অবশেষে মুক্তি পেলেন স্কুলশিক্ষক আজমত

‘কেন আমার জীবন থেকে ১০ বছর হারিয়ে গেল’

  জামালপুর প্রতিনিধি ১৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘কেন আমার জীবন থেকে ১০ বছর হারিয়ে গেল’
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার পরও ১০ বছর কারাভোগ করে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পাখিমারা গ্রামের স্কুলশিক্ষক আজমত আলী (৭৪)।

এ সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়ের কপি জেলা কারাগারে পৌঁছার পর মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। এ সময় আজমত আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেন আমার জীবন থেকে ১০টি বছর হারিয়ে গেল। আমাকে যারা চক্রান্ত করে জেল খাটাল, তাদের বিচার চাই।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দি এলাকার পাখিমারা গ্রামের ইজ্জত উল্লা সর্দারের ছেলে আজমত আলী। টাঙ্গাইলের গোপালপুরের ঘোড়ামারা এলাকার ভেঙ্গুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন তিনি। ১৯৮৭ সালের ১ এপ্রিল জমি নিয়ে বিরোধে এলাকার কলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল করিম নিহতের মামলায় জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১৯৮৯ সালের ৮ মার্চ আজমত আলীকে যাবজ্জীবন সাজা দেন।

এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আজমত আলী। একই সময় রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার জন্যও আবেদন করেন। ১৯৯৬ সালের ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় জামালপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

আর ২০০৫ সালের ২ মার্চ হাইকোর্টের রায়েও তিনি খালাস পান। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০০৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আজমত আলীকে নিু আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন। ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর আজমতকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। সেই থেকে কারাগারে ছিলেন তিনি।

২০১০ সালের ১১ আগস্ট আপিল বিভাগ আজমত আলীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। এ নিয়ে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর দৈনিক যুগান্তরে ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরও ৯ বছর কারাগারে’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এ অবস্থায় ওই মামলায় যাবজ্জীবন সাজার রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আজমত আলীর পক্ষে সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি আবেদন করে। ওই রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি করে ২৭ জুন আপিল বিভাগ আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ দেন।

এরপর সোমবার আপিল বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার আবু তাহের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জেলা কারাগারে পাঠান। এরপরই মুক্তি পেলেন আজমত আলী। মঙ্গলবার আজমত আলী কারাগারের বাইরে বের হয়ে এলে তার বড় মেয়ে বিউটি খাতুন বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বিউটি খাতুন বলেন, ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না যে কেমন লাগছে। আমার বাবা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পাওয়ার পরও সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে তাকে প্রায় ১০ বছর জেল খাটতে হল। বাবার মুক্তির জন্য আইনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে আমাদের অর্থসহ অনেক ক্ষতি হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের লিগ্যাল এইড শাখার আইনজীবীরা আমাদের পাশে না দাঁড়ালে হয়তো আমার বাবাকে জীবিতই দেখতে পেতাম না।

আজমত আলী বলেন, আমার জীবনটা তো জেলেই কাটল। কেন আমার জীবন থেকে ১০টি বছর হারিয়ে গেল। জেল কর্তৃপক্ষসহ অনেকেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তা না হলে হয়তো আমি জেলেই মারা যেতাম। আমাকে যারা চক্রান্ত করে জেল খাটাল, তাদের বিচার দাবি করছি। জেল সুপার মকলেছুর রহমান বলেন, সকালে তার মুক্তির রায়ের কপি হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে মুক্তি দিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×