কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনের সাক্ষ্য

অধ্যক্ষের অপকর্মের প্রতিবাদের কথা বলেছিল রাফি

রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা

  ফেনী প্রতিনিধি ১৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অধ্যক্ষের অপকর্মের প্রতিবাদের কথা বলেছিল রাফি
ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় মঙ্গলবার আরও ৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে সোনাগাজী মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মাওলানা ফারুকী, রাফির সহপাঠী তানজিনা বেগম সাথী এবং বিবি জাহেদা বেগম তামান্নার সাক্ষ্য ও জেরা হয়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাজেফ আহম্মদ ও বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, ‘মাওলানা ফারুকী আদালতকে বলেছেন তিনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। রাফির গায়ে আগুন দেয়ার সংবাদ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

এ সময় পুলিশও ঘটনাস্থল ছুটে আসে। পুলিশ যখন বোরকার পোড়া অংশ, দিয়াশলাইসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছিলেন তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাফির দুই সহপাঠী তানজিনা বেগম সাথী ও বিবি জাহেদা বেগম তামান্না বলেন, রাফির ওপর অধ্যক্ষ সিরাজের যৌন নীপিড়নের কথা আমরা রাফির মুখেই শুনেছি।

অধ্যক্ষের আচরণে রাফি ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। রাফি তাদের বলেছিলেন, অনেকেই অধ্যক্ষের অপকর্মের প্রতিবাদ করেনি। তারা এড়িয়ে গেছেন, কিন্তু আমি জীবন দিয়ে হলেও অধ্যক্ষ সিরাজের বিভিন্ন অপকর্ম প্রতিবাদ করব। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে সাক্ষীদের জেরা করেন সিনিয়র আইজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামলুল হাসান, নয়ন, বেঙ্গল প্রমুখ।’

তারা যুগান্তরকে বলেন, পুলিশের কাছে তারা আগে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার সঙ্গে এই বক্তব্যে অনেক গরমিল পাওয়া যায়। এখন তারা নতুন নতুন আসামির নাম বলছেন। এটি পরিকল্পিত সাক্ষ্যগ্রহণ।

এ নিয়ে এ পর্যন্ত ২১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছে। মামলার শুনানি শুরু হওয়ার আগেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

আজ বুধবার মাদ্রাসার নারী শিক্ষক বেবী রানী দাস, রাফির সহপাঠী খুজিন্তা খানম, আকলিমা আক্তার ও মো. কাওসারের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। ৬ এপ্রিল রাফি পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফেনীর পরিদর্শক শাহ আলম আদালতে ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন।

এদিকে মঙ্গলবার বিকালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এক কোটি ৩৯ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে হাজির করা হয়। বিচারক সিরাজের উপস্থিতিতে মামলায় বাদীকে জেরা করেন।

অধ্যক্ষ সিরাজ ২০১৬ সালে উম্মুল কুরা ডেভেলপার্স লিমিটিডে ও উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসা স্থাপনের নামে ১১০ জন সদস্য থেকে জনপ্রতি লাখ টাকা করে তহবিল সংগ্রহ করে টাকা আত্মসাৎ করেন। হিসাব চাইলে অধ্যক্ষ সিরাজ এ চেক দিয়েই তাদের শান্ত করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×