এইচডিএম প্রতিবেদন

সিলেট বিভাগের ৬শ’ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরা

  সিলেট ব্যুরো ০১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট বিভাগের ৬শ’ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরা
ফাইল ছবি

সিলেট বিভাগের ৬শ’ কিমি. সড়ক ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ৫৮৫ কিমি. সড়ক খানাখন্দে ভরা। সড়কের এমন বেহাল চিত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ (সওজ)। এ সড়ক মেরামতে ৯০৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। মহাসড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (এইচডিএম) বিভাগের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে এ প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন সওজের সিলেট বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি শাহ। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এ প্রতিবেদনের সঙ্গে আমি একমত নই। হয়তো আগের কোনো জরিপ দিয়ে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। বর্তমানে সিলেটের রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই ভালো।

জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা সড়কে জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে এইচডিএম। এতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে কী পরিমাণ ভাঙাচোরা সড়ক আছে, সেটি নিরূপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব সড়ক মেরামত ও পুনর্র্নিমাণে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সড়কগুলোর খারাপ অংশের কোথাও পুনর্র্নিমাণ, কোথাও সংস্কার, কোথাও পিচ ঠিক করা আবার কোথাও ‘ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট’ (ডিবিএইচ) করা জরুরি বলে উঠে এসেছে।

হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগে ৯৪ দশমিক ৭ কিমি.। এর মধ্যে পৌর শহরের রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল, খানাখন্দে ভরা। এ রাস্তা যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। এছাড়া ছোট-বড় খানাখন্দ বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়ায় ঘটছে দুর্ঘটনা। যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এসব সড়ক দ্রুত মেরামতের দাবি এলাকাবাসীর।

মৌলভীবাজার সড়ক বিভাগে ১২৮ দশমিক ৮৬ কিলোমিটারের বেশিরভাগ রাস্তার বেহাল দশা দীর্ঘদিন ধরে। মৌলভীবাজার সদর, শমশেরনগর, চাতলাপুর রাস্তা খানাখন্দে ভরা। এ কারণে চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া নেন। গাড়ি চালকদের অভিযোগ, ভাঙা রাস্তার কারণে গাড়ি বিকল হয়ে যায়। কুলাউড়ার চাতলাপুর চেকপোস্ট থেকে জেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিমি. সড়কটি যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা সদরের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী অন্যতম এ সড়কটির এ করুণ দশায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। রাস্তা খারাপ থাকায় পর্যটকের সংখ্যা কমছে। এ কারণে চাতলা শুল্ক স্থলবন্দরের পণ্য আমদানি-রফতানি ব্যাহত হচ্ছে।

সড়ক পথে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর থেকে মৌলভীবাজার জেলা সদরের ২০ কিমি. সড়কের যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শমশেরনগর মোকামবাজার, মরাজানেরপার, রাধানগর, রামপুর, মুন্সীবাজার, বাবুরবাজার, চৈত্রঘাট, জয়কালী মন্দির, শ্যামেরকোনা বাজার, লঙ্গরপার, শিমুলতলাসহ সড়কের অধিকাংশ স্থানেই গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না করায় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি বন্যায় সড়কের শরীফপুর ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙা রাস্তা মেরামতের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগে ১৩৬ দশমিক ৫৮ কিমি.র মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক। মদনপুর-জামালগঞ্জ সড়ক, মদনপুর-দিরাই সড়ক, সুরমাসেতু (মল্লিকপুর)-সাচনা বাজার সড়ক, গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়ক ও ডাবর-জগন্নাথপুর সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এসব রাস্তা মেরামতের দাবিতে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। সিলেট সড়ক বিভাগে ২২৫ দশমিক ৩৯ কিমি. সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এরমধ্যে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক, সিলেট-তামাবিল সড়ক, সিলেট-বালাগঞ্জ সুলতানপুর সড়ক, সিলেট-জাফলং সড়ক, ফেঞ্চুগঞ্জ-মাইজগাঁও বরমচাল সড়ক, জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সড়ক, গোয়াইনঘাট-বিছনাকান্দি, সারি-গোয়াইনঘাট সড়ক, ধোপাগোল-ফতেহপুর সড়কের বেহাল অবস্থা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×