ঘুষ লেনদেন: ডিআইজি মিজানকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

লিখিত জবাবে নির্দোষ দাবি বাছিরের

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিআইজি মিজানুর রহমান। ফাইল ছবি
ডিআইজি মিজানুর রহমান। ফাইল ছবি

ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানে পুলিশের বরখাস্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে ১৫ জুলাই জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ বুধবার এ আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক ও অনুসন্ধান টিমের দলনেতা শেখ মো. ফানাফিল্লা ঘুষ লেনদেনে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আদেশের অনুলিপি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। দুুদক যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিকে ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের কথা ছিল। কিন্তু তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত বক্তব্যের কপি দুদকে পাঠান।

তদন্ত দলের প্রধানের কাছে পাঠনো লিখিত বক্তব্যে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, ‘আমি ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে ঘুষ নিইনি। তার সঙ্গে অডিও কথোপকথনের কণ্ঠও আমার নয়।’

তিনি এর চেয়ে বেশি আর কোনো কথা বলেননি। এদিন ডিআইজি মিজানের গাড়িচালক এনামুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদকের অনুসন্ধান দল। তবে তিনি কী বলেছেন, সে বিষয়ে কোনো কিছু জানা যায়নি। তাকে আরেক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

১৩ জুন সাময়িক বরখাস্ত দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়।

ওইদিনই ৩ সদস্যের টিম গঠন করা হয়। দুদক পরিচালক ও দলনেতা শেখ ফানাফিল্লা ছাড়া টিমের অপর দুই সদস্য হলেন- দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান ও সহকারী পরিচালক সালাহউদ্দিন।

অনুসন্ধানের তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দুদক পরিচালক নিরু শামসুন নাহার দায়িত্ব পালন করছেন।

গত বছর জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বরখাস্ত ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান রেখে অপর এক নারীকে জোরপূর্বক বিয়ে ও নির্যাতন এবং এক নারী সংবাদ পাঠিকাকে হুমকির অভিযোগ উঠে।

পরে তাকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়। তার ৪ মাস পর তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। উপপরিচালক ফরিদউদ্দিন পাটোয়ারির হাত ঘুরে ওই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান খন্দকার এনামুল বাছির।

একপর্যায়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে অডিও রেকর্ড দিয়ে ডিআইজি মিজান দাবি করেন, ৪০ লাখ টাকা ঘুষের মধ্যে ২৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। ১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে বাজারের ব্যাগে করে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ওই টাকা দেন তিনি।

পরে তথ্য পাচারের অভিযোগে ১০ জুন খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করে দুদক। তবে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ বানোয়াট বলে দাবি করে আসছেন এনামুল বাছির।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শেষে ২৪ জুন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) কমিশনের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে ডিআইজি মিজানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

অপর তিন আসামি হচ্ছেন- তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগনে মাহমুদুল হাসান। মামলায় ৩ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৩ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : ডিআইজি মিজান

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×