গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে অস্বস্তিতে সরকার: ওবায়দুল কাদের

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওবায়দুল কাদের
ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে সরকার অস্বস্তিতে পড়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কেবল মূল্য সমন্বয়ের জন্যই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। অপর প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বরগুনার রিফাত হত্যায় দোষীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ঘটনায় সরকারপ্রধান শূন্য সহনশীলতায় আছেন। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ বিষয়ে জানেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে পারে, তবে শিগগিরই নয়। এর আগে তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দেখতে হাসপাতালে যান।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এলএনজি আমদানির কারণে অনেক লোকসান হচ্ছে। মূল্য সমন্বয়ের দরকার ছিল। তারপরও এ খাতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। তিনি জানান, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। এলএনজি পরিবেশকদের লোকসান হচ্ছে- এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

এ খাতে দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেন, এরকম কিছু আমার জানা নেই। আপনারা (সাংবাদিক) জানতে পারলে আমাকে জানাবেন। সরকারের নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণের ফলে এই খাতে দুর্নীতির পরিমাণ কমেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, উনি বিরোধী দলের ভাষায় কথা বলছেন। সরকারের সব সিদ্ধান্তই তারা গণবিরোধী বলেন।

মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা বাড়ানো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনি (সাংবাদিক) কোথা থেকে নিউজ পেলেন? আমি দলের সাধারণ সম্পাদক হয়ে জানি না। স্পেকুলেশন (ধারণা) আর বাস্তবতার মধ্যে একটা পার্থক্য থাকতেই পারে। তিনি বলেন, কেবিনেট রদবদলের বিষয়টা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।

আমার মনে হয়, কিছু কিছু পদপদবি এখনও খালি আছে। কাজেই এখানে পুনর্বিন্যাসের চেয়ে সম্প্রসারণ বিষয়টা প্রধান্য পাবে। কেবিনেট এক্সপানশন (সম্প্রসারণ) হতে পারে। যেমন মহিলা ও শিশু, এখানে কোনো মন্ত্রী নেই। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীন থেকে ফিরে এলে তখন এটা জানব। আমার মনে হয় না খুব শিগগিরই হচ্ছে।

ফেসবুকে অনেকে বাহাউদ্দিন নাছিমকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছেন- এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বাহাউদ্দিন নাছিম তো কাল আমার সামনে ছিল। ফুল পেয়েছে, আমি জানি না তো।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক কিছুই হতে পারে। এটা এখনও গুঞ্জন-গুজবের পর্যায়ে আছে। প্রাইমমিনিস্টার তো আজ দেশের বাইরে যাচ্ছেন। কিছু হলে সেটা অবশ্যই জেনারেল সেক্রেটারি অব দ্য পার্টি- আমি জানব। সেই ধরনের কিছু এখনও আমি জানি না।

রিফাত হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দোষীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। এর অর্থ- সরকারপ্রধান এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ পর্যায়ে আছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় ৯ জন গ্রেফতার হয়েছে। বাকিরাও গ্রেফতার হবে। বাকিদের গ্রেফতারের বিষয়ে সিরিয়াল অভিযান চলছে। এ ঘটনায় সরকারি দলের কেউ জড়িত থাকলে সেও রেহাই পাবে না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে খুন করেছে, আর যারা খুনিদের আশ্রয় দেবে, তারা সবাই অপরাধী। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। নবম ওয়েজবোর্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। এটি ঝুলিয়ে রাখা ঠিক হবে না। চলতি মাসেই ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় যানজট অভিন্ন সমস্যা। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের আলোকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র একটি বৈঠক ডেকেছেন। ওই বৈঠকের পর ছোট ছোট যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে।

মেট্রোরেলের কাজ চলায় দুর্ভোগ হচ্ছে। সেটা সহনশীল রাখার চেষ্টা করছি। বর্ষাকালে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে সব সংস্থাকে অনুরোধ করেছি। জঙ্গি তৎপরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে জঙ্গি তৎপরতা আছে। আমরা আতঙ্কিত নই, তবে সতর্ক অবস্থায় আছি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×