উচ্চ মাধ্যমিকে ক্লাস শুরু

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুখরিত শিক্ষার্থীদের পদভারে

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের ক্লাস কার্যক্রম সোমবার শুরু হয়েছে। শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন একাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের পদভারে দেশের বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসা মুখরিত হয়ে ওঠে। আনন্দমুখর ও ঢিলেঢালা মেজাজ ছিল। তবে কোথাও বাংলা আবার কোথাও ইংরেজি বিষয়ের ক্লাস নিয়েছেন শিক্ষকেরা। এদিনও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য অর্থ জমা দিয়ে শিক্ষার্থী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন তারা।

ক্লাস শুরুর দিনে ঢাকায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কার্যালয়ে নতুন বই বাজারজাতকরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ এতে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিকের কয়েক শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে পাঠ্যবই মুদ্রণ কার্যক্রম নিয়ে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী।

এদিকে ঢাকায় বাজারজাত কার্যক্রম উদ্বোধন করা হলেও এনসিটিবির তিনটি বই দেশের সব স্থানে পৌঁছায়নি। কিছু বড় শহরে অবশ্য বই পৌঁছেছে। কিন্তু বইগুলো নিম্নমানের কাগজে ছাপানো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বাজারে নকল বইও আছে বলে জানাচ্ছেন কেউ কেউ।

বাজারে সংকট ও নিম্নমানের কাগজে ছাপানোর বিষয়ে জানতে চাইলে এই বইয়ের প্রকাশক কাওসারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাগজ দিয়ে বই ছাপানো হয়েছে।

রাজশাহী ও ময়মনসিংহসহ কয়েকটি এলাকার নাম উল্লেখ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজশাহীর বাজারে নকল বই গেছে। বগুড়ায় নকল বই ছাপানো হয়েছে। ঢাকায়ও আমরা নকল বই ধরেছি। সুতরাং নিম্নমানের কাগজের প্রাপ্ত বই তার প্রতিষ্ঠানের নয়। সেসব নকল বই হতে পারে। তিনি বলেন, মোট ২০ লাখ বই পাঠানো হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বই সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে মোট ৩৩টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও বাংলা সহপাঠ সরকারের তত্ত্বাবধানে আছে। এসব বই তৈরি করে সরকার। পরে তা বিক্রির জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়। বাকি ৩০টি বইয়ের কারিকুলাম তৈরি করে দেয় এনসিটিবি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কারিকুলামের আলোকে বই রচনা করে এনসিটিবির অনুমোদন ও দাম নির্ধারণ করে নেয়। এরপরই তা বাজারজাত করা হয়।

এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে ভর্তির জন্য মোট ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৩২৫ জন রেজিস্ট্রেশন করেছে। ভর্তি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় তদারকি কমিটির তথ্য অনুযায়ী সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৪৭০ শিক্ষার্থী ভর্তি শেষ করেছে। ভর্তির আবেদন না করা ও চান্স না পাওয়া শিক্ষার্থীদের এবারও সরাসরি ভর্তির সুযোগ দেবে শিক্ষা বোর্ডগুলো। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এ ধরনের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক।

এদিকে অকারণে বইয়ের দাম বৃদ্ধি এবং নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানোর ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বইয়ের দাম বাড়ানোর ঘটনায় দায়ী কর্মকর্তা এবং নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানোর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, শহরের বিভিন্ন বইয়ের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বই মাঝারি মানের কাগজে প্রিন্ট করা। গত বছর বাজারে বোর্ড বইয়ের মধ্যে বাংলা সাহিত্য পাঠ ১৩০ টাকা, সহপাঠ ৬৩ টাকা ও ইংলিশ ফর টুডে ৯৩ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ বছর সেগুলোর দাম বেড়ে বাংলা সাহিত্য পাঠ ১৪২ টাকা ও সহপাঠ ৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ইংলিশ ফর টুডে বইটির।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×