ছাত্রদলে সংকটের জেরে শঙ্কায় কাউন্সিল

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আজকের বৈঠকে প্রধান এজেন্ডা ছাত্রদল

  তারিকুল ইসলাম ২৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

বয়সসীমা বাতিল করে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে অনড় অবস্থানে আন্দোলনরত ছাত্রদলের সাবেক নেতারা। এর মধ্যে ১২ নেতাকে বহিষ্কারের ঘটনায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

আন্দোলনের মুখে প্রার্থীদের জন্য মনোনয়ন বিতরণও বন্ধ রেখেছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। সংকট সমাধান না হলে কাউন্সিল হবে কি না তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আজ বিকালে ডাকা দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ছাত্রদল ইস্যুকে প্রধান এজেন্ডায় রাখা হয়েছে। বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপিতে যুক্ত থাকবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠক থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী যুগান্তরকে বলেছেন, স্থায়ী কমিটির পরামর্শে আমরা মনোনয়নপত্র বিতরণ বন্ধ রেখেছি। হয়তো সময় বাড়াব। যেহেতু স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উঠছে, তাই বৈঠককে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। তারা পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের সংঘর্ষ যাতে না হয় তা কৌশলে এড়িয়ে চলছি। তবে দলের বৃহত্তর স্বার্থে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা বিবেচনা করবেন বলে প্রত্যাশা করছি।

ছাত্রদলের সাবেক নেতারা জানান, দলের দুর্দিনে ‘ চেইন অব কমান্ড’ ঠিক রাখতে চাই। নেতৃত্বকে কলুষিত করার কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইছি না। তবে দলকে সঠিক পথে নিয়ে আসার জন্য সিন্ডিকেট আর দালাল প্রথা ভাঙাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তা না হলে দলের রাজনীতি থাকবে না। ফলে ছাত্রদলের কমিটি গঠনে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এজন্যই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতাদেরকে সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলা দরকার। এর মাধ্যমে আন্দোলনরত ছাত্রনেতারা তাদের সমস্যা আর ক্ষোভের কারণ ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযোগ জানাতে চাইছেন।

টানা ১৬ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির নেতারা। বিভিন্ন সময়ে দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে নিজেদের দাবিও উপস্থাপন করেছেন।

সূত্র জানায়, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে বিএনপিতে দুটি গ্রুপ সক্রিয় থাকায় এখনও কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। বৃহস্পতিবারও লাঠিসোটাসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে ক্ষুব্ধ নেতারা নয়াপল্টনে অবস্থান নেয়।

পরিস্থিতি নাগালের বাইরে যেতে পারে- এমন আশঙ্কায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের শান্ত করার দায়িত্ব দেন তারেক রহমান। দু’নেতার হস্তক্ষেপে শান্ত হন তারা।

পরে সাবেক নেতাদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা গুলশান কার্যালয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠকের পর শনিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত এবং কাউন্সিলের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, আগামীকাল (শনিবার) দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর সমাধানের পথ তৈরি হবে বলে আশা করছি। বৃহস্পতিবার রাতে আমরা ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য শুনেছি। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নিজেরা আলোচনা করে এবং মূল সমস্যা চিহ্নিত করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে উপস্থাপন করা হবে। এরপর তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্যে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। কোনো কোনো নেতা বলছেন, আমরা আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী করতে চাই না। দলের হাইকমান্ড এখন যে সিদ্ধান্ত দেবে আমরা তা মেনে নেব।

আবার কেউ কেউ বলছেন, আমাদের সব দাবি মানতে হবে। না হলে আন্দোলন থেকে সরব না। ছাত্রদলের সাবেক এক সহসভাপতি যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজনীতি করার কারণে সহকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনে আছি। এটা মানবিক বিষয়। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারব না।

আরেকজন সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বলেন, দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠকে চিহ্নিত সিন্ডিকেটের নামের তালিকা পর্যন্ত দিয়েছি। সিনিয়র নেতারাও তাদের বিষয়ে জানেন। এর বাইরেও হাওয়া ভবনের কয়েকজনের নাম বলার পর সিনিয়র নেতারা বলেছেন, কমিটি গঠনে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে তারাই এখন ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বেশি তৎপর।

ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা সংগঠনের সিন্ডিকেট প্রথাকে ভাঙতে চাই। তাদের জন্য দলের ত্যাগী ও যোগ্যরা মূল্যায়িত হন না। সাবেক সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির বলেন, আমরাও আন্দোলন করতে চাই না। তবে আমাদের দাবি বিবেচনায় নেয়া না হলে ফের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৩৩০ ৩৩ ২১
বিশ্ব ১৬,০৪,৫৩৫ ৩,৫৬,৬৬০ ৯৫,৭৩৪
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত