সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ১১১ সুপারিশ

বাস্তবায়নে শক্তিশালী টাস্কফোর্স হচ্ছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়কের সভা
ছবি: সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনা, যানজট দুর্ভাবনা ও দুশ্চিন্তাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদার ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে শক্তিশালী টাস্কফোর্স করা হবে।

৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় সুপারিশ বাস্তবায়ন ও টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ ও দুর্ঘটনা রোধে গঠিত কমিটির প্রধান সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ১১১টি সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

এ সময় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ কমিটির কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্ঘটনা-যানজট জাতীয় দুর্ভাবনা হয়ে গেছে। এটা আসলেই দুশ্চিন্তার বিষয়। নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যথেষ্ট ভাবাচ্ছে। মুখে অনেক কিছুই আমরা বলি এবং অনেক রিপোর্টই হয়েছে কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। সুপারিশ করে কোনো লাভ নেই; যদি বাস্তবায়ন না হয়। আমরা ভাষণের চেয়ে অ্যাকশনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি বলেন, প্রতিবেদনে শক্তিশালী টাস্কফোর্স করার প্রস্তাব এসেছে।

সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন আইনের বিধি ও প্রবিধি প্রণয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী বৈঠক করেছিলেন, কয়েক দফা আলোচনা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশে আছেন। তিনি আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

এ আইন বাস্তবায়নে কোনো বাধা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাস্তবায়নের আগে কী করে বলব বাধা আছে কি না! এ ধরনের কাজে চ্যালেঞ্জ থাকবে, চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতেই হবে। সেই কমিটমেন্ট থাকলে কোনো বাধা আর বাধা থাকবে না। ভিন্ন প্রশ্নে তিনি বলেন, আইনগত বিষয়টি ঠিক রেখে কীভাবে এডজাস্টমেন্ট করা যায়, কারও সঙ্গে শত্রুতা আমন্ত্রণ করতে চাই না, আইনের ভেতরে যতটা এডজাস্টমেন্ট একোমোডেশন করা যায় সেটা করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি শাজাহান খানকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি আরও ৮ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে। সাতটি সভা করে কমিটি তিন ক্যাটাগরিতে ১১১টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে আশুকরণীয় ৫০টি, স্বল্পমেয়াদি ৩২টি ও দীর্ঘমেয়াদি ২৯টি সুপারিশ রয়েছে।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার যেসব কারণ উঠে আসে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলের পরিবেশ, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকের অসতর্কতা, সড়ক নির্মাণে প্রকৌশলগত ত্রুটি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতর বা সংস্থার যথাযথ দায়িত্ব পালনে অনীহা, যাত্রী ও পথচারীসহ সবার অসচেতনতা অন্যতম।

সুপারিশগুলোর মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০টি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা ও শিক্ষা, প্রকৌশল (সড়ক), প্রকৌশল (যানবাহন), আইন প্রয়োগ ও বিধিবিষয়ক এবং অন্যান্য। এছাড়া ২০২১ সাল পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ৩২টি এবং ২০১৯-২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে ২৯টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সংস্কৃতিকর্মী রোকেয়া প্রাচী, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহাবুবুর রহমান, এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রধান কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×