ছেলে ধরা সন্দেহ

১৪ জেলায় ২৭ জন গণপিটুনির শিকার

মৌলভীবাজার ও কেরানীগঞ্জে ২ জনের মৃত্যু

  যুগান্তর ডেস্ক ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ১৪ জেলায় পাঁচ নারীসহ ২৭ জন গণপিটুনির শিকার হয়েছেন।

নওগাঁয় ছয় জেলেসহ সাতজন, কুমিল্লায় নারীসহ তিনজন, পাবনায় এক নারীসহ তিনজন, টাঙ্গাইলে তিনজন, বগুড়ায় দু’জন, লালমনিরহাটে এক নারী, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে এক যুবক, মৌলভীবাজারে রিকশাচালক, নাটোরে এক যুবককে, দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে একজন, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় এক যুবক, নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক নারী ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক বৃদ্ধা গণপিটুনিতে আহত হয়েছেন। এদিকে কেরানীগঞ্জে শুক্রবার গণপিটুনিতে মারাত্মক আহত আরেকজন রোববার রাতে মারা গেছেন।

লালমনিরহাটে ছেলে ধরা সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে পুলিশের এক এসআই আহত হয়েছেন। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কেরানীগঞ্জে গণধোলাইয়ের শিকার আরেকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মারা যান। ঢামেক সূত্র জানায়, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে দুই যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তাদের গণপিটুনি দেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

সেখানে একজন মারা যায়। অন্যজনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ এবং ওই এলাকার ইউপি মেম্বার নিত্য সরকার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি বলেন, প্রথমে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। তার পরিচয় জানা যায়নি।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা-বাগানে ছেলে ধরা সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। দেওড়াছড়া চা-বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি সুবোধ কুর্মী জানান, চা-বাগান এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে একজনকে আটক করেন স্থানীয়রা।

কিন্তু ওই ব্যক্তি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলায় ছেলে ধরা সন্দেহে তাকে চা-বাগান অফিসে নেয়া হয়। এ সময় শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে অফিসে ঢুকে তাকে পিটুনি দেন। এতে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, লোকটি অন্য এলাকার হওয়ায় শ্রমিকরা তাকে আটক করে নাম-পরিচয় জানতে চান। কিন্তু তিনি সঠিক জবাব দিতে না পারায় ছেলে ধরা সন্দেহে তাকে গণপিটুনি দেয়া হয়।

এতে তিনি গুরুতর আহত হলে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি মারা যান। তার পরিচয় না পাওয়া গেলে সদর হাসপাতালের পক্ষ থেকে লাশটির সৎকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাত ৩-৪শ’ জনকে আসামি করে পুলিশ মামলা করেছে।

মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের পৌর শহরের চাঁদনীঘাট এলাকায় রোববার দুপুরে ছেলে ধরা সন্দেহে রিকশাচালক চন্দন পালকে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ আহত চন্দনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। চন্দন জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবির এলাকার কালিপদ পালের ছেলে। মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে চন্দন তার এক আত্মীয়কে খুঁজতে এসেছিলেন।

নওগাঁ : ছেলে ধরা সন্দেহে মান্দা উপজেলায় ছয় জেলেসহ সাতজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। রোববার সকালে মহানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন আবুল কালাম (৫৫) ঘোরাঘুরি করলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। এরপর তাকে গণপিটুনি দেয়া হয়।

অপরদিকে, ছেলে ধরা সন্দেহে ছয় জেলেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কুসম্বা ইউনিয়নের বুড়িদহে সনজিতের পুকুরে ছোট মাছ ধরার চুক্তিতে যান ছয় জেলে। কিন্তু জেলেরা গোপনে তিনটি বড় মাছ ধরে বস্তায় ভরে রাখেন।

বস্তায় কী আছে তা সনজিৎ দেখতে চাইলে জেলেরা না দেখিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পাড়ার লোকজন ছেলে ধরা সন্দেহে তাদের ধরে গণপিটুনি দেন। তারা হলেন : ছকিমুদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, রফাত আলী মণ্ডলের ছেলে তাসলাম হোসেন, ভোলা মণ্ডলের ছেলে সাইফুল ইসলাম, মোবারক আকন্দের ছেলে আবদুল মজিদ আকন্দ, মনছের আলীর ছেলে আনিছুর রহমান।

