কোরবানির পশুর হাট জমজমাট

ভারতীয় গরু কম আসায় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশঙ্কা কম * সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পশু পাওয়ায় খুশি ক্রেতারা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোরবানির পশুর হাট জমজমাট

রাজধানীর পশুহাটগুলো জমজমাট হয়ে উঠেছে। ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে সরব প্রতিটি হাট। বিক্রিও জমে উঠেছে। সহনীয় দামে পছন্দের পশু কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা।

আর প্রত্যাশিত দামে পশু বিক্রি করতে না পারায় বিক্রেতাদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। তবে ভারত ও মিয়ানমার থেকে পশু কম আসায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

পশু ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি নীতি সহায়তার কারণে কয়েক বছর ধরে দেশে বিপুল পরিমাণ গরু, মহিষ, ছাগল পালন করা হচ্ছে। এতে দেশের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে বিদেশি পশু আমদানি অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে। আর এটা করতে পারলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে পশু রফতানি করা যাবে।

শনিবার রাজধানীর বছিলা, হাজারীবাগ, গোলাপবাগ, কমলাপুর, শাহজাহানপুর এবং গাবতলী হাট ঘুরে দেখা গেছে, পশু বিক্রি জমে উঠেছে। সাধ্য ও সাধ্যের সমন্বয় হওয়ায় ক্রেতারা বেশ খুশি। বিক্রি জমে ওঠায় বিক্রেতাদের মুখেও হাসি ফুটেছে।

তবে তারা প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বছিলা হাট ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশের জন্য বরাদ্দ খালি জায়গা, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ খালি জায়গা এবং বছিলা সিটির পরিত্যক্ত জমি ও সড়কের দু’পাশে শত শত গরুর সারি।

পছন্দের পশু কিনে ট্রাকে বা দড়ি ধরে ক্রেতাদের দৌড়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। বছিলার ওয়াশপুরের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির ও তার চার বন্ধু মিলে বছিলা হাট থেকে একটি ষাঁড় কিনেছেন ৯০ হাজার টাকায়।

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে গরুর দাম কিছুটা কম। হাটে দেশি গরুর সমাগম হয়েছে। পছন্দের গরু কিনতে পারায় আমরা খুশি। হাজারীবাগ জিগাতলার হাট প্রসারিত হয়েছে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাটে পাবনার বেড়ার সিরাজুল ইসলাম একটি গরুর দাম হাঁকেন ৭৫ হাজার টাকা। ১০-১৫ মিনিট দামদর করার পর ৫৫ হাজার টাকায় গরুটি কেনেন সিকদার মেডিকেল এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন। এ বিষয়ে বিক্রেতা সিরাজুল যুগান্তরকে বলেন, ‘ভাই, হাটে এত গরু। কোনোরকম খরচ উঠিয়ে গরুটি বিক্রি করে দিলাম।’

গরুর দাম বুঝতে পুরান ঢাকার গোলাপবাগ এবং কমলাপুর হাট ঘুরে দেখেছেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা আবদুল মালেক। শনিবার দুপুরে যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘ভাই দুদিন হাট ঘুরে মনে হলও শুক্রবারের চেয়ে শনিবার গরুর দাম কিছুটা কমেছে। ৩৫-৪০ হাজার টাকায় ছোট গরু পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ৫০, ৬০, ৭০ হাজার টাকায় মাঝারি ধরনের গরু মিলছে। আর ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বড় গরু পাওয়া যাচ্ছে।’

দুদিন থেকে শাহজাহানপুর হাট ঘুরে পশুর দরদাম যাচাই করে পশু কিনেছেন দক্ষিণ শাহজাহানপুরের বাসিন্দা প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘ভাই শুক্রবার রাতে যে গরু এক লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখেছি, সেই গরু আজ (শনিবার) কিনলাম ৯৫ হাজার টাকায়। রোববার গরুর দাম আরও কমবে বলে মনে হচ্ছে।’ উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নেসারুল ইসলাম শনিবার মেরাদিয়া পশুহাট থেকে একটি ষাঁড় কিনেছেন ৬৫ হাজার টাকায়। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘আফতাবনগরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে মনে হয়েছে মেরাদিয়া হাটে গরুর দাম কম। গত বছর এমন গরু ৮৫ হাজার টাকায় তিনি কিনেছেন। এবার সব হাটেই গরুর দাম তুলনামূলক কম বলে মনে হচ্ছে।’

দেশের সর্ববৃহৎ পশুহাট গাবতলীতেও বিক্রি জমে উঠেছে। হাটভর্তি পশু, ক্রেতার উপস্থিতিও অনেক। গাবতলী হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য সানোয়ার হোসেন জানান, ‘বিক্রি জমে উঠেছে। শুক্রবার থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত অনেক গরু বিক্রি হয়েছে। ক্রেতার উপস্থিতি বাড়ছে, আশা করি রোববার দুপুরের মধ্যে বেশিরভাগ গরু বিক্রি হয়ে যাবে।’

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত হাটের বাইরেও পাড়ামহল্লার খালি জায়গায় গরু বিক্রি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। অনেকে হাটের ঝামেলা এড়াতে এসব অবৈধ হাট থেকেও গরু কিনছেন। মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকার বাসিন্দা মকছেদুল কামাল যুগান্তরকে বলেন, এবার কোরবানির জন্য পশু কিনতে হাটের ঝামেলা এড়াতে টাউন হল এবং আশপাশের এলাকা থেকে গরু কিনতে চাচ্ছি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু স্পটও ঘুরে দেখেছি, এসব জায়গায়ও ভালোমানের পশু পাওয়া যাচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×