দেশকে পরনির্ভরশীল করার চক্রান্তে সরকার : মির্জা ফখরুল

খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে না পারা দুর্ভাগ্য

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জা ফখরুল
মির্জা ফখরুল। ফাইল ছবি

সরকার দেশকে ‘পরনির্ভরশীল করার চক্রান্তে’ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চামড়া নিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারই অংশ।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলে তিনি এমন মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে না পারা দুর্ভাগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, কোরবানি ঈদের পর যে চামড়া আসে, যার মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি, সেটাকে এই সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। একসময় পাটশিল্প ধ্বংস করা হয়েছে, আজ ধ্বংস করা হচ্ছে চামড়াশিল্প। সুদূরপ্রসারী যে ষড়যন্ত্র, যে চক্রান্ত বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করার, সেই কাজ বহুদূর এই সরকার এগিয়ে নিয়ে গেছে। তারা শুধু জনগণের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে তা-ই নয়, দেশকে পরনির্ভরশীল করার জন্য সেই চক্রান্তে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশের যত উন্নয়ন, তার ভিত্তি বিএনপি সরকারগুলোর আমলেই হয়েছে- এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা অনেক কথা বলেন। উন্নয়নের ফুলঝুরি দেন। কিন্তু প্রতিটি উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তারপর সেই উন্নয়ন ধাপগুলো এগিয়ে নিয়ে গেছেন খালেদা জিয়া।

আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় বাকশাল প্রবর্তন করেছিল মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সব গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দল তো বটেই, অর্থনীতিকেই তারা বন্ধ করে ফেলেছিল। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নামে লুটপাট করে জনগণের এমপ্লয়মেন্ট বাড়ানোর পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ সেই নেত্রীকে ইচ্ছাকৃতভাবে তারা কারাগারে আটক করে রেখেছে। কারণ তিনি যদি বাইরে থাকতেন, তাহলে দেশের অর্থনীতিকে যে পরনির্ভরশীল করে ফেলা হচ্ছে, অর্থনীতিকে ফোকলা করে ফেলা হচ্ছে- সেটা সম্ভব হতো না।

সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে একে একে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা হয়েছে বিচার বিভাগের। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আজ একেবারেই নেই। এই ফ্যাসিস্ট সরকার, অনির্বাচিত সরকার, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন সরকার আজ বিচারব্যবস্থাকে করায়ত্ত করে নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। একইভাবে দেশনেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখেছে।

খালেদা জিয়ার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় এই দোয়া মাহফিল হয়। ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি এই কর্মসূচি পালন করছে। দোয়া মাহফিলে খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘজীবন কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন নেতাকর্মীরা।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম। অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, জয়নুল আবদিন ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নুরে আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, ওবায়দুল ইসলাম, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ইশরাক হোসেন, নিপুণ রায় চৌধুরী, বজলুল করীম চৌধুরী আবেদ। অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেইন, সাইফুল আলম নীরব, মোরতাজুল করীম, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদির ?ভুঁইয়া জুয়েল, আবুল কালাম আজাদ, এসএম জাহাঙ্গীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বর্ণাঢ্য জীবন তুলে ধরে ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের জন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয় রাজপথে। তিনি স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের পথে-প্রান্তরে জনগণকে সংগঠিত করেছেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, একজন গৃহবধূ যিনি রাজনীতি সম্পর্কে একেবারেই অনভিজ্ঞ ছিলেন।

যখন তার ওপর এসে পড়ে, তখন সেই দায়িত্ব সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়িত করার জন্য তিনি সমগ্র সময় এবং তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই নেত্রী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু কারাবরণই করেননি, তার সবচেয়ে প্রিয়জনদেরও হারিয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া শুধু আন্দোলনই করেননি, ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম করে স্বৈরাচারকে পরাজিত করে জনগণের একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং সেই সরকার প্রতিষ্ঠা করার পর তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য কাজ করেছেন। তিনি শুধু দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই করেননি, তিনি দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে একটি একটি করে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

দ্বিতীয়বারের মতো তিনি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসেন, তখন দেশকে ১০ বছরের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন এবং সেই উন্নয়নের যে ভিত্তিগুলো, তা তিনিই তৈরি করে দিয়ে গেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অসুস্থ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে না পারা আমাদের দুর্ভাগ্য। আইন-আদালতের ভূমিকা কী, সেটা আমরা জেনে গেছি। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা এমন কিছু করতে পারছি না যে নেত্রীকে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মুক্ত করতে পারব।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের সুসংগঠিত হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আসুন, এই দিনে তার দীর্ঘায়ু কামনা করে তার মুক্তির জন্য নিজেদের সংগঠিত করি এবং আন্দোলন বেগবান করি। তার জন্মদিনে এটাই হোক আমাদের শপথ।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বিকালে গুলশান কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে দোয়া পাঠ করেন।

একই সঙ্গে দেশবাসীরও কল্যাণ কামনা করেন তারা। মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, জয়নুল আবেদিন ফারুক, বিজন কান্তি সরকার, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×