তাদের সবার বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার খাগড়া গ্রামে। অন্যজন হলেন ফারাতপুর গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে রেজাউল করিম। তাদের উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, মাছ শিকারের জালসহ জেলেদের থানায় আনা হয়েছে। তাদের বাড়ি সদর উপজেলায়।

লালমনিরহাট : শনিবার রাতে শহরের কলাবাগান কলোনিতে মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) এক নারীকে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গেলে লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এ সময় ছুড়ে মারা ঢিলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিল্লুর রহমান সামান্য আহত হন। নারীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। কিছু দিন ধরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় তাকে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) : শনিবার রাত ৯টার দিকে জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামে যুবক আফজাল হোসেনকে ছেলে ধরা সন্দেহে আটক করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের পুরাতন গদিগাঁও গ্রামের আবদুল মতলিব মিয়ার ছেলে আফজাল (২৬)। রাতে মতিন মিয়ার বাড়ির এক নারী বাড়ির পাশে অন্ধকারে এক অপরিচিত যুবককে দেখতে পান। পরিচয় জানতে চাইলে ওই যুবক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ওই নারী চিৎকার করলে এলাকাবাসী তাকে আটক করেন।

জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, আটক যুবক মানসিক রোগী। তাকে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতেই পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে গেছে।

কুমিল্লা : রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের ধুতিয়া দীঘির পাড় এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে মহিলাসহ তিন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আটককৃতরা হলেন : আবদুস সালাম (৭৫), রত্না বেগম (৪০) ও আনোয়ার হোসেন (৩০)। সবাই জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেজোড়া গ্রামের বাসিন্দা।

আমড়াতলী ইউপি চেয়ারম্যান মো. কাজী মোজাম্মেল হক জানান, আমড়াতলী স্কুলের পাশের একটি বাড়ির সামনে একটি ছোট শিশুকে ওই তিনজন ডাক দিলে ছেলে ধরা সন্দেহে এলাকাবাসী তাদের আটক করে গণপিটুনি দেন। পুলিশ দ্রুত তাদের উদ্ধার করে। কোতোয়ালি মডেল থানার ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই তপন কুমার বাগচী জানান, তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

পাবনা : পাবনায় ছেলে ধরা সন্দেহে এক নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে রোহিঙ্গা জহুরুল (৩০) ও জিয়া উদ্দিন (৩৫) এবং ভাড়াড়া ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রাম থেকে সোনিয়াকে (২৩) উদ্ধার করা হয়।

সোনিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর গ্রামের মো. মঞ্জুরের মেয়ে। পুলিশ জানায়, সোনিয়া ভিক্ষুক এবং দুই রোহিঙ্গা মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে। তারা নিজেদের নাম ছাড়া আর কিছু বলতে পারে না।

পাবনা থানার ওসি (অপারেশন) হাফিজুর রহমান জানান, দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার ভাড়াড়া ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রামে ভিক্ষা করতে গেলে সোনিয়াকে ছেলে ধরা সন্দেহে গ্রামবাসী আটক করে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

ওসি হাফিজুর রহমান আরও জানান, একইভাবে বেলা ১টার দিকে জহুরুল ও জিয়াউদ্দিনকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার রাজাপুরে ঘোরাফেরা করতে দেখে ছেলে ধরা সন্দেহে গ্রামবাসী তাদের আটক করে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

সাঁথিয়া (পাবনা) : সাঁথিয়ায় বোরকা পরিহিত নারীর ছুরিকাঘাতে ৭ম শ্রেণির ছাত্র আতিকুর রহমান (১৩) আহত হয়েছে। তাকে সাঁথিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ গুজবে উপজেলার সব স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। পুলিশের দাবি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।

ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের ঘুঘুদহ গ্রামের ইয়াকুবের ছেলে আতিক ক্ষেতুপাড়া আবদুস সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বাইসাইকেলে রওনা দেয়। পথিমধ্যে চরমাছখালি পাথরঘাটায় বোরকা পরিহিত এক নারী তাকে থামিয়ে ব্যাগ থেকে ছোরা বের করে। ছোরা দেখে আতিক চিৎকার দেয়। ছোরার আঘাতে আতিকের বাম কেটে যায়। তার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ওই নারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

