২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২১৭৬

ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে ঢাকার বাইরে

আরও তিনজনের মৃত্যু * ঈদের ছুটিতে ইউনিয়ন পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার নির্দেশ

  মুসতাক আহমদ ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে ঢাকার বাইরে

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কমছেই না। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এখন ডেঙ্গু রোগীতে ঠাসা। হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার শুক্রবার কিছুটা কমলেও শনিবার তা আবার বেড়েছে। এর মধ্যে গত ৩ দিন ধরে ঢাকার বাইরে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ২১৭৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আরও ৮৭৬৩ জন। ফলে নতুন রোগীসহ শনিবার দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪২০ জনে।

এছাড়া আরও তিনজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বেসরকারি হিসাবে চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭-এ। যদিও সরকারি হিসাবে ১ জানুয়ারি থেকে মৃতের সংখ্যা ২৯ জন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু রোগীর যে সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তা আরও বেশি। কারণ প্রায় প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক রোগী হাসপাতালে সিট (শয্যা) না পেয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন। বাসায় অবস্থান করেই নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন ডেঙ্গু রোগীরা।

এছাড়া প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এসব কারণেই সরকারি ও বেসরকারি হিসাবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় অনেক তারতম্য থাকছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুসংক্রান্ত বুলেটিন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ৩ দিন ধরে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ ৭ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার তুলনায় রাজধানী ঢাকায় রোগীর সংখ্যা ছিল বেশি। সেদিন ২৪২৬ রোগীর মধ্যে ঢাকায় ছিলেন ১২৭৫ জন।

আর ঢাকার বাইরে ছিলেন ১১৫৩ জন। কিন্তু পরদিনই (৮ আগস্ট) ঢাকার বাইরের রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। ওই দিন ঢাকায় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া রোগী ছিলেন ১১৫৯ জন আর ঢাকার বাইরে ১১৬৭ জন। ঢাকার বাইরে রোগী বৃদ্ধির এ ধারা গত দু’দিনও অব্যাহত ছিল।

৯ আগস্ট ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪৭ জন আর ঢাকার বাইরে এ সংখ্যা ১০৫৫ জন এবং ১০ আগস্ট (শনিবার) ঢাকায় ১০৬৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ১১১১ জন।

ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাইরে রোগী বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ঈদের ছুটিতে মানুষ রাজধানীসহ বড় শহরগুলো ছেড়ে গ্রামে ফিরে গেছেন। এ কারণে ডেঙ্গু রোগের বিস্তার গ্রামাঞ্চলেও ঘটতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে সরকারও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ১৯টি সাধারণ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এতে ঈদের সময়েও ডেঙ্গু হেল্পডেস্ক চালু ও ডাক্তারদের রোস্টার করে হাসপাতালে উপস্থিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু নির্ণয়ে সব টেস্ট করার ব্যবস্থা রাখা, ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত রাখা, জরুরি সব সেবা নিশ্চিত, ব্লাড ব্যাংক সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা, অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো খোলা রাখতে হবে। ডেঙ্গু রোগীদের ছাড়পত্র দেয়ার সময় বিপজ্জনক দিকগুলো বুঝিয়ে দিতে হবে।

ভিন্ন এক নোটিশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং এর অধীন দফতর ও সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি : স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২০০২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। অপরদিকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগী ২১৭৬ জন। সেই হিসাবে আগের দিনের তুলনায় শনিবার সারা দেশে ১৭৬ রোগী বেশি ভর্তি হয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালে।

