ভুরুঙ্গামারীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বড় দুর্নীতি

কাজ শেষ না করেই ঘর হস্তান্তর

তালিকায় নাম থাকলেও অনেকে পাননি ঘর

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাজ শেষ না করেই ঘর হস্তান্তর

কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘জমি আছে-ঘর নেই’ নামের প্রকল্প তালিকায় নাম থাকলেও এক বছরেও ঘর জোটেনি অনেকের ভাগ্যে। প্রকল্পের ঘরে নিম্নমানের খুঁটি দেয়া হয়েছে। ল্যাট্রিনের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।

নিম্নমানের কাজ করে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পচ্ছে না। এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।

জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পে তালিকায় নাম আছে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তরছাট গোপালপুরের বাসিন্দা মৃত: ইব্রাহিমের স্ত্রী হালিমা বেওয়া (৪৫), একই ইউনিয়নের শালঝোড় গ্রামের মৃত আজগর আলীর স্ত্রী হাউসি বেওয়া (৫০) এবং কেরামত আলীর (৫০)।

কিন্তু তাদের কপালে ঘর জোটেনি। তারা বলেন, ‘সরকারের দেয়া ঘরের তালিকায় হামার নাম ছিল। অথচ এক বছর হয়া গেলই কোন ঘর পাই নাই। ঘরের জন্য চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও স্যারের কাছে গেছি কিন্তু কোনো উপকার হয় নাই। ঘর পামো কিনা জানি না।’

যারা ঘর পেয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন জহুরা খাতুন (৫০) ও শহিদুল ইসলাম (৪৮)। তারা বলেন, ‘সরকারের দেয়া বিনামূল্যে হামরা ঘর পাইছি। কিন্তু সেই ঘরের কাজ এলাও বাকি আছে। এলাও লেট্রিন বসায় নাই। রিং-স্লাব রেখে চলি গেছে। এলা কামলা নিয়া হামাকেই বসাইতে হবে এগুলা।

ঘরের মধ্যে বানানো খুঁটি না দিয়া কেনা খুঁটি দিয়ে ঘর বানাইছে। কাউকে কেনা খুঁটি আবার কাউকে বানানো খুঁটি দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। ঘরের মালামাল আনাসহ এক বস্তা সিমেন্ট, বালু, খোয়া, কাঠ-বাঁশ কিছু করে কিনে দেয়ায় প্রায় ৭-১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।’ এসব টাকা তারা ঋণ করে ব্যয় করেছেন বলে জানান তারা।

সুবিধাভোগীদের অভিযোগ- এক লাখ টাকা বরাদ্দের একটি ঘর নির্মাণে নিুমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় গড়ে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এভাবে এই প্রকল্প থেকে কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

প্রকল্পে অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ এনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল হক প্রকল্প পরিচালক, দুদকসহ প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। উল্টো তাকে প্রশাসন এবং প্রভাবশালীদের তোপের মুখে পড়াতে হয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে শিলখুঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাঈল হোসেন ইউসুফ জানান, তার ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত নামধারীরা ঘর পাননি। এই প্রকল্পে ক্রয় কমিটিতে চেয়ারম্যানরা শুধু মাত্র সদস্য। ঘরের মালামাল ক্রয় করাসহ নির্মাণ কাজ পুরোটাই করেন ইউএনও নিজে।

আমরা চেয়ারম্যানরা শুধু তালিকা দিয়েছি। ক্রয় কমিটির রেজুলেশনে ১০ চেয়ারম্যানের মধ্যে ৬ জন স্বাক্ষর করেননি বলে জানান তিনি। জানতে চাইলে ভভুরুঙ্গামারির ইউএনও এসএইচএম. মাগ্ফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, ‘প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি। উপজেলায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৪২৯টি ঘরের জন্য এক লাখ করে মোট ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। সে কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১০-১২টি ঘরের তালিকা সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। যারা এ নিয়ে অভিযোগ করছেন তারা অসত্য বলছেন।’

জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পে অনিয়ম নিয়ে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানি না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×