রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা: বাবা একেএম মুসাসহ চার জনের সাক্ষ্য

  ফেনী প্রতিনিধি ৩০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নুসরাত জাহান রাফি
নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় তার বাবা একেএম মুসাসহ চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সোমবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে সাক্ষ্য দেন তারা।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি পিপি হাফেজ আহাম্মদ ও বাদীর আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে বাদীসহ ৬১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (আজ) ডা. সোহেল মাহমুদ, ডা. প্রদীপ বিশ্বাস, ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, ডা. আবু তাহের, ডা. আরমান বিন আবদুল্লাহ, ডা. মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম, ডা. একেএম মনিরুজ্জামান ও অর্চনা পাল জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার কথা রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, সাক্ষ্যে নুসরাতের বাবা একেএম মুসা বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মেয়ে প্রথম ২ দিন কথা বলতে পারত। কিভাবে তার গায়ে আগুন দেয়া হয়েছে সে আমাদের বলেছে। সে বলেছে, পরীক্ষা দিতে হলে প্রবেশ করলে অধ্যক্ষের ভাগনি তুহিন তাকে জানায় সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিশাতকে কারা যেন মারছে।

এটা শুনে ছাদে গিয়ে বোরকা, হাতমোজা ও চশমা পরা চারজনকে দেখতে পায়। তাদের একজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে তাকে চাপ দেয়। সে মামলা তুলবে না বলতেই তার মুখ চেপে ধরে হাত-পা বেঁধে ফেলে। একজন তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

তাদের গলার স্বর চেনা লাগলেও পুরোপুরি চিনতে পারেনি। তবে তারা একজনকে শম্পা বা চম্পা বলে ডাক দেয় বলে জানায় সে। পরে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে নয়টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মেয়ে মারা যায়।

নুসরাতের জেঠাতো ভাই মুহাম্মদ আলী সাক্ষ্যে বলেন, ৬ এপ্রিল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে আমার বড় ভাই ওমর ফারুক ফোন দিয়ে জানায়, নুসরাতের গায়ে কে বা কারা আগুন দিয়েছে। আমি দ্রুত হাসপাতালের গেটে গিয়ে জানতে পারি তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলা হয়। আমি নোমান, রায়হান ও আমার চাচিসহ তাকে ঢাকায় নিয়ে যাই।

নুসরাতের দূরসম্পর্কের মামা সৈয়দ আলম বলেন, ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা আটকের পর তার অনুগত শাহাদাত হোসেন শামীম, নুর উদ্দিনসহ আরও অনেকে তার মুক্তির জন্য মানববন্ধন করে। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিন ও কাউন্সিলর মাকসুদ আলম মাদ্রাসায় এসে অধ্যক্ষের মুক্তির জন্য ছাত্রছাত্রীদের যা যা করার দরকার তা করতে বলেন।

৬ এপ্রিল মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×