বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়া নয় আ’লীগ নেতারাই জড়িত: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: যুগান্তর

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার নেপথ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নয় বরং আওয়ামী লীগের নেতারাই জড়িত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত- সরকারের মন্ত্রীদের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘকাল ধরেই তারা এই ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছেন।

এটা ধ্রুবতারার মতো সত্য, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি কোনো মতেই কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ইতিহাসে তা প্রমাণিত। বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে জড়িত ছিল আওয়ামী লীগের লোকেরাই। যারা পরে সরকার গঠন করেছে, পার্লামেন্টে গেছে।

বিএনপি কোরবানির পশুর চামড়া কিনে ফেলে দিয়েছে- শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, সরকারের জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তাই চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

চামড়ার দর নিয়ে সিন্ডিকেট করে কারসাজি করা হয়েছে। কোথাও জনগণের প্রতিনিধি নেই বলেই এ ধরনের অর্বাচীনের মতো কথা বলা ছাড়া তাদের তো আর কোনো কিছু করারও নেই। নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই চামড়ার বাজারে অস্থিতিশীল অবস্থা নিয়ে বিএনপিকে জড়িয়ে অর্বাচীনের মতো বক্তব্য দিচ্ছে সরকার।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবৈধ সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। এখন তারা অর্থনীতি ধ্বংসের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের একমাত্র লক্ষ্য দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা, সব রাজনৈতিক দলকে বিরাজনীতিকরণের মধ্যে নিয়ে যাওয়া।

তারা এখানে প্রভুত্ব করতে চায়। যেটা এই বাংলার মাটিতে কখনোই সম্ভব হবে না, এই দেশের মানুষ কখনোই তা মেনে নেবে না। দেশের জনগণ অবশ্যই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করবে। অতীতের মতো জনগণ আরও একবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্করের বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে ফখরুল বলেন, আমরা গত ১০-১২ বছরে শুনলাম- আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পর্ক সুউচ্চ পর্যায়ে আছে। তো এখন পর্যন্ত তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাইনি।

সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি। বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ করার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আমাদের কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। যেটা হয়েছে, ভারতের সমস্যার সমাধান হয়েছে। সেজন্য আমরা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছি না।

ত্রিপুরায় বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য ভারত সরকারের বাংলাদেশের কাছে জমি চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ খবর আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত এটাতে রাজি হয়নি। রাজি হওয়ার প্রশ্নই নেই। কারণ আমার দেশের জমি অন্য কাউকে দেয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ফজলুল হক মিলন, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সপু, আবদুল আউয়াল খান, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, তাবিথ আউয়াল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী, যুবদলের সাইফুল আলম নীরবসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×