বরিশালে স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে

৭৬২ চিকিৎসক পদ শূন্য

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো ০৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালে স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে
হিজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল বিভাগে মুখ থুবড়ে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা। এ বিভাগে চিকিৎসকদের ৭৬২টি পদ শূন্য রয়েছে। আর যারা কর্মরত তাদের অধিকাংশই শহরমুখী।

চিকিৎসকের অভাবে উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না। স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনাও উপেক্ষা করা হচ্ছে। বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শতকরা ৬৭ ভাগ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। বাকি ৩৩ ভাগ চিকিৎসকের অধিকাংশই থাকেন জেলা শহরে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানায়, এ বিভাগে চিকিৎসকের মোট পদ এক হাজার ১৩১টি। এর মধ্যে ৭৬২টি পদ শূন্য রয়েছে। বরিশাল জেলায় ২৫৮টি পদের মধ্যে ১৫৭টি পদ শূন্য। অর্থাৎ এখানে ৬১ ভাগ চিকিৎসক নেই। একইভাবে পটুয়াখালীতে ২২৩টি পদের বিপরীতে ১৪৭টি পদ শূন্য। শূন্যপদের হার ৬৬ ভাগ।

ভোলায় ২০৯টি পদের বিপরীতে ১৪৬টি শূন্য। এখানে শূন্যপদের হার ৭০ ভাগ। পিরোজপুরে ১৭২টি পদের বিপরীতে শূন্য ১১৬টি। শূন্য পদের হার ৬৮ ভাগ। বরগুনায় ১৬৫টি পদের মধ্যে শূন্য ১৩০টি। এ জেলায় শূন্যপদের হার সবচেয়ে বেশি ৭৯ ভাগ। ঝালকাঠিতে ১০৪টি পদের বিপরীতে শূন্য ৬৬টি। এ জেলায় শূন্যপদের হার ৬৪ ভাগ।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোশতাক আল মেহেদী বলেন, হিসাব অনুযায়ী চিকিৎসকের ৬৭ ভাগ পদ শূন্য আছে।

তবে প্রেষণ ও অন্য সব কারণে এ হার আরও বেশি হবে। আমরা প্রেষণ বন্ধ করার সুপারিশ করেছি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কার্যালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, একজন চিকিৎসক পদায়ন হওয়ার পরই মহাপরিচালকের (ডিজি) কার্যালয়ের মাধ্যমে ঢাকা বা বড় শহরে প্রেষণে চলে যান। আঞ্চলিক কার্যালয় ওই তথ্য জানতেও পারে না। কর্মস্থলে না থাকলে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতাও আঞ্চলিক কার্যালয়ের নেই।

জানা গেছে, বরিশালে এমন অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে যেখানে মাত্র দু-একজন চিকিৎসক রয়েছেন। আবার কোনো কোনো হাসপাতালে তদবিরের কারণে বেশিসংখ্যক চিকিৎসককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

মেঘনা নদী ঘেরা হিজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র চিকিৎসক সংকট থাকায় সেখানে চিকিৎসাসেবা পান না সাধারণ মানুষ। হিজলা উপজেলার জেলে হারুন অর রশিদ বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকরা থাকেন না। আর চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা সেবাও পান না। যে দু-একজন চিকিৎসক রয়েছেন তারাও হাসপাতালের পাশের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্ব পালন করেন। অনেকে বরিশালে ব্যক্তিগত চেম্বার খুলে বসেছেন।

বরিশাল আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ হাসপাতালে ৩২ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৫ জন। হাসপাতালের আরএমও ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এখানে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এর মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে। এ হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে রোগীদের ক্ষোভ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা হাসপাতালে মানসম্মত চিকিৎসা দিচ্ছেন না। তারা বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

বরিশাল সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, সারা দেশেই চিকিৎসক সংকট রয়েছে। তবে বরিশাল বিভাগে সংকট বেশি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিব অবহিত আছেন।

নতুন চিকিৎসক যোগদান করলে এ সংকট কমে যাবে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনসালটেন্টসহ পাঁচজন চিকিৎসক থাকতে হবে। তবে তার জেলার প্রতিটিতেই পাঁচজনের কম চিকিৎসক আছেন। তিনি বলেন- হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, মুলাদী অবহেলিত এলাকা। এসব এলাকায় চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের দৃষ্টি রয়েছে।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধিতে তেমন উদ্যাগ দেখা যায় না।

এখানে চিকিৎসকরা যে সেবা দেন তাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেনি। এর মধ্যে প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দালালদের তৎপরতা আছে। তিনি বলেন, গোটা বরিশালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা অতি সামান্য। এত কম চিকিৎসক দিয়ে সেবা দেয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. আবদুর রহিম বলেন, এ বিভাগের ৪০টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এর পাশাপাশি জেলা শহরে জেনারেল হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট তীব্র।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচজনের কম চিকিৎসক কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা যাবে না। কিন্তু এর চেয়েও কমসংখ্যক চিকিৎসক কোনো কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। ৬৭ ভাগ কম চিকিৎসক দিয়ে আমরা স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়ত মন্ত্রণালয়ে তারা রিপোর্ট করছেন। চিকিৎসক দেয়ার জন্য তারা তাগিদ দিচ্ছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×