১০ ফাস্টট্র্যাক প্রকল্পের অগ্রগতি

পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন ৮১ শতাংশ

  হামিদ-উজ-জামান ১৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন ৮১ শতাংশ
ফাইল ছবি

দেশের ১০টি ফাস্টট্র্যাক প্রকল্পের মধ্যে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর কাজ। এর মূল অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৮১ শতাংশ। আর পুরো প্রকল্পটির সার্বিক বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ৭১ শতাংশ।

বাকি আট প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত না হলেও কাজ থেমে নেই। তবে অর্থায়ন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজ এখনও শুরু হয়নি।

গত জুন মাস পর্যন্ত ফাস্টট্র্যাক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

জানতে চাইলে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব মো.শহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড়ের যে লক্ষ্য ছিল তা পূরণ হয়েছে। এ থেকেই আমরা বলতে পারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ভালো হয়েছে বলেই অর্থছাড় ভালো হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিতে আমরা সন্তুষ্ট।

অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার মধ্যে শুরু থেকে গত জুন মাস পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৯ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। জাজিরা ও মাওয়া প্রান্তে এপ্রোচ রোডের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। সার্ভিস এরিয়া-টু এর কাজ শতভাগ হয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে রয়েছে নদী শাসন। এখন পর্যন্ত এ কাজের অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ।

পদ্মা সেতু প্রকল্প প্রসঙ্গে সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেছেন,পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্নের প্রকল্প। সব মেগা প্রকল্পই বাস্তবায়নের সঠিক পথে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য রয়েছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালানোর। যদি সেটি কোনো কারণে সম্ভব না হয় তাহলে ২০২০ সালের মার্চের মধ্যে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী সেটি উদ্বোধন করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের শুরু থকে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার ৪৫২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। প্রকল্পটির ভৌত কাজকে ৩৪৪টি অঙ্গে বিভক্ত করে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই ১২টি ওয়ার্কিং ডকুমেন্টস প্যাকেজ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। প্রতিটির জন্য মাইলস্টোন অ্যাচিভমেন্ট সার্টিফিকেট স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্যাকেজের প্রি-ইন্সপেকশন শেষ হয়েছে।

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৩৭ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৩২ দশমিক ৪২ শতাংশ। শুরু থেকে জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ১৮৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় বাউন্ডারি ওয়াল, স্লোপ, ভূমি উন্নয়ন এবং অফিস কাম আবাসিক ভবন নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। ইপিসি টানকি কাজ ৩৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ হয়েছে।

মেট্রোরেল প্রকল্পের সার্বিক গড় অগ্রগতি ৩০ দশমিক ০৫ শতাংশ। শুরু থেকে ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৬০৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এছাড়া ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন শতভাগ, পূর্তকাজ ৫৫ শতাংশ, উত্তরা নর্থ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৯টি স্টেশন নির্মাণ কাজ ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ, আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৭টি স্টেশন নির্মাণ ১৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড মেকানিক্যাল সিস্টেমের অগ্রগতি সাড়ে ১০ শতাংশ এবং রেল কোচ ও ডিপো ইকুইপমেন্টের কাজ ১৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।

এছাড়া পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের ভৌত অগ্রগতি ৫৫ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৫৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। শুরু থেকে ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ১৯টি কম্পোনেন্টে ভাগ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ছয়টি কম্পোনেন্ট পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) এবং ছয়টি কম্পোনেন্ট জি টু জি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

তাছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ, কিছু পূর্ত কাজ, জাহাজ নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রুটে ড্রেজিং, পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করছে।

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ১৬ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। শুরু থেকে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চীন সরকারের অর্থায়নের জি টু জি পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঠিকাদারের ডিজাইন চূড়ান্ত না হওয়ায় ও ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে ব্যয় কম হচ্ছে।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ২৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৬৯৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। দোহাজারি-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু মিয়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ২১ দশমিক ৬১ শতাংশ।

শুরু থেকে জুন মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৯৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ ৯৮ শতাংশ, ভৌত নির্মাণ ২৯ শতাংশ, অস্থায়ী পিলার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ কাজ ৯৪ শতাংশ, পরামর্শক সুপারভিশন কাজ ২৫ শতাংশ এবং রিসেটেলমেন্ট কাজ ১৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এছড়া এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্পের কাজও আশানুরূপভাবে এগিয়ে চলছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×