টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, স্রোতে ভেসে নিখোঁজ ২

  যুগান্তর ডেস্ক ২৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ শহরের আরপিন নগর এলাকা। বাসাবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। শুক্রবারের ছবি  যুগান্তর
ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ শহরের আরপিন নগর এলাকা। বাসাবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। শুক্রবারের ছবি যুগান্তর

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারে পানি উঠেছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সুরমার পানি।

আউশ-ইরি, সদ্য বপন করা আমনের বীজতলাসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে মাছ চাষের পুকুর ও খামার। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। ঢলের পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে এবং

ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে ভেসে গেছেন এক নারীসহ দু’জন। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত

তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) : উপজেলা সদরে সুরমার পানি বিপদসীমার ৫৫ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে অফিসপাড়াসহ বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করছে। খোদ উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনের পাকা সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে।

এছাড়া চেলা, মরা চেলা, চিলাই, চলতি, কালিউরি, খাসিয়ামারা, ধূমখালী ও ছাগলচোরাসহ উপজেলার সব নদী-নালার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চিলাই নদীর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আকন্দ (সাব্বির) বলেন, সুষ্ঠু তদারকি ও ব্যবস্থাপনার অভাবে চিলাই নদীর বিধস্ত বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে হু হু করে পানি ঢুকায় বিভিন্ন হাওরের শতাধিক একর আউশ-ইরি ফসল তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বগুলাবাজার, ক্যাম্পেরঘাট-ইদুকোনা রাস্তা ও অধিকাংশ গ্রামের বাড়িঘরে হাঁটু সমান পানি।

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) : পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে গিয়ে তাহিরপুরের বৌলাই নদীর স্রোতের তোড়ে ভেসে গেছেন রোজিনা বেগম (৩০) নামে এক নারী। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ রোজিনা উপজেলার বালিজুড়ি মডেল ইউনিয়নের দক্ষিণকুল গ্রামের শ্রমজীবী জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী ও চার সন্তানের মা।

রোজিনার স্বামী জয়নাল আবেদীন জানান, স্থানীয় লোকজনসহ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ছোট ছোট ট্রলার নিয়ে বৌলাই নদীতে রোজিনার সন্ধান চালানো হয়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান যুগান্তরকে জানান, শুক্রবার সকাল থেকে পুলিশ গ্রামবাসীকে নিয়ে নদীতে পুনরায় নিখোঁজের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) : কলমাকান্দায় ১৫টি গ্রামের অন্তত তিন হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশে গণেশ্বরী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যান হান্নান মিয়া (২৩) নামের এক যুবক। শুক্রবার বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ হান্নান উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের চৈতা গ্রামের আহমেদ মিয়ার ছেলে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার পাঁচগাঁও নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার সীমান্তবর্তী রংছাতি, খারনৈ, লেংগুরা ও নাজিরপুর ইউনিয়নে ২০টি গ্রামের অন্তত তিন হাজার পরিবার বন্যার পানির কবলে পড়েন। এ বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ১৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। ভেসে গেছে অর্ধশত পুকুরের চাষ করা মাছ।

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) : টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বুধবারীবাজার এলাকার নদীপাড়ের রাস্তা ভেঙে গেছে। এতে লোকজন চলাচল করছেন ঝুঁকি নিয়ে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ বাজারের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বেকায়দায়।

এছাড়া উপজেলার পৌর এলাকার দাড়িপাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অধিকাংশ স্কুলে পানি ঢুকে পড়ায় ছাত্রছাত্রীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না।

অবিরাম বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন উপজেলার খেটে খাওয়া লোকজন। বৃষ্টি থাকার কারণে তারা কাজে যেতে পারছেন না। ফলে অলস সময় পার করছেন এসব কর্মহীন লোকজন।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ পৌর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের দারারগাঁও, হালুয়ারঘাট, সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব স্থানের বিভিন্ন কাঁচা-পাকা রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে।

পৌর শহরের নবীনগর, বড়পাড়া, উকিলপাড়া, সাববাড়ীঘাট জেল রোড এলাকার বিভিন্ন ঘরবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে কমলগঞ্জের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। মানুষজন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারেননি।

ধলাই নদীসহ সব ছড়ার পানি বাড়তে শুরু করেছে। বৃষ্টির পানিতে কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×