টার্গেট ঈদের যাত্রী: লঞ্চঘাটে এখনও সক্রিয় টিকিট কালোবাজারিরা

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো ২০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লঞ্চঘাট
লঞ্চঘাট। ফাইল ছবি

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে কর্মস্থল রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ছুটছে মানুষ। সরকারি ছুটি শেষ হওয়ার কয়েকদিন পরও কর্মস্থলে ফিরতে লঞ্চের টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে।

একটি টিকিটের জন্য এক কাউন্টার থেকে তারা ছুটছেন অন্য কাউন্টারে। কিন্তু সব কাউন্টার থেকে জানানো হচ্ছে টিকিট নেই। বাধ্য হয়ে ডাবল টাকা দিয়ে টিকিট ব্ল্যাকারদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে কেবিনের টিকিট। প্রশাসন টিকিট কালোবাজারি রোধে হাঁকডাক দিলেও নীরবে সক্রিয় টিকিট কালোবাজারিরা।

সরেজমিন সোমবার বরিশাল লঞ্চঘাটে দেখা গেছে, রাজধানীমুখী যাত্রীদের ঢল এখনও কমেনি। তাই তো সোমবারও বরিশাল ঘাট ছেড়ে গেছে ১৬টি বিলাসবহুল লঞ্চ। কিন্তু এরপরও টিকিট পাচ্ছেন না যাত্রীরা। বন্দরের সামনের সড়কে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে প্রশাসন।

পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, আনসার, ভলান্টিয়াররা ব্যস্ত যাত্রী নিরাপত্তা দিতে। তারপরও নানা দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন যাত্রীরা। আর পন্টুনের ভেতরের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। সেখানে হাজার হাজার যাত্রী অবস্থান করছেন।

এর মাঝে বন্দরে যাত্রীবেশে বেশ কয়েকজন টিকিট কালোবাজারিকেও তৎপর দেখা গেছে। প্রায় প্রতিটি লঞ্চে চাদর বিছিয়ে রেখেছেন লঞ্চ স্টাফরা। টিকিট ছাড়াই ওই চাদরের স্থান থেকে স্টাফরা যাত্রী প্রতি হাতিয়ে নিচ্ছেন ১০০ থেকে ২০০ টাকা।

যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, দালালরা কেবিন দিতে পারলেও লঞ্চ কোম্পানিগুলো কোনো টিকিটই দিতে পারে না। যার কারণে কেবিনের টিকিটের দাম দ্বিগুণ চায় দালালরা। আর ডেকেও স্থান পাওয়া কঠিন।

দেখা গেছে, অধিকাংশ লঞ্চে যাত্রী চাপ বেশি। লঞ্চগুলোর ডেকেও যাত্রী বেশি। আর কেবিনের সম্মুখ দখলের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে অনেককে। কথা হয় জহিরুল ইসলাম নামে এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ঈদ উৎসব পালন করে কর্মস্থলে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

কিন্তু বরিশালের অধিকাংশ লঞ্চ কাউন্টারে গিয়েও টিকিট পাননি। তিনি জানান, কাউন্টার থেকে জানানো হয়- ঈদের আগেই টিকিট শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু লঞ্চঘাটে এসে তিনি একটি ডাবল টিকিট পেয়েছেন। তবে টিকিটটি কিনতে হয়েছে তাকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে।

তিনি বলেন, টিকিট যদি নাই, তবে আমি কিভাবে এই টিকিট পেলাম। টার্মিনালের বাইরে শুধু নিরাপত্তা দিলেই হয় না, টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়েও কাজ করা উচিত সংশ্লিষ্টদের। কথা হয় মো. জুয়েল নামে বাবুগঞ্জ থেকে আসা অপর এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, টিকিট পাচ্ছি না।

অবশ্য ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন বাড়তি দামে কেবিনের টিকিট কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন ঝালকাঠির বিনয়কাঠি থেকে আসা রাসেল হাওলাদার নামের একজন। তিনি বলেন, ভেতরে ভেতরে টিকিট নিয়ে তৎপর দালালরা।

জানা গেছে, লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে এ কালোবাজারিদের সখ্য রয়েছে। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ টিকিট না পেলেও তারা টিকিট নিয়ে ব্ল্যাকে বিক্রি করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক টিকিট কালোবাজারি জানান, কয়েকটি লঞ্চ থেকে তারা টিকিট পান।

বিশেষ করে পারাবত, কালাম-১ নামের লঞ্চে। আর যেসব লঞ্চ থেকে তারা টিকিট পান না। সেখানে সাধারণ যাত্রী সেজে নিয়ম অনুসারেই বেশ আগে টিকিট কেটে রাখেন, এরপর শেষ মুহূর্তে তা বিক্রি করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, লঞ্চের কিছু কিছু স্টাফের সঙ্গে কালোবাজারিদের যোগাযোগ থাকতে পারে। তাদের মাধ্যমেই তারা টিকিট সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু এ বিষয়েও আমরা অনেক কঠোর। যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তবে সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরিশাল নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, আমরা প্রতি বছরের চেয়ে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিচ্ছি। টিকিট কালোবাজারি রোধেও আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।

অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, যাত্রী নিরাপত্তাকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। যার কারণে আমাদের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন ঘাটে।

এছাড়া র‌্যাব-পুলিশের বিশেষ টিম দেখছে নিরাপত্তার বিষয়গুলো। ঘাটে আর্চওয়ে গেটের মাধ্যমে নিরাপত্তা তল্লাশিরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওভারলোড ও টিকিট কালোবাজারি রোধেও আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কোনোভাবেই টিকিট কালোবাজারিদের ছাড় দেয়া হবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×