বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন

৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত ভোট কমেছে আ’লীগের

১৯৭৯ সাল থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া

  বগুড়া ব্যুরো ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী ড. মনসুর রহমান (ডাব), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মুফতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম (হারিকেন), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মালয়েশিয়া যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ মণ্ডল (আপেল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু (ট্রাক) জামানত হারিয়েছেন।

এদিকে আসনটিতে ১১ বছরে আওয়ামী লীগের ভোট কমেছে অর্ধেকের বেশি। আর আসনটি ১৯৭৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে আছে।

সূত্র জানায়, সোমবার উপনির্বাচনে ৮৯ হাজার ৭৪২ ভোট পেয়ে বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএমটি জামান নিকেতা পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৯৭ ভোট।

এছাড়া সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর সাত হাজার ২৭১ ভোট, মিনহাজ মণ্ডল দুই হাজার ৯২০ ভোট, সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু ৬৩০ ভোট, মুফতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম ৫৫৪ ভোট এবং ড. মনসুর রহমান ৪৫৬ ভোট পেয়েছেন।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার এসএম জাকির হোসেন জানান, তিন লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮ ভোটারের মধ্যে এক লাখ ৩৩ হাজার ৮৭০টি ভোট পড়েছে। ভোট গ্রহণের হার ৩৪.৫৫ শতাংশ। তিনি আরও জানান, কোনো প্রার্থী মোট প্রাপ্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ ভোট না পেলে তার জামানত ২০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। এবার সদর আসনের উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সাত প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন ১৬ হাজার ৭৩৪ ভোটের কম পেয়েছেন। তাই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বগুড়া সদর আসন ১৯৭৯ সাল থেকে আ’লীগের হাতছাড়া : প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল, নেতাকর্মীদের বিরোধ, অনীহা, হাইকমান্ডের নির্দেশ অমান্যসহ নানা কারণে বগুড়া-৬ (সদর) আসন ১৯৭৯ সাল থেকে অর্থাৎ ৪০ বছর আওয়ামী লীগের হাতছাড়া রয়েছে। মাঝে পাঁচ বছর বিনা নির্বাচনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। এছাড়া ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাড়ে ৭৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেও ১১ বছরের ব্যবধানে অর্ধেকের বেশিতে নেমে এসেছে।

সূত্র জানায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা ডক্টরস্ কেমিক্যালের মালিক বিশিষ্ট চিকিৎসক জাহিদুর রহমান, ১৯৭৩ সালে বিশিষ্ট আইনজীবী আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট হাশেম আলী খান জাহেদী, ১৯৭৯ সালে বিএনপির এসএম ফারুক, ১৯৮৬ সালে জামায়াতের মাওলানা আবদুর রহমান ফকির, ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুর রহমান ভাণ্ডারী, ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচিত হন।

পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে বিএনপির অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ৮ম সংসদ ও ২০০৮ সালে ৯ম সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালে খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচন বর্জন করায় জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিপুল ভোটে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমরকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। মির্জা ফখরুল পেয়েছিলেন দুই লাখ সাত হাজার ২৫ ভোট এবং মহাজোট প্রার্থী ওমর পেয়েছিলেন ৪০ হাজার ৩৬২ ভোট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় প্রবীণ কয়েকজন জানান, স্বাধীনতার পর রক্ষী বাহিনীর নির্যাতন বগুড়াবাসী ভুলতে পারেনি। এ কারণে দিন দিন এ আসনে আওয়ামী লীগের ভোট কমছে।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহবুবুল আলম ৫৪ হাজার ভোট পান। এছাড়া ২০০৮ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন ৭৪ হাজার ৬৩৪ ভোট এবং সোমবারের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এসএমটি জামান নিকেতা ৩২ হাজার ২৯৭ ভোট পান।

সদর আসনে আওয়ামী লীগের ভোট কমে যাওয়া প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিক ডা. মকবুল হোসেন জানান, নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ভুল পদ্ধতি অনুসরণ, ভোটারদের কাছে না গিয়ে শহরে এসি রুমে বসে মিটিং, দায়িত্বশীল নেতাদের অনীহা ও অসহযোগিতাসহ নানা কারণে দিন দিন আওয়ামী লীগের ভোট কমছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×