মাদ্রাসা কমিটির সাবেক সদস্যের সাক্ষ্য

সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে দেননি অধ্যক্ষ সিরাজ

রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা

  ফেনী প্রতিনিধি ১৫ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোনাগাজী মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য শেখ আবদুল হালিম মামুন সাক্ষ্য দিয়েছেন। রোববার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০১৭ সালে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভায় ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।
ফাইল ছবি

সোনাগাজী মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য শেখ আবদুল হালিম মামুন সাক্ষ্য দিয়েছেন। রোববার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০১৭ সালে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভায় ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

কিন্তু অধ্যক্ষ সিরাজ তা বাস্তবায়ন করতে দেননি। তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে রাফির এমন পরিণতি হতো না। এদিকে এদিন আদালতে মাদ্রাসার দফতরি মো. ইউসুফও সাক্ষ্য দেন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ১৬ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। সোমবার আরও তিনজনের সাক্ষ্য নেয়া হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহম্মদ জানান, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য ও পৌর কাউন্সিলর মামুন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালতে মামুন জানান, অধ্যক্ষ সিরাজের নানা অপকর্ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় সুকৌশলে তাকে পরিচালনা কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তিনি আরও বলেন, অধ্যক্ষের হাতে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০১৭ সালে পরিচালনা কমিটির সভায় মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু অধ্যক্ষ সিরাজ তা বাস্তবায়ন করতে দেননি।

আদালতে মাদ্রাসার দফতরি মো. ইউসুফ জানান, অধ্যক্ষ সিরাজের নানা অপকর্মের কথা তিনি জানতেন। কিন্তু চাকরি হারানোর হুমকিতে তিনি কোনো তথ্য প্রকাশ করতেন না। আজ সোমবার আদালতে সোনাগাজী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হোসাইন, সোনাগাজী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন ও চালক নুরুল করিম সাক্ষ্য দেবেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, এ পর্যন্ত ১৫ জনের সাক্ষ্য ও জেরা হয়েছে। ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্য নেয়া শুরু হয়।

এরপর রাফির বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠী নাসরিন সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন, নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফা, কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন ও দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ, নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান, জহিরুল ইসলাম, হল পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, নুসরাতের মা শিরিন আখতার ও শিক্ষক আবুল খায়েরের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। চার্জশিট জমা দেয়ার আগে সাত আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেয়ায় রাফির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে তিনি মারাত্মক দগ্ধ হন। ১০ এপ্রিল ঢাকায় তার মৃত্যু হয়।

রাফির মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফেনীর পরিদর্শক মো. শাহ আলম ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পাঁচজনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করে পিবিআই। আদালত তা অনুমোদন করেন।

এছাড়া যৌন হয়রানির মামলার পর রাফির জবানবন্দি গ্রহণের সময় ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে সাইবার অপরাধ আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কারাগারে আছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×