কুবি ছাত্রলীগ নেতার হুমকি

গুলি করব বুলেট সাংবাদিক চেনে না

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কুবি প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কর্মরত সাংবাদিকদের গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হাসান হিমেল। সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার সামনে শুক্রবার রাতে এ হুমকি দেন তিনি। এ সময় সহ-সভাপতি মো. রাইহান ওরফে জিসান দলবল নিয়ে সাংবাদিকদের মারতে তেড়ে আসেন।

কাজী নজরুল ইসলাম হল ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ছাত্রলীগের জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে রাত পৌনে ১০টার দিকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে এলে মার্কেটিং বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শোয়েব হাসান হিমেল সাংবাদিকদের গালাগাল শুরু করেন। সাংবাদিকরা কেন সেখানে এসেছে জানতে চেয়ে চিৎকার করতে থাকেন, সাংবাদিকদের চলে যেতে বলেন। যুগান্তর প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তানভীর সাবিক এর প্রতিবাদ করেন। তখন হিমেল বলেন, ‘গুলি করব। বুলেট সাংবাদিক চেনে না। সাংবাদিক পাইলেই গুলি করে মারব।’

হিমেলের সঙ্গে থাকা ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাইহান ওরফে জিসান সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সমকাল প্রতিনিধি আবু বকর রায়হানকে মারার জন্য দলবলে তেড়ে আসেন। এ সময় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা তাদের নিবৃত্ত করেন।

এ বিষয়ে শনিবার হিমেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে প্রথমে অস্বীকার করেন তিনি। পরে বলেন, ‘আমি রাগের মাথায় এটা বলেছি। আমার কাছে কালকে (শুক্রবার) কোনো অস্ত্র ছিল না।’ আর জিসান দাবি করেন, ছেলেপেলেরা উত্তেজিত ছিল, আমি কিছু করিনি।

এর আগে সন্ধ্যায় এক সাংবাদিকের চোখ তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন হিমেল। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ‘হিমেল ওই হলের ৫০২ নম্বর কক্ষে কয়েকজনকে নিয়ে রাতভর মাদকের আসর বসান। কক্ষের সামনে দিয়ে হাঁটলেই নেশা দ্রব্যের গন্ধ পাওয়া যায়।’ এর আগে ১০ এপ্রিল এ ছাত্রলীগ নেতা প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সিনিয়র এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করেন, তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ নিয়ে ১৪ এপ্রিল ছাত্রলীগ থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল, তবে অজানা কারণে এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

জিসানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। গভীর রাতে কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৫০৬ নম্বর কক্ষে মাদকসেবীদের নিয়ে আসর বসান তিনি। কয়েক মাস আগে অতিরিক্ত মদ্যপানে অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল তাকে। গেল সপ্তাহে বণিক বার্তার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে ‘মইরা গেলে কবরে গিয়া হইলেও দুইডা কোপ দিয়া আসমু’ বলে হুমকি দেন।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ এক নেতা বলেন, ‘হিমেল ও জিসান মাদকাসক্ত। তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ইমেজ ক্ষুণœ হচ্ছে। তবে তারা দু’জন মাদকাসক্তির অভিযোগ অস্বীকার করেন। জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘সাংবাদিকদের হুমকি দেয়ার দায় ছাত্রলীগ নেবে না। তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া ছাত্রলীগের আদর্শ বিরোধী।’ মাদকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসন যদি কোনো ব্যবস্থা নেয় সেক্ষেত্রে ছাত্রলীগ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রসংগঠন, সাংবাদিক ও আমরা সবাই মিলে ব্যবস্থা নেব। প্রক্টর হিসেবে নয়, শিক্ষক হিসেবেও আমি এমন ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।’