বিপরীত দিকে শুক্রবার দিনে ও রাতে রোগীদের হাসপাতাল ত্যাগের হার বিগত ৩ দিনের মধ্যে ছিল সর্বনিু। যেখানে ৮ আগস্ট ২২৬৮ রোগী ছাড়পত্র নিয়েছেন, সেখানে ৯ আগস্ট ২০০৪ জন এবং শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৫১৯ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন। অথচ ঈদ সামনে রেখে রোগীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার হার বেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৬৪ জেলার মধ্যে এ মুহূর্তে ৬০টিতেই ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। হাসপাতালে রোগী ভর্তির বিচারে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুপ্রবণ ১১টি জেলা হচ্ছে- বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, ঢাকা, বগুড়া, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও খুলনা। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন বরিশালে, ৯৮ জন। এছাড়া ময়মনসিংহে ৫৭, কুমিল্লায় ৪৬, কিশোরগঞ্জে ৪৫, চাঁদপুরে ৪৪, ঢাকায় ৪১, বগুড়ায় ৩৭, ফরিদপুরে ২৬, মানিকগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে ২৫ জন করে এবং খুলনায় ২৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৮৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার সকাল ৮টা নাগাদ সারা দেশে ৯ হাজার ৪২০ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে ঢাকার ৪০টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৫ হাজার ২৫৮ জন এবং জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন হাসপাতালে বাকি ৪ হাজার ১৬২ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সংখ্যা ২৭৭ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২২৬ জন, খুলনায় ১২৬ জন, বরিশালে ১৭৮, রাজশাহীতে ১১৪, ময়মনসিংহে ৮৭, রংপুরে ৭১ এবং সিলেটে ৩২ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যদিও বেসরকারি সূত্রগুলোর মতে ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিনজনের মৃত্যু : যুগান্তর প্রতিনিধিদের প্রতিবেদন অনুযায়ী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শনিবার আরও তিনজন মারা গেছেন। তারা হলেন- বরিশালে রুশা নামে ১০ বছরের এক শিশু, সাতক্ষীরায় শরিফা খাতুন (৩৫) নামের এক গৃহবধূ এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুরে হারুনুর রশীদ নামে (২৬) এক যুবক।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ১০ বছরের রুশা সকাল ১০টার দিকে মারা গেছে। এর আগে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে ঝালকাঠীর রাজাপুরের রুহুল আমীনের মেয়ে।

শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকীর হোসেন জানান, রুশার পরিবার ঢাকায় থাকে। ঢাকায় অবস্থানকালেই সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়। গত ২ দিন আগে রুশার পরিবার সড়ক পথে রাজাপুরের গ্রামে বাড়ি আসে। পথিমধ্যে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল নগরীর বেসরকারি রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাত ৮টায় রুশাকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরপরই তার লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান স্বজনরা। এ নিয়ে গত প্রায় ১ মাসে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জন এবং জেলার গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক রোগীর মৃত্যু হয়।

পার্বতীপুর প্রতিনিধি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন পার্বতীপুরের হারুনুর রশিদ (২৬) নামে এক যুবক। শনিবার ভোর রাতে অ্যাম্বুলেন্সে তার লাশ দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার কালীকাবাড়ী গ্রামে এসে পৌঁছায়। তার বাবার নাম শমসের আলী। হারুন ওয়াল্টন কোম্পানির গাজীপুর শাখায় চাকরি করতেন।

হারুনুর রশিদের বন্ধু আরিফ জানান, ৭-৮ দিন আগে হারুন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন। বেতন না হওয়ায় যথাযথ চিকিৎসা নিতে পারছিলেন না। শুক্রবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে একই ভাড়া বাড়িতে বসবাসরত অন্যান্য বন্ধু একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে গ্রামের বাড়ি পার্বতীপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

পথিমধ্যে টাঙ্গাইলের আশপাশে কোনো এক স্থানে তার মৃত্যু হয়। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হারুন। হারুনের অকাল মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। গেল রমজানের ঈদের একদিন পরে তার বিয়ে হয়েছিল। হাতের মেহেদি না শুকাতেই স্বামীহারা হল তার স্ত্রী।

ডেঙ্গুর করালগ্রাস কেড়ে নিল একটি তাজা প্রাণ। হারুনুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল বাড়ির আঙ্গিনায় পড়ে আছে মৃতদেহ। মা মরিয়ম খাতুন ও বাবা একমাত্র উপার্জনক্ষম চাকরিজীবী সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে সে ছিল বড়।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরায় শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শরিফা খাতুন (৩৫) নামের এক ডেঙ্গু রোগী। তিনি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার টাউন শ্রীপুর গ্রামের মজনুর রহমানের স্ত্রী।

