রূপগঞ্জে মহিলা ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

বস্ত্রমন্ত্রীর প্রশ্ন- মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের সোর্স হয় কী করে

  নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জ প্রতিনিধি ২৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিউটি আক্তার কুট্টি (৫০) নামে এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের দাবি, স্বামী হত্যা মামলার আসামি তথা প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বিউটি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য ছিলেন। এছাড়া কায়েতপাড়া যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী ছিলেন তিনি।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, বিউটি আক্তার একজন ডায়াবেটিক রোগী। প্রতিদিনের মতো বুধবার ফজরের নামাজ শেষে তিনি চনপাড়া থেকে পশ্চিমগাঁও এলাকার দিকে হাঁটতে থাকেন। ৭টার দিকে পশ্চিমগাঁও এলাকায় পৌঁছলে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। চাপাতি দিয়ে মাথায় ও বাম হাতে কোপ দেয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এরপর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী খালেদা বেগম জানান, প্রতিদিন সকালে তিনি (খালেদা বেগম) চনপাড়া-ইছাখালী গাজী বাইপাস সড়কে হাঁটতে বের হন। পশ্চিমগাঁও এলাকার ইউসুফ মিয়ার বাড়ী পৌঁছতেই দেখেন ৩ যুবক চাপাতি নিয়ে বিউটি আক্তারকে ধাওয়া করে কোপাচ্ছে। তিনি (খালেদা বেগম) বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও ধাওয়া করে দুর্বৃত্তরা। ধাওয়া খেয়ে প্রায় ৩০০ গজ দূরে চনপাড়া ফাঁড়িতে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন তিনি।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, বিউটি মাদকের বিরুদ্ধে সেচ্চার ছিলেন। স্বামীকে দিয়ে তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করাতেন। এ কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর রাতে স্বামী এমএ হাসান মুহুরিকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ওই ঘটনায় বিউটি ২১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে বিউটিকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। না হলে স্বামীর পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুমকি দেয়। এই হুমকির মুখে বিউটি আক্তার মামলা চালিয়ে আসছিলেন। এ কারণে তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল আসামিরা।

ঘটনার পরই পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক), নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল আল মামুন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসার উদ্দিন খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, প্রশাসন যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করত, এই খুন হতো না। আমার প্রশ্ন, মাদক ব্যবসায়ী কী করে প্রশাসনের সোর্স হয়? প্রশাসনের সোর্স হওয়ায় তারা মাথায় ওঠে আসে। প্রশাসনের প্রশ্রয় না পেলে হত্যাকাণ্ড ঘটত না।

তিনি বলেন, চনপাড়া এলাকা মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্য। বিউটি মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চারকণ্ঠ ছিলেন। তার স্বামী ছিলেন জজ কোর্টের মুহুরি। মাদকের বিরুদ্ধে স্বামীকে দিয়ে মামলা করাতেন। তাই মাদক ব্যবসায়ীরা তার স্বামীকে হত্যা করে। ওই হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে বিউটিকে হত্যার চক্রান্ত করে। থানা পুলিশ সবাই জানে কারা মাদক ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসায়ীরা একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে; তাহলে পুলিশ-প্রশাসন আছে কেন?

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×