বিএনপির গঠনতন্ত্র মানা হচ্ছে না

বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি তিন বছরেও হল না

বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি গঠন নিয়ে গড়িমসি

  তারিকুল ইসলাম ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি

বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের তিন বছর পার হলেও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক উপকমিটিগুলো গঠন করা হয়নি। পেশাজীবীদের সঙ্গে দলীয় নেতাদের সেতুবন্ধ জোরদার এবং দলীয় কার্যক্রমে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ২৭টি উপকমিটি গঠনের কথা রয়েছে।

এর অংশ হিসেবে ১৩টি কমিটি চূড়ান্ত করা হলেও শেষ পর্যন্ত অনুমোদন না দেয়ায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনের কাজ চলছে। বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি গঠনের কাজও এগোচ্ছে। বেশ কয়েকটি উপকমিটি গঠনও করা হয়েছিল। কিন্তু অনুমোদন দেয়া হয়নি। দলের গঠনতন্ত্রেও বিষয়ভিত্তিক উপকমিটির বিষয়ে বলা আছে। তাই উপকমিটি তো করতেই হবে।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে জাতীয় সংসদের সংসদীয় কমিটির মতো বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী, অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের উপকমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে পেশাজীবী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করতে চেয়েছিলেন দলটির হাইকমান্ড। এতে একদিকে যেমন সরকারের দুর্বল কৌশল ও দুর্নীতি চিহ্নিত করা যেত, তেমনি ভবিষ্যতে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতো।

কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও সেই সিদ্ধান্ত এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এ কমিটি গঠনের কাজ কিছুটা এগিয়ে গেলেও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় তা আটকে গেছে।

দলের গঠনতন্ত্রের ৬-এর ১৩ উপধারায় বলা হয়েছে- গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে দলের চেয়ারম্যান প্রয়োজন বোধে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দের মধ্য থেকে কয়েকজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন কমিটি অনুমোদন করতে পারবেন। সেসব বিষয়ে উপকমিটি গঠন করা হতে পারে সেসব বিষয় হল- অর্থ ও পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, শিল্প ও বাণিজ্য, নারী ও শিশু, বিজ্ঞান তথ্যপ্রযুক্তি, আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, যুব উন্নয়ন, শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণ, যোগাযোগ ও পরিবহন, এনার্জি ও খনিজসম্পদ, মানবাধিকার, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মুক্তিযুদ্ধ, ক্ষুদ্রঋণ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, সুশাসন ও জনপ্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, গণমাধ্যম, জাতীয় সংহতি ও জাতিগত সংখ্যলঘু। এসব কমিটিতে দলের সদস্য নন অথচ বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শী, যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে বলে গঠনতন্ত্রে উল্লেখ আছে।

দলীয় সূত্র জানায়, দলের কাউন্সিল শেষে এসব বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি গঠনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ কাজ শুরু করেন। তারা ১৩টি উপকমিটি গঠনের কাজ চূড়ান্তও করেন। ১০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে চেয়ারম্যান, কো-চেয়ারম্যান ও বাকিদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়।

এসব কমিটির মধ্যে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক কমিটিতে চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদে যথাক্রমে মেজর (অব.) ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন এবং ব্যারিস্টার তাসমিয়া রহমানকে রাখা হয়। মানবাধিকার কমিটির চেয়ারম্যান পদে ডা. সাখাওয়াত হোসেন শায়ন্ত, কো-চেয়ারম্যান পদে ব্যারিস্টার এজাজ আহমেদ; বন, পরিবেশ ও পানিসম্পদ বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান পদে ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, কো-চেয়ারম্যান পদে ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন; টেলিকমিউনিকেশন বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান পদে রিয়াদ হাসনাইন; শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান পদে ইঞ্জিনিয়ার রেজাউর রহমান স্বপন; স্থানীয় সরকারবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান পদে আহাদ আহমেদ; নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান পদে হারুন অর রশিদ; যোগাযোগবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান পদে ইঞ্জিনিয়ার মিয়া মোহাম্মদ কাইয়ুম; নৌ-পরিবহন ও নৌ-যোগাযোগ কমিটির চেয়ারম্যান পদে ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা; ক্ষুদ্রঋণ ও সমাজকল্যাণ কমিটির চেয়ারম্যান পদে ড. মুহিত; তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান পদে রুবায়েত জামিল এবং তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান পদে মাহমুদা হাবীবাকে রাখা হয়।

উপকমিটিতে থাকা এক নেতা জানান, কমিটি গঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিএনপির নেতারা মৌখিকভাবে বিষয়ভিত্তিক উপকমিটির দায়িত্ব দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো কাগজ দেননি কিংবা সংবাদমাধ্যমেও প্রচার করা হয়নি। এ জন্য আমরা কাজ করতে পারছি না।

এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, লিখিত অনুমোদন না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। আমি মনে করি, এসব কমিটি সক্রিয় করতে পারলে একদিকে যেমন সরকারের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, কুশাসন চিহ্নিত করা যেত তেমনি ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠিত হলে তা পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারত।

জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ যুগান্তরকে বলেন, বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি গঠন প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল। অনেকগুলো উপকমিটি অনুমোদনের জন্য ছিল। কিন্তু গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করা হয়। বর্তমানে আমাদের অনেক চড়াই-উতরাই পাড়ি দিতে হচ্ছে। এ কারণে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি করার পেছনে উদ্দেশ্য হচ্ছে গবেষণামূলক কাজ করা। তিনি আরও বলেন, অনেক মেধাবী লোক আছেন যারা মাঠেঘাটে মিছিল করেন না, কিন্তু দলে অবদান রাখতে চান, তাদের আমরা কাজে লাগাতে চাই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×