শিক্ষকের বুকের ওপর পা তুলে চাঁদা চাইলেন সেই অধ্যক্ষ

  রাজশাহী ব্যুরো ২০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জহুরুল আলম রিপন
জহুরুল আলম রিপন। ফাইল ছবি

রাজশাহীতে শিক্ষকের বুকের ওপর পা তুলে চাঁদা চাইলেন বিতর্কিত ও আলোচিত অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপন। প্রতিশোধ নিতেই অধ্যক্ষ এ ধরনের আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক রায়হানুল ইসলাম।

১৫ আগস্ট বেলা ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাপাসিয়ায় মহানগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণের বঙ্গবন্ধু কর্নারে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় রোববার বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক। এ ছাড়াও তিনি মহানগরীর কাটাখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

শিক্ষক রায়হানুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেন, অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপনের বিরুদ্ধে কলেজের এক শিক্ষিকাকে ধর্ষণ চেষ্টার ও কয়েকজন ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জানাজানি হয়।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষ রিপনের বিচার ও শাস্তির দাবিতে পুরো কলেজ ও স্থানীয় কাউন্সিলরসহ কাপাসিয়া এলাকার বাসিন্দারা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে মানববন্ধন ও তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। এসব কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। মাসব্যাপী চলা এ আন্দেলনের বিষয়টি সে সময় রাজশাহীর সব স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়।

ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই অধ্যক্ষ ১৫ আগস্ট তার বুকের ওপর পা তুলে গালিগালাজ করেন এবং বলেন, তোর কাছে ৭৫ হাজার টাকা পাব। টাকা না দিলে হাত-পা ভেঙে দেয়া হবে এবং শরীরের মাংস কেটে টাকা পরিশোধ করে নেয়া হবে।’ টাকা না দেয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে আসবি না বলে হুমকি দেন অধ্যক্ষ। একই কায়দায় অধ্যক্ষ রিপন আরও কয়েকজন শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপনের মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে চাচ্ছি না। আমার ব্যাপারে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। এর বেশি কিছু আমি বলতে চাই না।

জানতে চাইলে পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ বলেন, শিক্ষকের দেয়া অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কাটাখালী থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, শিক্ষকের জিডি থানায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি নিজ অফিস কক্ষেই এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা চালান অধ্যক্ষ রিপন। এ নিয়ে ৩১ জন শিক্ষক ও কর্মচারী অধ্যক্ষের অপসারণ ও অপকর্মের বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পবার ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

পরে আরেক ছাত্রী গত বছরের ৮ মার্চ নারী ও শিশু নির্যতন দমন আইনে অপহরণ ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন। ওই মামলায় পরের দিন গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ রিপন।

এরপর ওই বছরেরই ১৩ মার্চ বরখাস্ত হন। এ মামলায় কারাবাসও করেন তিনি। মামলাটি চলমান অবস্থাতেই এ বছরের ২১ মার্চ আবারও তাকে অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহাল করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×