জাহালম-কাণ্ডে দুদকের ভুল

দায়ীদের বিষয়ে দুদকের ব্যবস্থার অপেক্ষায় হাইকোর্ট

সোনালী ব্যাংকের দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার প্রতিবেদন চেয়েছেন আদালত

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দায়ীদের বিষয়ে দুদকের ব্যবস্থার অপেক্ষায় হাইকোর্ট
ফাইল ছবি

ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলায় পাটকল শ্রমিক জাহালমকে আবু সালেক রূপে ভুল চিহ্নিত করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কারণেই ঘটেছে। দুদকের দেয়া এমন প্রতিবেদনের পর সংস্থাটি দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয় তা দেখতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

দুদকের পক্ষে প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর মঙ্গলবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ পরবর্তী আদেশের জন্য ২১ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন।

জাহালম কাণ্ডে কে বা কারা দায়ী তা দেখার জন্য ১৭ এপ্রিল এ বিষয়ে দুদকের প্রতিবেদন চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। সে অনুসারে ১২ জুলাই হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক।

সংস্থাটির পরিচালক (লিগ্যাল) এবং এ সংক্রান্ত দুদকের তদন্ত কমিটির প্রধান আবুল হাসনাত মো. আব্দুল ওয়াদুদের দেয়া প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করা হয়।

আব্দুল ওয়াদুদ প্রতিবেদনে বলেন, সার্বিক বিবেচনায় আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, জাহালমকে আবু সালেক রূপে চিহ্নিত করার যে ভুলটি হয়েছে তা দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কারণেই ঘটেছে।

আর তাদের ভুল পথে চালিত করতে সহায়তা করেছে ব্র্যাক ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের কর্মকর্তারা এবং অ্যাকাউন্টের ভুয়া ব্যক্তিকে পরিচয়দানকারীরা।

আদালতে মঙ্গলবার দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। জাহালমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। আর আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষে।

সোনালী ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন। দুদকের আইনজীবী প্রতিবেদন তুলে ধরার পর হাইকোর্ট বলেন, দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত রিপোর্ট অ্যাপ্রিশিয়েবল (প্রশংসার যোগ্য)। আইনজীবী বলেন, অনেক দিন পর দুদক নিয়ে প্রশংসামূলক মন্তব্য শুনতে পেলাম। আদালত বলেন, আমরা চাই দুদক সুরভি ছড়াক।

ব্র্যাক ব্যাংকের আইনজীবী এম আসাদুজ্জামানের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা কোথায় গেল সেটা তদন্ত করেননি? নাকি পুরোটাই একটা সিন্ডিকেট? আপনারা তদন্ত করে না থাকলে এখানে অন্য কিছু রয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ব্যাংক জাহালমকে আবু সালেক হিসেবে শনাক্ত করে। দুদক কৌঁসুলি বলেন, যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা জাহালমকে আবু সালেক হিসেবে শনাক্ত করেছে তারা চাকরিতে বহাল তবিয়তেই রয়েছে।

আদালত বলেন, একজনের ছবি দিয়ে এতগুলো ব্যাংক হিসাব খুলেছে সেটা আমরা দেখব। এটা ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া সম্ভব নয়।

দুদক আইনজীবীকে হাইকোর্ট বলেন, তদন্ত রিপোর্টে বলেছেন ফরেনসিক অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠা করতে হবে মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তের জন্য।

কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময়ে দুদক কি করেছে, তখন কি এসব অর্থ পাচার মামলার তদন্ত হয়নি? হয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে টাকা দেশে আনা হয়েছে। তাহলে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা কোথায় গেল সেই তদন্ত করলেন না কেন? আদালত বলেন, এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সাহায্য নিতে পারত দুদক। তা না করে হাত গুটিয়ে বসে আছে।

আদালত বলেন, প্রতিবেদনে যাদের নাম আসছে তাদের বিষয়ে দুদক বিভাগীয় ব্যবস্থা কী নেয় আমরা সেটার অপেক্ষায় থাকলাম। আমরা এখন ক্ষতিপূরণের রুলের দিকে যাব।

আদালত আরও বলেন, প্রতিবেদনে যাদের নাম আসছে (দুদক, ব্যাংক কর্মকর্তারা) তারা যেন টাকা উত্তোলন করতে না পারে, বিশেষ করে প্রভিডেন্ট ফান্ড।

এ সময় সোনালী ব্যাংকের আইনজীবী বলেন, সোনালী ব্যাংক তাদের কর্মকর্তাদের বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তখন এ প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের আদেশ চান। এরপর আদালত সোনালী ব্যাংকের বিভাগীয় ব্যবস্থার প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, জানুয়ারিতে একটি জাতীয় দৈনিকে ৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না...’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনলে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুদক কর্মকর্তা, মামলার বাদীসহ চারজনকে তলব করেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। ৩ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্টরা হাজিরের পর হাইকোর্ট জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ দেন এবং দুদকের কাছে ঘটনার বিষয়ে হলফনামা আকারে জানতে চান।

ঘটনাপ্রবাহ : ভুল আসামি জাহালম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×