সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মাইক্রোবাসে আগুন দগ্ধ ১৬

প্রায় সবার শ্বাসনালি পুড়ে গেছে * বিপদ বুঝতে পেরে পথে নামতে চাইলেও বাধা দেন চালক

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো ২৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মাইক্রোবাসে আগুন দগ্ধ ১৬
সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মাইক্রোবাসে আগুন দগ্ধ ১৬। ছবি-সংগৃহীত

চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লেগে এর ১৬ যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে পটিয়ার ডাকবাংলো মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। সৌদি প্রবাসী আক্তার হোসেনকে বিমানে তুলে দিতে একটি হায়েস মাইক্রোবাসে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান তার স্বজনরা। সেখান থেকে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আকতার হোসেনের ৩ বছর বয়সী শিশু সন্তান, বৃদ্ধ বাবা, দুই ভাইসহ ১৬ আত্মীয়স্বজন সিলিন্ডারের আগুনে কমবেশি দগ্ধ হয়েছেন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

চমেক বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এসএম নওশাদ যুগান্তরকে জানান, আহত প্রায় সবার শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে ঢাকায় পাঠানো হলেও বাকিদের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। তবে কোন রোগীর শরীরের কত শতাংশ পুড়েছে তা জানাতে পারেননি এই চিকিৎসক।

অভিযোগ উঠেছে, গাড়িতে যাত্রী রেখেই গ্যাস নেন মাইক্রোবাস চালক। এই সময় গাড়ি গরম হয়ে যায়। পথে সবাই নেমে যেতে চাইলেও দেরি হয়ে যাবে- এই অজুহাতে নামতে দেননি চালক। এসি ছেড়ে দিলে গাড়ি ঠাণ্ডা হয়ে যাবে- এমন অভয় দিয়ে চালক গাড়ি চালাতে থাকেন। দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাস চালক পালিয়ে যায়। আকতার হোসেনের চাচা মো. আলম এমন অভিযোগ করেন।

দুর্ঘটনার পর পটিয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে প্রবাসী আকতার হোসেনের ছেলে মো. আবির হোসেন (৩), বাবা মোহাম্মদ ইদ্রিস, মামা মো. আবুল কালাম ও চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বুধবার সকালে চমেক হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যরা চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

এরা হলেন- আকতার হোসেনের আপন দুই ভাই মো. বেলাল হোসেন ও মো. হেলাল হোসেন, চাচাতো ভাই মো. সাদেক, মো. মামুন, তৌহিদুল ইসলাম ও মো. রুবেল, ভাগিনা মো. সোহান ও দেলোয়ার হোসেন, খালাতো ভাই সাইদুর রহমান, মামাতো ভাই আরিফ হোসেন, বন্ধু মোহাম্মদ জহির ও আবদুল আলম।

দগ্ধদের সবার বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে। বুধবার চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, আকতারের দগ্ধ স্বজনেরা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। আহত প্রত্যেকের মুখমণ্ডল কমবেশি পুড়ে গেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×