অর্থমন্ত্রীকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটার

এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট ও কর রহিতের প্রস্তাব

নতুন ও পুরনো বিদ্যুৎ গ্রাহকদের টিআইএন বাধ্যতামূলক বাতিলের দাবি

  মিজান চৌধুরী ১৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট ও কর রহিতের প্রস্তাব

বিদ্যুতের নতুন সংযোগ নিতে এবং পুরনোদের বিদ্যুৎ বিল দিতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক নিয়ম বাতিলসহ এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনে ব্যবহৃত আমদানি করা মালামাল ও গ্যাসীয় পণ্যের সম্পূরক শুল্ক রহিতের কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে এ প্রস্তাব দিয়ে ডিও (আধা সরকারি পত্র) লেটার দিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। প্রস্তাবে জনগণকে সহনীয় মূল্যে পৌঁছে দিতে এলইডি বাল্বের ওপর কম হারে ভ্যাট, ট্যাক্স ও আমদানি শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

ডিও লেটারে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ২০২০ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে সরকার কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৯৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে প্রস্তাবটি বিবেচনা করা দরকার।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে এবং বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি করা তরল গ্যাস এলএনজির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়। আর গ্যাস উৎপাদনের ব্যবহৃত মালামালের ওপর ৫ শতাংশ অগ্রিম কর এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ও গ্যাসীয় অবস্থায় পণ্যের ওপর আরও ১০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়।

অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাবে বাজেটে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হবে তার একটা ধারণাও দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুতের গ্রাহক ৩ কোটি ৩৪ লাখ। এর মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গ্রাহক সংখ্যাই ২ কোটি ৬৪ লাখ। এদের অধিকাংশই আবার দরিদ্র। এই দরিদ্র জনগোষ্ঠী গ্রাহকের মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক আবার লাইফলাইনের আওতাভুক্ত। অর্থাৎ তারা মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। এদের বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণও কম। লাইফলাইন গ্রাহকের অনেকেই দিনমজুর। এদের জন্য টিআইএন করা হয়রানিমূলক ও অমানবিক।

শহরাঞ্চলের কিছুসংখ্যক গ্রাহকের টিআইএন থাকলেও গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের টিআইএন নেই বললেই চলে। ডিও লেটারে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের আর্থিক সঙ্গতি বিবেচনা করে প্রস্তাবটি রহিত করা একান্ত প্রয়োজন।

ডিও লেটারে আমদানি করা এলএনজির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সব ব্যয় বিবেচনায় নেয়ার পর প্রতি ঘনমিটারের ক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৯ টাকা। আর প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের তাড়িত গড় বিক্রয়মূল্য ৭.১৭ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ঘনমিটার এলএনজির আমদানির বিপরীতে ঘাটতি হচ্ছে ৩১.৮৩ টাকা। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হারকে ডাবল ডিজিটে উন্নীত করতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ প্রয়োজন। বিষয়গুলো বিবেচনা করে ভ্যাটের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।

এ ছাড়া ১০০০ এসএমসিএফডি এলএনজি আমদানির বিপরীতে ২ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। এতে বছরে ব্যয় হবে প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা। কিন্তু পেট্রোবাংলা একটি অমুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠান। এলএনজি আমদানি পর্যায়ে উৎসে আয়কর সমন্বয়ের সুযোগ নেই। ফলে অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করতে গিয়ে পেট্রোবাংলাকে তারল্য সংকটের মুখে পড়তে হবে। এতে এলএনজি আমদানি ব্যয় মেটানোর ক্ষেত্রে উৎসে পরিশোধিত করের সমপরিমাণ অর্ধঘাটতি দেখা দেবে।

ডিও লেটারে বলা হয়েছে, গ্যাস উৎপাদনে ব্যবহৃত আমদানি করা কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য করা না হলে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কারণ বর্তমানে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। এসব অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদেশ থেকে অনেক মেশিনারিজসহ উপকরণ আমদানি করতে হচ্ছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস ও গ্যাসীয় পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০০ শতাংশ রহিত করার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে ডিও লেটারে। সেখানে বলা হয়েছে, এলএনজি যখন পাইপলাইনে যাবে তা প্রাকৃতিক গ্যাস হিসেবেই যাবে। ওই সময় এই শুল্কারোপ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায় প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর শতভাগ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে ভবন নির্মাণে জ্বালানিসাশ্রয়ী ইনসুলেটিং ম্যাটেরিয়াল লো ইউডি গ্লাসের শুল্ক হ্রাস করা হলে জনগণ এসব পণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×