলনের মধ্যে থাকতে পারেন সেজন্য আরেকটি তহবিল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মৌলভীবাজারে রোববার রাতে রেল সেতু ভেঙে ট্রেন দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হন, আহত হন শতাধিক। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছিল। তাছাড়া দ্রুত যোগাযোগও স্থাপিত হয়। এজন্য প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন জানিয়েছেন রেলমন্ত্রীকে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরকে সেতু সার্ভে করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইমিডিয়েটলি (খুব দ্রুত) নেমে পড়েন। যেগুলো নড়বড়ে, পুরনো এগুলো তাড়াতাড়ি রিপেয়ারের (মেরামতের) ব্যবস্থা করেন। আসন্ন বর্ষার আগেই যেগুলো মেরামত করার, করেন। কারণ বর্ষা আরম্ভ হলে বৃষ্টি পড়বে এবং ভেঙে পড়ার প্রবণতা বাড়বে।’ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে হারানোয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক খেলোয়াড় তরুণ বয়সে ভালো অবস্থায় থাকলেও বৃদ্ধ বয়সে অর্থকষ্টে ভোগেন। এই রকম খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে। যাতে মুক্তিযোদ্ধাদের মতো তারা সম্মানী পান।

মন্ত্রী বলেন, খেলা নিয়ে সবার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সাকিব, মুশফিক সম্পর্কে খুব ভালো মন্তব্য করেছেন। খেলোয়াড়দের তিনি সন্তানের মতো মনে করেন। এদের জন্য আরও কিছু করতে চান। তিনি বলেছেন, এদেরকে আরও সুযোগ-সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। কলসিন্দুরের ফুটবল খেলা মেয়েদেরও সুবিধা দেয়া হবে।

এমএ মান্নান বলেন, উনার (প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশনাটা হল- খেলোয়াড়রা এখন তরুণ। কিন্তু যখন আমাদের মতো বার্ধক্যে যাবে, তখন খুব কষ্ট হয়। কম বয়সে খরচ করে ফেলে, টাকা জমায় না। ঠকা খায়। নানা ধরনের সমস্যায় পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমরা এটা হতে দেব না। এখন যেমন তাদেরকে সাহায্য দেব, তাদের মাথায় হাত রাখব, পরবর্তী পর্যায়েও তারা যেন নিচে না পড়ে যায়, এজন্য ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, তাদের জন্য প্রকল্প নিয়ে আসো। তিনি আশা করেন, আমাদের বিভিন্ন সেক্টর, কর্পোরেশন বা প্রাইভেট সেক্টর বা সরকার- বিভিন্ন জায়গায় তাদেরকে চাকরি-বাকরি দিয়ে রিহেবিলিটেশনের একটা ব্যবস্থা করার জন্য। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য হচ্ছে- খেলা আসলেই প্র্যাকটিস শুরু হয়। তারপর আর খবর নাই।

তার কথা হল, যে খেলোয়াড়, পেশাজীবী-সে সারা বছরই প্র্যাকটিস করবে। খেলোয়াড় তো নিজের পয়সায় করবে না, কেন করবে? তিনি চান, একটা ভালো তহবিল থাকবে। এই তহবিলের আওতায় তারা সারা বছর প্র্যাকটিস করতে পারে। তাদের কর্তৃপক্ষ আছে, তারাই এটা করবে। সরকার শুধু টাকা দেবে। তিনি সরাসরি অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন, এর জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে।

খেলা বলতে শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবল, হকি, ভলিবল, বাস্কেটবল- সব খেলাকেই সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শুটিং ও আর্চারিতেও আমাদের সম্ভাবনা আছে। সেখানে ইনটেনসিভ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে বলেছেন তিনি।

তিনি এটাও বলেছেন, শুধু পশ্চিমা আর্চারি নয়। আমাদের এখানে তীর-ধনুক-বল্লম রয়েছে। আমাদের সাঁওতালরা ব্রিটিশদেরকে তীর, ধনুক দিয়ে তাড়াতে চেয়েছিল। সেই তীর, ধনুকও যাতে মরে না যায় এবং বিকশিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া দেশের কোন কোন সড়ক এলজিইডি দেখবে আর কোন কোন সড়ক সড়ক ও জনপথ অধিদফতর দেখাশোনা করবে সে বিষয়ে একটি সার্ভে করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতে হবে।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বেইজিং ভূমিকা রাখবে -প্রধানমন্ত্রীকে চীনের রাষ্ট্রদূত : চীনের রাষ্ট্রদূত জ্যাং জুও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার জাতীয় সংসদ ভবন কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আমরা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করব।’ বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অবশ্যই তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত যেতে হবে। এ বিষয়ে মিয়ানমারকে বোঝানোর জন্য তিনি চীনের প্রতি আহ্বান জানান। প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফর বিষয়েও আলোচনা করেন। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে তার চীন সফরের সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিকশিত করার অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে চারটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চীন সফরের ওপর একটি বই প্রকাশনার বিষয়ে জানতে পেরে চীনা রাষ্ট্রদূত বইটি চীনা ভাষায় অনুবাদের বিষয়ে তার দেশের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাদের কাছে সংরক্ষিত থেকে থাকলে বঙ্গবন্ধুর চীন সফরের সময়কালীন আলোকচিত্র দেয়ার জন্যও চীনের রাষ্ট্রদূতের প্রতি অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×