পাঠক টানছে লোকজ সাহিত্য

  হক ফারুক আহমেদ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাঠক টানছে লোকজ সাহিত্য
বইমেলা ২০১৮ এর একটি দৃশ্য

বাংলার মাটি আমাদের শেকড়। তার কথা আমরা সাহিত্যে নানাভাবে পাই। লোকজ বিষয়কে ধারণ করে রচিত হয়েছে গল্প, কবিতা, গান, নাটক, ছড়া। রয়েছে লোকজ সংস্কৃতির ইতিহাস। পাশাপাশি সাধক বাউলদের জীবনী, দর্শন, কর্ম নিয়েও লেখালেখি চলছে অবিরাম।

মাটির গন্ধমাখা ও শেকড়সন্ধানী এসব সৃষ্টিকর্ম, বই মানুষকে খুব টানে। তবে অন্যান্য বইয়ের তুলনায় লোকজ ধারার বইয়ের কাটতি মেলায় কম। প্রকাশকরা জানালেন, মেলায় কম হলেও এই ধরনের বইয়ের পাঠক সারা বছর পাওয়া যায়। এমনকি বছরের নানা সময়ে লোকজ ধারার বই প্রকাশও হয়।

আজ মেলার শেষ শুক্রবার। মেলার দ্বার খুলবে বেলা ১১টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। অন্যান্য শুক্রবারের মতো আজও বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকছে শিশুপ্রহর।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ ও সমন্বয় উপবিভাগ থেকে গ্রন্থমেলায় আসা নতুন বইয়ের যে ক্যাটাগরি করা হয়, তাতে লোকজ সাহিত্য নামে কেনো বিভাগ নেই।

তাই মেলায় এ ধারার কী পরিমাণ বই প্রকাশ হয়েছে, তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মেলার বাংলা একাডেমির ফোকলোর, জাদুঘর ও মহাফেজখানা বিভাগ, মেলার বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন ও স্টল ঘুরে জানা গেছে, লোকজবিষয়ক ১৫টির বেশি নতুন বই প্রকাশ হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশ হয়েছে সালাউদ্দীন আইয়ুব রচিত ‘দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের রূপকথা: আনন্দলোক ও মতাদর্শ’, ইউসুফ হাসান অর্কের ‘বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য পালাগান: আদিক বিচার ও বর্ণনাকারীর অবস্থান অনুসন্ধান’। বাংলা একাডেমি থেকে এসেছে এ বিষয়ে ইংরেজি গ্রন্থ ‘সোশ্যাল চেঞ্জ অ্যান্ড ফোকলোর’।

বইটির প্রধান সম্পাদক শামসুজ্জামান খান এবং সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ ও শাহিদা খাতুন। অন্বেষা প্রকাশন থেকে এসেছে মতনোজবিকাশ দেবরায় রচিত ‘শ্রীনরোত্তম দাস ঠাকুরের পদ ও পদাবলী’ ও মোহাম্মদ শেখ সাদী রচিত ‘লোকসাধক মনোমোহন দত্ত ও মলয়াসঙ্গীত; য়ারোয়া থেকে মুহম্মদ আকবরের সম্পাদনায় ‘উকিল মুন্সি: প্রামাণ্য পাঠের সন্ধানে’ ও শহীদুল্লাহ ফরায়জীর ‘চন্দ্র সূর্য যত বড় দুঃখ তার সমান’; শোভা প্রকাশ থেকে এসেছে আবু ইসহাক হোসেনের ‘বাংলা লোকগান’ ও ড. মন্টু বিশ্বাসের ‘লোক সংস্কৃতি নানা দৃষ্টিতে; চারুলিপি এনেছে আমিনুর রহমান সুলতানের ‘লোকগানের কবিতা’; পাঞ্জেরী এনেছে শাকুর মজিদের নাটকের বই ‘হাছনজানের রাজা’, কাকলী এনেছে সফিয়ার রহামানের ‘গ্রামবাংলার লোকরস’, অনিন্দ্য এনেছে মোহাম্মদ সা’দাত আলীর ‘নরসিংদীর লোকজ ঐতিহ্য ভাষা ও সংস্কৃতি’ ও মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠানের ‘নরসিংদীর লোককবি’, আবিষ্কার এনেছে সঞ্জয় সরকারের ‘নেত্রকোনার লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি’।

এছাড়াও ঐতিহ্য থেকে প্রকাশ হতে যাচ্ছে ড. মো. আবদুল ওহাবের ‘রাজশাহীর লোককবি’ ও মাহবুব কবিরের ‘উকিল মুন্সীর গান’র পরিবর্তিত সংস্করণ।

