বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন বন্ধে নামছে মোবাইল কোর্ট: তথ্যমন্ত্রী

জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর জোর দাবি রয়েছে * শিগগির নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিদেশি টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দেখালে বিশেষ করে দেশীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখালে সোমবার (গতকাল) থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা দুই বছরের জেল হতে পারে। এছাড়া সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের বেতন বাড়াতে ‘সহসাই’ নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করা হবে। সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আগেই জানানো হয়েছিল, ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ও দেয়া হয়েছিল। রোববার তা শেষ হয়েছে। এখন থেকে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা আইন মানবেন না, তাদের জেল-জরিমানা করা হবে।

এছাড়া কেবল অপারেটররা যাতে বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য অনুষ্ঠান প্রচার করতে না পারে এবং টিভি মালিকদের সংগঠনের নির্ধারণ করে দেয়া ক্রম অনুযায়ী যেন টিভি চ্যানেল দেখানো হয়, তা নিশ্চিত করতেও ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিদেশি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করলে, আমরা যে ক্রম ঠিক করে দিয়েছি তা কেবল অপারেটররা অনুসরণ না করলে এবং কেবল অপারেটররা নিজেরা বিজ্ঞাপন বা অনুষ্ঠান প্রদর্শন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনে বিদেশি কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন সম্প্রচার বা সঞ্চালন করলে লাইসেন্স বাতিল এবং দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।’

যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সম্প্রচারের আগে সেসব দেশের পরিবেশকরা বিদেশি চ্যানেলের বিজ্ঞাপন ছেঁটে শুধু অনুষ্ঠান প্রচার করে। কিন্তু বাংলাদেশে তা হচ্ছিল না, বরং অনেক দেশি প্রতিষ্ঠান বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করছিল।

তাতে দেশি চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপন হারানোর অভিযোগ করে সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছিলেন টিভি মালিকরা। এই অবস্থায় গত এপ্রিলে দুই কেবল অপারেটর ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান যাদু মিডিয়া ভিশন ও নেশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেডকে বিজ্ঞাপন ছেঁটে বিদেশি টিভি চ্যানেল সম্প্রচারের নোটিশ দিলে দেশে ভারতীয় জি নেটওয়ার্কের পাঁচটি চ্যানেলের সম্প্রচার ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নেতারা পরে জানান, বিজ্ঞাপন ছেঁটে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারের প্রযুক্তি না থাকায় বাধ্য হয়ে চ্যানেলগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছিল তাদের। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ওই দুই প্রতিষ্ঠানকে দেয়া নোটিশের সময় গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। পাঁচ মাস সময় পেয়েছে, আরও সময় চায়, কিন্তু অনির্দিষ্টকাল সময় দেয়া তো সম্ভব নয়।

এছাড়া বেসরকারি চ্যানেল মালিকদের পক্ষ থেকে সম্প্রচারের তারিখ অনুযায়ী চ্যানেলের ক্রম ঠিক করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুরুতে সরকারি টিভি চ্যানেল এবং তারপরে প্রতিষ্ঠার তারিখ অনুযায়ী অন্য চ্যানেল দেখাতে হবে।

এসব বিষয় তদারকি করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি বিটিভির প্রতিনিধি এবং তথ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের নজর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন দেখানো কমেছে, এখনও বিদেশি বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, তাও আইনসিদ্ধ নয়। এতে লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদ ভবনের লুই আই কানের নকশা লঙ্ঘন করে সেখানে জিয়াউর রহমানকে সমাহিত করা হয়েছে। যদিও সেখানে আদৌ তার মরদেহ আছে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এ কবর সরানোর জন্য জনগণের জোর দাবিও রয়েছে। তাই এটি সরানোর কথা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীও বলেছেন।

‘সহসাই’ নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করা হবে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, এ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রধান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর আগে বলেছিলেন, জুন মাসের মধ্যে ওয়েজবোর্ড ঘোষণার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।

যত দ্রুত সম্ভব আমরা করব। সব কিছুই প্রস্তুত, খুঁটিনাটি দু’একটি বিষয় শেষ করেই আমরা ঘোষণা করব। তবে এখানে টিভিকে যুক্ত করার সুযোগ নেই। সম্প্রচার আইন হলে সে আইনের আলোকে টিভি সাংবাদিকরাও যাতে যথাযথ বেতনভাতা পান তা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সম্প্রচার আইনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। ভেটিং শেষ হলেই মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিল সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো। এ দাবিতে তারা বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×