রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা

এজলাসে সিরাজকে দেখে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন রাফির মা

  যুগান্তর রিপোর্ট, ফেনী ও সোনাগাজী প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জ্ঞান হারানোর পর নুসরাতের মাকে আদালত থেকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ছবি: যুগান্তর
জ্ঞান হারানোর পর নুসরাতের মাকে আদালত থেকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ছবি: যুগান্তর

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এজলাসে আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে দেখে চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান তিনি। দ্রুত তাকে ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালে নেয়া হয়।

বুধবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। মেয়ে নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলেন তিনি।

আদালত সূত্র জানায়, ১২টা থেকে আদালতে শিরিন আক্তারের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন রাফির মা শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিনের মাধ্যমে রাফিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। রাফি অধ্যক্ষের কক্ষে একা না গিয়ে সঙ্গে দুই বান্ধবীকে নেয়।

অধ্যক্ষ তাদের কক্ষে প্রবেশ করতে না দিয়ে রাফিকে একা ভেতরে প্রবেশ করতে বলেন। রাফি অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশের পর অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা তাকে বলেন- তুমি প্রতিদিন পরীক্ষার ৩০ মিনিট পূর্বে আমার অফিস কক্ষে আসবে। আমি তোমাকে পরীক্ষার প্রশ্ন দিয়ে দেব। তোমাকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে। তুমি ভালো ফলাফল করবে। আমি তোমাকে বিয়ে করব।

এ সময় রাফি অধ্যক্ষকে বলে- আপনি এমন কথা বলছেন কেন? আপনি আমার ওস্তাদ। আমার পিতার মতো। এরপরই সিরাজ তাকে জড়িয়ে ধরেন। রাফি অজ্ঞান হয়ে পড়লে অধ্যক্ষ সিরাজ নোমানকে (রাফির ভাই) ফোন করে বলেন, তোমার বোন অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। রাফি সকালে বাড়ি থেকে কিছুই খেয়ে আসেনি। তাকে বাড়িতে নিয়ে যাও।

নোমান দ্রুত সিএনজি নিয়ে রাফিকে বাড়িতে নিয়ে আসে। নোমান ফোনে বিষয়টি আমাকে জানালে দ্রুত বাড়ি এসে রাফির মুখ থেকে বিস্তারিত শুনি। বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর ইয়াছিনকে জানিয়ে তাকে মাদ্রাসায় যেতে বলি।

কাউন্সিলর বলেন, আপনি যান, আমি পেছনে আসছি। পরে মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক আবুল কাসেমের কাছে জানতে চাই অধ্যক্ষের রুম কোথায়? তিনি অফিস কক্ষ দেখিয়ে দেন। কক্ষে গিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজের কাছে মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং আমাকে গালমন্দ করেন। এরই মধ্যে অফিস কক্ষে পুলিশ নিয়ে হাজির হন স্থানীয় কাউন্সিলর ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য।

রাফির মা আদালতকে জানান, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিভিন্ন অপকর্মের কথা রাফি তার সহপাঠীদের কাছ থেকে জানত এবং রাফি তার (মা) কাছে বলত। এ কারণে তার পরিবার রাফির পরীক্ষা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। নোমান তাকে প্রতিদিন পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে সিটে বসিয়ে দিত। ৬ এপ্রিল নোমানকে গেট থেকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। সিরাজের পরিকল্পনা অনুসারে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে বোরকা পরিহিত ৫ জন। রাফি চিকিৎসাধীন থাকাকালে উম্মে সুলতানা পপি ওরফে চম্পা নামটি তার কাছে বলে গেছে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে রাফির মা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। এজলাসে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা, কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা পপিকে দেখে চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে এজলাসেই জ্ঞান হারান তিনি। দ্রুত তাকে ফেনী হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে আদালত মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল খায়েরের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, এ মামলায় ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর তাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা; যা শেষ হয় রোববার (৩০ জুন)। সোমবার ও মঙ্গলবার রাফির বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠী নাসরিন সুলতানা ফুর্তির সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ১৭ জুলাই : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন শুনানির জন্য আগামী ১৭ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন নিরাপত্তার অভাবে কাশিমপুর কারাগার থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে আদালতে হাজির করা হয়নি। এজন্য সাইবার ট্রাইব্যুনালের (বাংলাদেশ) বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন চার্জ শুনানির পরবর্তী ওই দিন ধার্য করেন।

অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগের বিষয়ে রাফির জবানবন্দির ভিডিও প্রচার করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় কারাগারে আছেন ওসি মোয়াজ্জেম।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×