যানজটের দায় নিতে নারাজ চট্টগ্রাম বন্দর

সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান সংবাদ সম্মেলনে

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বন্দর

বন্দরকেন্দ্রিক ভয়াবহ যানজটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করলেও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দায় নিতে নারাজ। বন্দরের ‘অবহেলা’ ও ‘উদাসীনতায়’ দুই সপ্তাহ ধরে যানজট হচ্ছে বলে পুলিশ ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ তা মানতে নারাজ। তবে যানজট নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বন্দর চেয়ারম্যান বলেছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থার দুর্বলতা, সঠিক সময়ে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি না নেয়া, এলিভেডেট এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ, ওয়াসার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, বিকল্প সড়ক না থাকাসহ নানা কারণে যানজট হচ্ছে। যানজট নিরসনে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। লিখিত বক্তব্যে আজিজ বলেন, নগরীতে ১০-১২ দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে বন্দরের বাইরে বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে বন্দরসংলগ্ন সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়কে বড় বড় গর্তের কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।

বন্দরে ট্রাক, ট্রেইলার ও কাভার্ডভ্যান ঢোকার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বন্দরের বাইরে যানজটের সৃষ্টি হয়। কোনো অবস্থাতেই বন্দরের কারণে সৃষ্টি হয়নি। কারণ এ সময় বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি চার হাজার টিইইউএস’-এর (টুয়েন্টি ইক্যুইভেলেন্ট ইউনিটস) কম ছিল। অথচ এর আগে বন্দরের ভেতরে-বাইরে ১১ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলেও সড়কে এমন যানজট হয়নি।

বন্দর চেয়ারম্যান আজিজ বলেন, পোর্ট কানেকটিং (পিসি) সড়ক সংস্কার, বারিক বিল্ডিং থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত ওয়াসার পাইপলাইন ও সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য মূল সড়ক সঙ্কুচিত হয়ে পড়ায় যানজট বেড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন শহরের জন্য প্রস্তাবিত দু’টি রিং রোড জরুরিভাবে বাস্তবায়ন করা। আগ্রাবাদ এক্সেস রোড-বড়পুল-আনন্দবাজার-ইপিজেড সড়ক এবং জিইসি-সাগরিকা-ভেড়িবাঁধ সড়ক রিং রোড দুটি নির্মাণ করা হলে শহরের চিত্র বদলে যাবে। শহরের লাইফলাইন খ্যাত এয়ারপোর্ট-আগ্রাবাদ-লালখানবাজার-বহদ্দারহাট সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে। একই সঙ্গে যানজট নিরসনে বন্দরের বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। সদরঘাট থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ওয়াটার ওয়ে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও জানান, বন্দরে প্রতিদিন সাত হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্রেইলার ঢোকে। আইএসপিএস কোডের শর্ত অনুযায়ী এসব গাড়ি, চালক ও সহকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) জাফর আলম ও সচিব ওমর ফারুকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে চিঠি দিয়ে বন্দরকেন্দ্রিক যানজটে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরে চট্টগ্রাম চেম্বার ও বিজিএমইএ। একইভাবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশও এ যানজটের জন্য বন্দরের অবহেলা ও উদাসীনতাকেই দায়ী করে। মূলত এসব কারণে শনিবার চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×