ঢাকা সফরে বিশ্বব্যাংকের সিইও

বাংলাদেশের উন্নয়ন পৃথিবীর জন্য শিক্ষণীয়

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিভা কিনোভা।

তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যে সীমিত সম্পদ দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সারা পৃথিবীর জন্য শিক্ষণীয়। শহরের পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য একটি স্কুল ঘুরে দেখে তার উপলব্ধি হচ্ছে- শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে সরকারকে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে শিক্ষায় অবকাঠামো ও গুণগত মান উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকও বিনিয়োগ বাড়াবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে এসে দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের ঋণে স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুদের জন্য কার্যক্রম দেখতে যান মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান আরবান স্ল্যাম আনন্দ স্কুলে। এ সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের ১৪৮টি নির্বাচিত উপজেলা ও ১১টি সিটি কর্পোরেশনে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ শিক্ষার্থীকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এনজিওর মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম চলছে। কম আয়ের পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আনন্দ জীবনের বড় পাওয়া বলে গণমাধ্যমকে জানান বুলগেরীয় নাগরিক ক্রিস্টালিনা জর্জিভা কিনোভা।

কম আয়ের পরিবার থেকে উঠে আসা জর্জিভা বিশ্বাস করেন, এ দেশ থেকেই একদিন বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে যাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আর এ বিশ্বাস তাকে অনুপ্রাণিত করেছে তীব্র গরম সহ্য করে বস্তির একটি স্কুলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় কাটাতে। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হাটউইগ শেফার এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আজ শুক্রবার বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার। সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের অন্যতম শীর্ষ এ কর্মকর্তা বুধবার ঢাকায় আসেন। দু’দিনের সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য নিরসনে সাফল্য অর্জন করায় প্রশংসা করেছেন। সেই সঙ্গে উন্নয়ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া বুধবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের (জিসিএ) তৃতীয় নির্বাহী বৈঠকেও যোগ দেন।

সেখানে তিনি বলেন, বিশ্ব বাংলাদেশের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। কীভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা করে টিকে থাকা যায়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের সাইক্লোনে প্রায় ৫ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল।

আর গত মে মাসে একই ধরনের সাইক্লোনে মাত্র ১০ জনের মতো মানুষ মারা গেছে বাংলাদেশে। এটা সম্ভব হয়েছে পূর্বপ্রস্তুতি ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের কারণে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের জন্য অন্যতম ঝুঁকি হয়ে আছে।

মানুষের দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু সহনীয় প্রবৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাংক সহায়তা অব্যাহত রাখবে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের সিইও প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশ অনেক বড় উদারতার পরিচয় দিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে বাংলাদেশের যে যাত্রা সেখানে বিশ্বব্যাংক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।