লোকজ ধারার বইয়ের পাঠক ও কাটতি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খান যুগান্তরকে বলেন, ‘লোকজ ধারার বইয়ের পাঠক সব শ্রেণীর মানুষ। এ ধারার বইয়ের কাটতিও বেশ ভালো। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত লোকজ ধারার বইয়ের পাঠক দেশে যেমন, তার চেয়ে বেশি ভারতে। বিশেষ করে আামদের লোকজ সংস্কৃতির ইতিহাসের বইগুলো দেখে ওরা রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

এ ধরনের কাজগুলো করতে পারছি কারণ এ বিষয়ে গবেষণার কাজগুলো আমরা গুছিয়ে এসেছি। আর বাংলা একাডেমির বাইরে বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে লোকজ ধারার যে বইগুলো প্রকাশ হয়, সেগুলোও মানের দিক থেকে বেশ ভালো।’

অন্বেষা প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘লোকজ ধারার বইয়ের কাটতি মেলায় কিছুটা কম হলেও এ বইগুলো সারা বছরই বিক্রি হয়। পাশাপাশি এ ধরনের বই একটি প্রকাশনার মর্যাদা অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়।’

দুই দিনের আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন শুরু : বাংলা একাডেমির আয়োজনে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনের আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। ‘দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্য’ শিরোনামের এ সাহিত্য সম্মেলনের প্রথম দিনে চারটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও সন্ধ্যায় সম্মেলন মঞ্চে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। আজ আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের শেষদিনে আরও দুইটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনকালে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকালে ছিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. ফকরুল আলম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের অনুবাদক ও গবেষক রাধা চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ঔপনিবেশিক বাস্তবতা দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষকে যেমন স্বাধীনতার অদম্য স্পৃহা দান করেছে, তেমনি এ অঞ্চলের লেখকদের মাঝে নতুন সাহিত্যিক রূপরীতি অনুসন্ধানের মানস গঠন করেছে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য বিষয়ে ভারতের লেখক অরুণা চক্রবর্তী এবং বাংলাদেশের ড. ফিরদৌস আজিমের আলাপচারিতা। তারা বলেন, সাহিত্যিককে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে নবায়ন করে নিতে হয়। চারপাশের মুহুর্মুহু পরির্বতনকে আত্মস্থ করতে হয় এবং ইতিবাচক দৃষ্টিতে জীবনকে অবলোকন করতে হয়।

এরপর ছিল ‘দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন রিফাত মুনিম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, শ্রীলংকার সাহিত্যিক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক জিবি দিশানায়েক, কলম্বিয়ার কথাসাহিত্যিক আন্দ্রেজ মাউরিসিয়ো মুনজ এবং খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।

বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্যিকরা যেমন শিল্পমান সম্পর্কে সচেতন, তেমনি মানুষের অধিকারের কথা নতুনতর গদ্যরীতিতে পরিস্ফুট করছেন।

এরপর ছিল ‘দক্ষিণ এশিয়ান থিয়েটার’বিষয়ক আলোচনা পর্ব। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন রামেন্দু মজুমদার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফি আহমেদ, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ এবং ভারতের নাট্যজন অংশুমান ভৌমিক। বক্তারা বলেন, বিশ্বের শৈল্পিক উত্তরাধিকারকে বহন করে দক্ষিণ এশিয়ার নাটকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনছবি, নারীদের জীবনসংগ্রাম এবং সর্বতমুখী বৃত্ত ভাঙার প্রয়াসে ঋদ্ধ।

সন্ধ্যায় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এবার পুরস্কার পেয়েছেন কানাডাপ্রবাসী কবি মাসুদ খান এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কবি মুজিব ইরম। পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকার চেক, পুষ্পস্তবক, সনদ এবং ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির তথ্য কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার মেলার ২২তম দিনে ১০৩টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে কাকলী থেকে এসেছে সেলিনা হোসেনের ‘একুশের রক্তপলাশ’, পুথিনিলয় থেকে অরুণ মৈত্রের ‘জয়তু একাত্তর’, গদ্যপদ্য থেকে কাজী সাইফুল ইসলামের ‘জলবাতাসী’, য়ারোয়া থেকে মুহম্মদ আকবরের সম্পদনায় ‘উকিল মুন্সি: প্রামাণ্য পাঠের সন্ধানে’, অনন্যা থেকে হাসান হাফিজের ‘একুশের গল্প’ ও আসমা আব্বাসীর ‘গোলাপের ঘুম ভেঙে যায়’, কথাপ্রকাশ এনেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর ‘জয় বাংলা বলোরে ভাই’, ছায়াবিথী এনেছে ধ্রুব এষের ‘জারুল গাছের বন্ধুরা’, বাংলাপ্রকাশ এনেছে সাইদ জামানের ‘ব্রাজিল’, পলল এনেছে অনুপম হায়াতের ‘চলচ্চিত্রবিদ্যা’ ও বিমল গুহের ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’।

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা-২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×