আইএমএফের সংবাদ সম্মেলন

উচ্চ খেলাপির কারণে তারল্য সংকট

ব্যাংকিং খাত সংস্কারে গুরুত্বারোপ

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মিশন প্রধান ডাইসাকু কিহারা বলেছেন, উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ খাত ঠিক করতে বিভিন্ন সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশে ১২ দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এশিয়া এবং প্যাসিফিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাইসাকু কিহারার নেতৃত্বে আইএমএফের আর্টিকেল-৪ এর ছয় সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল ১৬-২৭ জুন পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংস্থাটির বাংলাদেশ সদস্য মুহাম্মদ ইমাম হোসেন এবং প্রতিনিধি দলের দুই সদস্য। সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফ মিশন প্রধান বলেন, উচ্চ মধ্যম আয়ের অবস্থানে পৌঁছাতে বাংলাদেশের উচ্চাকাক্সক্ষা আছে।

এ ক্ষেত্রে টেকসই এবং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা প্রধান চ্যালেঞ্জ। দেশের ব্যাংকিং খাতে ধস অব্যাহত রয়েছে। ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা দেশের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। ব্যাংকের নাজুক অবস্থায় কাক্সিক্ষত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এটি কমিয়ে আনতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে ডাইসাকু কিহারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত এগোচ্ছে। দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু ব্যাংকিং খাতে ধস নামছে। খাতটির দুর্বলতা দূর করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। খেলাপি ঋণ কমাতে ‘টাইম-বাউন্ড’ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। ব্যাংকিং সুপারভিশন বাড়াতে হবে, খেলাপিদের আইনি সহায়তা বন্ধ করতে হবে। খেলাপিদের পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন নীতিমালা আরও কঠোর করা দরকার। সর্বক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ব্যাংকসহ সব ব্যাংকগুলোতে সংস্কারের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

ডাইসাকু কিহারা আরও বলেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। কিন্তু ‘মাল্টিপল রেট’ কার্যকর করা অনেক চ্যালেঞ্জের। এতে রাজস্ব আহরণে প্রভাব ফেলবে।

রাজস্ব নীতিতে সংস্কার করতে হবে। এনবিআরের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আধুনিকায়ন করতে হবে। অন্যদিকে ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি বিনিয়োগে অপচয় রোধ করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় পরিকল্পনার আলোকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বর্ধনশীল এতে সন্দেহ নেই। তবে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে, দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে বাজেট নীতি ও মুদ্রানীতিতে যে কোন ধরনের সংস্কারে নীতিগত ও কৌশলগতভাবে সহায়তা করবে আইএমএফ।