তবে সাতক্ষীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটি ডেঙ্গু নয় বলে দাবি করেছেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে আজ পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায় মোট ১২২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ভর্তি আছেন ৪৩ জন।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চিত্র : শেকৃবি প্রতিনিধি ইমরান খান জানান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে মোট ডেঙ্গু রোগী ৪৫০ জন। শিশু ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ৭৫ জন। কিন্তু ভর্তি হয়েছে ১৭০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ৭৮ জন। এ বছর হাসপাতালটিতে সর্বমোট ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৭১০ জন। সুস্থ হয়ে ফিরেছে ১২৬০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের।

হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এইচএম নাজমুল হাসান যুগান্তরকে জানান, ৮শ’৫০ রোগীর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৬০০ রোগীকে নিয়মিত চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছি। আগের তুলনায় রোগী বাড়লেও আতঙ্ক অনেকটাই কমে এসেছে। কারণ এখন তাড়াতাড়ি ডেঙ্গুর রোগীরা সুস্থ হয়ে ফিরতে পারছে।

ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি : বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৩৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয় ৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫২ জন, নারী ২৬ জন ও ২০ জন শিশু। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া ৩২ জনের মধ্যে পুরুষ ১১ জন, নারী ১৭ জন এবং ৪ শিশু।

রংপুর ব্যুরো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১১১ জন। শনিবার সকালে এ তথ্য জানান রমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক একেএম শাহাদুজ্জামান।

এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার রিয়ানা আকতার নামে তিন বছরের এক শিশু মারা গেছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত নতুন করে ৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে এক শিশুসহ ২৭ জন চিকিৎসাধীন আছে। এ নিয়ে হাসপাতালে ৭১ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঈদের কারণে এই চাপ আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ধরনের রোগী চিকিৎসা না নিয়ে গ্রামেগঞ্জে চলে গেলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, রাঙ্গামাটিতে কিছু দিনের ব্যবধানে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ জন। তাদের মধ্যে ১৮ জন রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি গেছেন। রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

ডেঙ্গু মোকাবেলায় সারাদেশে প্রস্তুতি : এদিকে ঈদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভর্তি সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় সরকারও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ৮ আগস্ট জারি করা এক পরিপত্রে বলেছে, ঈদের দিন কেবল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক ছুটি থাকবে। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। এতে জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপনসহ ৫ দফা এবং জেলা হাসপাতালগুলোর জন্য ৬ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালের জন্য ৫ দফা নির্দেশনা আছে পরিপত্রে। তাতে ঈদের ছুটিতেও সীমিত আকারে আউটডোর সার্ভিস চালু রাখতে বলা হয়েছে।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শনিবার অত্যাধুনিক ৩৪ বেডের ডেঙ্গু ওয়ার্ড উদ্বোধন করেছেন টাঙ্গাইল-৫ সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোশারফ হোসেন খান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নারায়ণ চন্দ্র সাহা, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নুরুল আমিন মিয়া, টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. শহীদুল্লাহ কায়সারসহ অন্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ জন ডেঙ্গু রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় শনিবার পর্যন্ত ৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বরিশাল ব্যুরো জানায়, ছুটির দিনেও ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতা ও মশক নিধনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রেখেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন।

ডেঙ্গুতে আতঙ্ক না হয়ে সচেতন হোন এই স্লোগান নিয়ে শনিবার সকাল ১০টা থেকে এই অভিযানে অংশ নেয় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন উপজেলায়। রাজশাহী ব্যুরো জানায়, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)।

এরই অংশ হিসেবে ডেঙ্গু সংক্রান্ত যেকোনো সহায়তায় রাসিক’র উদ্যোগে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কন্ট্রোলরুমে ২৪ ঘণ্টায় দায়িত্বরতা দায়িত্ব পালন করবেন। এ সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজন অথবা সহযোগিতায় ০১৭৬০৪০০০৫২, ০১৭৭৯৫৪১২৬৩, ০১৭৫৪১২২৫৫২, ০১৭২৭৮৬৪১৪৬, ০১৮৬২৩৭৩৩৬৬ এবং ০১৯১৪৩২৭৫৫৫ ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ভয়ংকর ডেঙ্গু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×