টাঙ্গাইল ও কালিহাতী : ছেলে ধরা সন্দেহে শহরের শান্তিকুঞ্জ মোড়, সদর উপজেলার কান্দিলা ও কালিহাতী উপজেলার সয়া পালিমা গ্রামে তিনজন গণপিটুনি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার সকালে সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের কান্দিলা বাজারে আকাশ (৪২) নামে একজনকে গণপিটুনি দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। আকাশের বাড়ি গাজীপুরে।

দুপুরের দিকে কালিহাতী উপজেলার সয়াপালিমা গ্রামে গণপিটুনির শিকার হন অজ্ঞাত এক যুবক। তাকেও পুলিশ উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এছাড়া শনিবার রাত ১১টার দিকে শহরের শান্তিকুঞ্জ মোড়ে গণপিটুনির শিকার একজনকে পুলিশ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার এসআই এসএম ফারুকুল ইসলাম জানান, সিএনজিতে করে দুই শিশুকে নিয়ে যুবককে যেতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এরপর ওই যুবককে গণপিটুনি দেয়া হয়। খবর পেয়ে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নাটোর : শহরের তালতলা এলাকায় এক যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখে এলাকাবাসী ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। নাটোর থানার ওসি কাজী জালাল উদ্দিন জানান, যুবকটি মানসিক প্রতিবন্ধী। তবে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

দিনাজপুর : চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের নানিয়াটিকর গ্রামে বৃদ্ধ মিরু মিয়া পুরাতন চটের বস্তা নিয়ে ঘোরাঘুরি করলে এলাকার লোকজন ছেলে ধরা সন্দেহে তাকে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ মিরুকে আটক করে। আটক মিরু কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আবদুল হাইয়ের ছেলে। চিরিরবন্দর থানার ওসি মো. হারেসুল ইসলাম জানান, মিরু অর্ধ-পাগল।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ছেলে ধরা সন্দেহে যুবক রবিউলকে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। তবে যুবকটি মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের গফুর মোল্লাপাড়ায় গিয়ে রবিউল গ্রামের আজাদের মেয়ে নদীকে (৮) ইশারা করে। নদী কাছে এলে সে তার মুখ চেপে ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটির মা ঘটনাটি দেখতে পান। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে রবিউলকে ধরে মারধর করে। এরপর তাকে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আ. গণি মণ্ডলের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

বগুড়া : সদরের শাখারিয়ার তিলেরপাড়ায় ও সান্তাহারে ছেলে ধরা সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেয়া হয়েছে। তাদের একজন হল বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে আফজাল হোসেন (৪২)। অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

সদর থানার এসআই নুরে আলম জানান, রোববার বিকাল ৬টার দিকে অজ্ঞাত এক যুবক (২৭) সদরের শাখারিয়া ইউনিয়নের তিলেরপাড়ায় এক শিশুর সঙ্গে কথা বলে। এ সময় শিশুটি ভয়ে বাড়িতে গিয়ে জানায়, তাকে ছেলে ধরা নিয়ে যেতে এসেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসীরা যুবককে পিটুনি দেয়।

ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল জলিল তাকে উদ্ধার করে পরিষদে নিয়ে যান। তিনি জানান, যুবকটি মানসিকভাবে অসুস্থ। এদিকে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান জানান, রোববার সকাল ১০টার দিকে আফজাল লোকো কলোনি এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় ছেলে ধরা সন্দেহে স্থানীয়রা তাকে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। আফজাল মানসিকভাবে অসুস্থ।

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) : কলমাকান্দায় ছেলে ধরা সন্দেহে মাহফুজা বেগম (৫০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে নারীকে পিটিয়ে আহত করছে স্থানীয় লোকজন। শুক্রবার রাতে উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের বাউশাম বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ভবঘুরে ওই নারী কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মালাখোলা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী।

খারনৈ ইউনিয়নের বাউশাম বাজারে ওই নারীকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ছেলে ধরা সন্দেহে তাকে লোকজন পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল করিম জানান, ভবঘুরে ওই নারীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) : আড়াইহাজারে ছেলে ধরা সন্দেহে এক বৃদ্ধাকে (৫৫) গণপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী। রোববার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সদর পৌরসভার মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা পরিষদ মসজিদের আশপাশে বৃদ্ধাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়।

পরে ছেলে ধরা সন্দেহে তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। তার নাম রাবেয়া খাতুন। আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, ওই নারী মানসিক প্রতিবন্ধী। গোপালদী পৌরসভার মোল্লারচর গ্রামে তার বাড়ি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×