খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ড

রায় ‘পরিবর্তনের অভিযোগ’ আইনজীবীদের

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তবে দুদক প্রসিকিউশন মনে করেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের এমন অভিযোগ সঠিক নয়। আদালত রায়ে যা লেখবেন- তা সবাইকে মানতে হবে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সানাউল্লাহ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, বিচারক রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ডের বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি। কিন্তু আমরা যখন সার্টিফায়েড কপি হাতে পেলাম, তখন সেখানে খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ডের বিষয়টি লক্ষ্য করি। এ বিষয়টি নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছে। বিচারক আদালতে অর্থদণ্ড না ঘোষণা দিলেও রায়ের কপিতে তা (অর্থদণ্ড) বলেছেন। এখন আর আমাদের কিছু করার নেই।

খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, রায় ঘোষণার আগেই তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঘোষণা দেয়া হয়। রায় ঘোষণার পর তা (রায়) আর পরিবর্তন-পরিবর্ধন করার সুযোগ নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে রায় ঘোষণার পরও অনেক কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী মো. জাকির হোসেন ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, রায় ঘোষণার সময় (৮ ফেব্রুয়ারি) খালেদা জিয়ার সামাজিক ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আদালত তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। কোনো আর্থিক জরিমানা করেননি। কিন্তু রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর তাতে দেখা গেছে, খালেদা জিয়াকেও অন্য আসামিদের সঙ্গে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। আর এজন্যই ‘রায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধিত হয়ে এসেছে’ বলে আমরা দাবি করি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত দুদকের মামলায় যে পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ হয়, প্রমাণ হলে ওই পরিমাণ টাকা জরিমানা হিসেবে বিবাদী পক্ষকে দিতে হয়। জরিমানা কমও নয়; বেশিও নয়। এটাই আইনে আছে। অতএব খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। আদালত রায়ে যা লেখবেন সেটাই আমাদের মানতে হবে।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া ১৬ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়, যা মামলার অপর ৫ আসামির সঙ্গে খালেদা জিয়াকেও সমভাবে প্রদান করতে হবে। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর কারাবন্দি হিসেবে বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।