আদালতে নুসরাতের ভাই রায়হান

দুই কারণে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়

  ফেনী ও সোনাগাজী প্রতিনিধি ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নুসরাত জাহান রাফি
নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি

আসামিরা দুই কারণে নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার ‘সম্মানহানি’ এবং শাহাদাত হোসেন শামীমের প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় তারা জোটবদ্ধ হয়ে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

আমার বোনের মতো আরও অনেক ছাত্রীর ওপর অধ্যক্ষ সিরাজের যৌন অত্যাচারের কথা আমরা শুনেছি। আমার বোন বিভিন্ন সময় এর প্রতিবাদ করারও চেষ্টা করেছেন। সোমবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে রাফির ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান জেরার মুখে এসব কথা বলেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে জেরা।

বাদীর আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, এর আগে আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও রায়হানের বক্তব্যই দিয়েছিলেন। শামীম স্বীকার করেছিলেন যে, রাফি প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার সুযোগ নেয় শামীম।

এই দুই কারণে সিরাজ উদ্দৌলার নির্দেশনায় শামীম কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। তারা প্রথমে রাফিকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেন। কিন্তু রাফি অস্বীকৃতি জানালে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তাছাড়া অপর আসামি নূর উদ্দিনসহ ১২ আসামিই দায় স্বীকার করে আদালতে বলেছেন, অধ্যক্ষ ও তার নিকটজনদের অভিযোগ ছিল, রাফি যৌন হয়রানির মামলা করে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ আলেম সমাজের সম্মানহানি করেছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মামলার ১০ ও ১১ নম্বর সাক্ষী ওষুধের দোকানদার জহিরুল ইসলাম ও বেলায়াতে হোসাইনের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। শুনানির সময় সোমবার সকালে মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজসহ ১৬ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

চাঞ্চল্যকর নুসরাত হত্যা মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

এরপর নুসরাতের সহপাঠী নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা ফূর্তি, ৪ নম্বর সাক্ষী মাদ্রাসার অফিস সহকারী নূরুল আমিন ও নৈশপ্রহরী মোহাম্মদ মোস্তফা, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন ও দোকান কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ ও কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটনসহ ৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন আদালতে। ২৯ মে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে।

৩০ মে মামলা ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি শুরু হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×