রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা

এক সহপাঠীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ

আরেকজনকে জেরা আজ

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ফেনী প্রতিনিধি

সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় সোমবার তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য গ্রহণ ও আসামিপক্ষের কৌঁসুলিদের জেরা শেষ হয়েছে। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে নুসরাতের সহপাঠী নিশাত সুলতানার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। পরে অপর সহপাঠী নাসরিন সুলতানা ফুর্তির সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলে আদালত মঙ্গলবার (আজ) পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এর আগে রোববার এই মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্য গ্রহণ ও আসামিপক্ষের কৌঁসুলিদের জেরা শেষ হয়।

আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ বলেন, রাফীর সহপাঠী নিশাত সুলতানার সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ হলেও অপর সহপাঠী নাসরিন সুলতানা সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলে আদালত মঙ্গলবার (আজ) পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। এই সময় আদালতে প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ ১৬ আসামি উপস্থিত ছিলেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবীরা জানান, রাফীর সহপাঠী নাসরিন সুলতানা ফুর্তি সাক্ষ্য দেয়ার সময় মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার (৫৭) হাতে নিজের শ্লীলতাহানির কথা জানান। একই সঙ্গে ২৭ মার্চ রাফিকে শ্লীলতাহানির বর্ণনা দেন। বিকাল পোনে ৫টা পর্যন্ত বিচারক ফুর্তির কথা শুনেন। এরপর মঙ্গলবার (আজ) আসামিদের জেরার দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, ২৯ মে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন।

২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফীকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যায় রাফী। সেখানে বোরকা পরিহিত কয়েকজন তাকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেয়। রাজি না হলে তারা রাফীর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যায় রাফি। এ ঘটনায় রাফীর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।