প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে প্রাধান্য পাবে রোহিঙ্গা সংকট

হতে পারে আট চুক্তি-সমঝোতা স্মারক

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। ছবি: স্টার মেইল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার চীন যাচ্ছেন। দেশটির দালিয়ান শহরে ১-৩ জুলাই বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি যোগ দেবেন।

এ সফরে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। এ সংকট নিরসনে প্রাধান্য দেয়া হবে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে আটটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিষয়টি অবহিত করতে শুক্রবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এবারের সফরে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যু গুরুত্ব পাবে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা থাকবেন। এছাড়া দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১ জুলাই বিমান বাংলাদেশের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানে পৌঁছবেন। ২ জুলাই সকালে দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠেয় ডব্লিউইএফ সামার দাভোস সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন। ৩ জুলাই চীনের বিশেষ বিমানযোগে দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী রওনা দেবেন।

একই দিনে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন। ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীকে চীনের গ্রেট হলে অভ্যর্থনা জানানো হবে। অভ্যর্থনা শেষে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্কের আলোকে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আটটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

এগুলো হল- ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) আওতাধীন এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা শক্তিশালী ও বৃদ্ধিকরণ চুক্তি, ডিপিডিসি এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার শক্তিশালী ও বৃদ্ধিকরণে ঋণ চুক্তি, ডিপিডিসি এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার শক্তিশালী ও বৃদ্ধিকরণে ক্রেতা অগ্রাধিকার ঋণ চুক্তি, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) আওতায় পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ চুক্তি, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি, বিনিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই, ইয়ালুজংবো ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য বিনিময় সমঝোতা স্মারক এবং সাংস্কৃতিক ও পর্যটন বিনিময় সমঝোতা স্মারক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, চীন সফরকালে ৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান লি ঝংসুর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারকে মদদ দিচ্ছে চীন- এমন অভিযোগ আমরা বিশ্বাস করি না। চীনের একটি অবস্থান আছে। তারা আমাদের সাহায্য করছে এবং আমাদের সমর্থন দিচ্ছে। চীন বারবারই বলছে, রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে যাক। চীন আরও বলেছে, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করুন। আমরা সেই পথেই আছি। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো ঝগড়া নেই। নিরাপত্তা পরিষদে চীনের ভেটোর বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

চীনকে বাংলাদেশ কী বার্তা দেবে- জানতে চাইলে আবদুল মোমেন বলেন, আমরা বলব তারা (রোহিঙ্গারা) মিয়ানমারের লোক এবং এ বিশাল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে অনেক দিন থাকলে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এবং গোটা অঞ্চলের উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে।

বিগত দিনগুলোতে যারা আমাদের বিরোধিতা করেছিলেন তারা অনেকে আমাদের পক্ষে চলে এসেছেন জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন বা রাশিয়া এখন আমাদের পক্ষে জোরালো কথা বলছে। এমনকি ভারতও। আমরা মনে করছি, এ বিষয়ে মনোভাবের পরিবর্তন হয়েছে। এক সময় যারা এটার বিরোধিতা করেছেন তারা আবার আমাদের বক্তব্যের কাছাকাছি এসেছেন। তারা এখন আমাদের পক্ষে কথা বলছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন বড়মাপের কূটনীতিক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার একটি বিশেষ জায়গা রয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

চীন থেকে বেশি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশ ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করে আমরা কাজ করি। আমরা ঋণের ফাঁদের বিষয়ে অবগত আছি এবং ওই ফাঁদে যাতে আমাদের না পড়তে হয়, সে বিষয়ে আমরা অত্যন্ত সজাগ। সেই বিবেচনায় আমরা চীনের ঋণ নিচ্ছি। উপকার হবে না এমন কোনো ঋণ কেউ আমাদের জোর করে দিতে পারে না।

বিআরআইর বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা দেশের স্বার্থে কাজ করি এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করি। সবার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো, কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই। আমরা বেল্ট অ্যান্ড রোডে প্রথমেই যোগদান করেছি। এটাতে আমাদের কোনো অসুবিধা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫৬ ২৬
বিশ্ব ৯,৩৬,২০৪ ১,৯৪,৫৭৮ ৪৭,২৪৯
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×