জ্বর না হলে সবাই নির্ভয়ে বাড়ি যেতে পারেন

  অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বর না হলে সবাই নির্ভয়ে বাড়ি যেতে পারেন

সামনে ঈদ আসছে। এ নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। মানুষজন বাড়ি যাবে কি না। এ মুহূর্তে এটা খুব বার্নিং ইস্যু।

কারও যদি মনে হয় তার ডেঙ্গুজ্বর হয়েছে, তাদের না যাওয়াই ভালো। কারণ, ডেঙ্গু আক্রান্তরা গ্রামে গিয়ে হয়তো সঠিক চিকিৎসা না-ও পেতে পারেন। তবে যারা ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়ে ভালো হয়ে গেছেন তাদের যেতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ, তাদের শরীরে কোনো ভাইরাস থাকে না।

তাই গ্রামে গিয়ে ভাইরাস ছড়ানোর কোনো আশঙ্কা নেই। পাঁচ লাখ লোক গ্রামে যাবে- এটা সারা দেশে ছড়িয়ে দেবে বলে যে শঙ্কা করা হচ্ছে, এটা সঠিক নয়। এটা ছড়ানোর কোনো ঝুঁকিই নেই।

তবে কোনো রোগী যদি ভাইরাস বহন করে গ্রামে যান তবে তাকে মশারিসহ প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিতে হবে। আসলে গ্রামে সেভাবে এডিস মশা নেইও। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। সড়ক ও লঞ্চ দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায় বলে কেউ কি বাস ও লঞ্চে চড়া বন্ধ করে দেন? তাই বাড়ি যাওয়া নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

সবাই নির্ভয়ে বাড়ি যেতে পারেন। অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডেঙ্গু নিয়ে আরও বিভ্রান্তি রয়েছে। এগুলো দূর করতে হবে। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন এটা আসলে আতঙ্কের রোগ কি না। আমি তাদের আশ্বস্ত করে বলি এটা আতঙ্কের রোগ নয়।

কোনো সিরিয়াস রোগ নয়। যদি সময়মতো চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হয় তাহলে মৃত্যুর আশঙ্কা নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েক হাজার রোগী দেখেছি, কিন্তু আমার হাতে একজন রোগীও মারা যায়নি। শুধু সময়মতো চিকিৎসা নেয়ার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। অনেকে বলছেন, তারপরও তো মানুষ মারা যাচ্ছে। যে কোনো রোগে মানুষ মারা যেতে পারে।

তারপরও বলব, এটা এখনও সিরিয়াস কিছু হয়নি। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, লিভার, কিডনিসহ নানা রোগেও মানুষ মারা যাচ্ছে। তারপরও মানুষ আতঙ্কিত কেন। এর অন্যতম কারণ, মশার মতো একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর কামড়ে মরে যাবে- এটা মানুষ মেনে নিতে পারছে না।

এ কারণেই মানুষ বেশি আতঙ্কগ্রস্ত। মূলকথা হল এতটা আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার মতো রোগ এটা নয়। তারপরও এত রোগী মারা যাওয়ার কারণ হল ডেঙ্গু এবার মডিফাইড হয়ে গেছে। নরম্যাল সিনড্রম পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে জ্বর হলেও পাত্তা দেয় না। কিন্তু হঠাৎ করে সে সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে। কারণ, এবার ধরনটা পাল্টে গেছে। সে জন্য এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

এ জন্য আমি বারবার পরামর্শ দিচ্ছি যে কোনো জ্বর হলেই অবহেলা করবেন না। ডাক্তারের একটা পরামর্শ নিয়ে রাখবেন। ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে পরীক্ষা করে হাসপাতালে ভর্তি করাবে। তাই জ্বর হলে ঘরে বসে থাকবেন না। এটা হল জরুরি।

অনেকের মনেই প্রশ্ন- আসলে কি এটা মহামারী? সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে এটা মহামারী নয়। মহামারী বলার সুযোগ নেই। অধিকসংখ্যক লোক আক্রান্ত হলেই তা মহামারী।

কিন্তু সেরকম পরিস্থিতি এখনও হয়নি। মহামারী নয় আমরা সর্বোচ্চ বলতে পারি, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। মহামারীর পর্যায়ে না গেলেও এটা নিয়ে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।

ইদানীং দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন হাসপাতালের সামনে লম্বা লাইন। পরীক্ষার জন্য ভিড় করছে। কিন্তু এভাবে হাসপাতালে ভিড় করার প্রয়োজন নেই। কারণ, এদের বেশিরভাগ ডেঙ্গু রোগী নয়। এ ভিড়ের কারণে ডেঙ্গু ছাড়া অন্য রোগীদের সমস্যা হচ্ছে। তাই বলব, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কেউ পরীক্ষা করতে যাবেন না। কারও যদি ডেঙ্গুজ্বর হয়েও থাকে তাদের নব্বই ভাগ রোগীই ঘরে বসে চিকিৎসা নিতে পারেন। অযথা হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই। ডাক্তার যদি প্রয়োজন মনে করে ভর্তি করাবেন। কারও বমি হওয়া, রক্ত পড়া, প্রচণ্ড ব্যথা, হার্ট, কিডনি, লিভারের সমস্যা থাকলে কিংবা গর্ভবতী হলে তাদের অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

ডেঙ্গুর চিকিৎসা সম্পর্কে বলব, অনেকের ব্যথা ও জ্বর হলে ফার্মেসিতে গিয়ে নানা ধরনের ওষুধ কিনে খান। তাদের জন্য পরামর্শ হলো প্যারাসিটামল ছাড়া ব্যথানাশক কোনো ওষধ খাবেন না। এমনকি ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিকও খাবেন না। অনেকে বলে, নারিকেল তেল দিলে নাকি মশা কামড়ায় না। পেঁপে পাতার রস খেলে নাকি এ রোগ হয় না। মানুষ গোসল করে তেল তো এমনি দেয়।

আসলে নারিকেল তেল মাখলে মশা কামড়ায় না- এটার বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা নেই। কেউ গোসলের পর তেল মাখেন সমস্যা নেই। নাকে তেল দিয়ে ঘুমান কিন্তু তার আগে প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিতে হবে।

মশারি টানানো, স্প্রে করা, লম্বা জামা পরা, মোজা পরা- এগুলো বাদ দিয়ে শুধু নাকে তেল দিয়ে ঘুমাইয়েন না। অনেকে পেঁপে পাতার রস খাব কি না, পরামর্শ চাচ্ছেন, তাদের বলব, আগে ডাক্তারের দেয়া পরামর্শমতো চলুন।

তারপর পেঁপে পাতার রস খান আপত্তি নেই। সবশেষ বলব, ডেঙ্গু নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে সেগুলো দূর করতে হবে। এ ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ভয়ংকর ডেঙ্গু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×