চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্ট

ভারতীয় পণ্যবাহী গাড়িতে ই-লকের প্রস্তাব

খসড়া এসওপি নিয়ে আলোচনা করতে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল দিল্লি যাচ্ছে * বাংলাদেশে প্রবেশ থেকে বের হওয়ার সময় সাত দিন

  কাজী জেবেল ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোংলা

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্যবাহী গাড়িতে ইলেকট্রনিক সিল ও লক (ই-লক) ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা আসছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)’-এর প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে বাংলাদেশ। এতে দেশটির পণ্য বাংলাদেশের বন্দরে প্রবেশের পরই এক্স-রে স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করারও বিধান রাখা হয়েছে।

পণ্য যথাসময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সিল ও লক অক্ষত থাকলে কায়িক পরীক্ষা ছাড়াই ছেড়ে দেয়া হবে। সিল ও লক খোলা বা ভাঙা থাকলে কায়িক পরীক্ষা করা হবে। এতে যদি ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাওয়া না যায় তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কাস্টমস আইন, ১৯৬৯ এবং প্রচলিত অন্যান্য আইন ও বিধি প্রয়োগ করা হবে। তবে খসড়ায় ভারতীয় পণ্য আনা-নেয়ার ওপর ফি’র পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। এটি আলাদা কমিটি দিয়ে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বাংলাদেশে প্রবেশের পর বের হওয়ার সময় সাত দিন বেঁধে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক খসড়া এসওপির ওপর ভারতের মত চাওয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক সিল ও লকসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে দেশটি আপত্তির কথা জানিয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করতে আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লি যাওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশ সম্মত হলে তা স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্ত করা হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী অক্টোবরে ভারত সফরে এসওপি স্বাক্ষর হবে কি না, তা ওই সূত্র নিশ্চিত করতে পারেনি।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে এসওপি স্বাক্ষর হবে কি না, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে আমরা খসড়া নিয়ে কাজ করছি। ইলেকট্রনিক সিল ও লক ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি নৌ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব নয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিষয়। তাদের মতামত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ও ভারত। ওই চুক্তির আলোকে এসওপি না হওয়ায় এখনও সুবিধা পায়নি দেশটি। এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরের সময় দু’দেশের মধ্যে সমঝোতাপত্র (এমওইউ) সই হয়।

জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের চারটি রুটে এসব পণ্য চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে আনা-নেয়া করা যাবে। রুটগুলো হচ্ছে : ভারতের আগরতলা থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে চট্টগ্রাম বা মোংলা পোর্ট। এ দুই বন্দর থেকে ভারতের নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাবে। এ ছাড়া ডাউকি থেকে তামাবিল, সুতারকান্দি থেকে শেওলা এবং বিবিরবাজার থেকে শ্রিমান্তপুর হয়ে এই দুই বন্দরে যাতায়াতের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য আনা-নেয়ার খসড়া এসওপির কপি গত ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠিয়েছে ভারত। তিন সদস্যের ‘কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সাব গ্রুপ’ কমিটি কয়েক দফা বৈঠক করে এ খসড়া তৈরি করে। খসড়ার ওপর মতামত নিতে গত মার্চে নৌ মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ভারতীয় পণ্যের নিরাপত্তার ওপর জোর দেয়া হয়।

এমনকি ইলেকট্রনিক সিল ও লক অক্ষত পাওয়া গেলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা এসওপি অন্তর্ভুক্ত করতে মত দেয় এনবিআর। ওইসব মতামত অন্তর্ভুক্ত করে এসওপির খসড়া তৈরি করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। খসড়ার ওপর আলোচনা করতে আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর ‘কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সাব গ্রুপ’ কমিটির তিন সদস্যের দিল্লি যাওয়ার কথা রয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (চুক্তি ও প্রটোকল) মো. মুহিদুল ইসলাম, পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালের ম্যানেজার আহমেদুল করিম চৌধুরী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (শুল্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও চুক্তি) প্রথম সচিব মু. রইচ উদ্দিন খান।

এসওপির খসড়ায় ১৪টি ধারা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ নম্বর ধারায় পণ্য আনা-নেয়ায় কী ধরনের আনুষ্ঠানিকতা পালন ও কাগজপত্র জমা দিতে হবে তার উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কনটেইনারবাহী গাড়ি বাংলাদেশের বন্দরে প্রবেশের পর এক্স-রে স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করে ডিক্লারেশনের (ঘোষণা) সঙ্গে মেলানো হবে। বন্দর ত্যাগ করার আগে ওই গাড়িতে ইলেকট্রনিক সিল ও লক দেয়া হবে। নন-কনটেইনার পণ্য এলে সেগুলো কাভার্ড ভ্যান বা ট্যাংকারে ঢুকিয়ে ওই গাড়িতে ইলেকট্রনিক সিল ও লক করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইলেকট্রনিক সিল ও লক করা হলে ওই গাড়ি কোথায় যাচ্ছে তা মনিটরিং করা সহজ হবে। এ ছাড়া কেউ লক নষ্টের চেষ্টা করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত পাওয়া যাবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যের কাস্টমস অফিসে যাওয়ার পর সিকিউরিটি লক ও কাগজপত্র মিলিয়ে দেখা হবে। এসব ঠিক থাকলে ওই গাড়ির আর কায়িক পরীক্ষা করা হবে না। তবে এসব ঠিক না থাকলে পুরো পণ্য পরীক্ষা করে ডিক্লারেশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। কাগজ ও বাস্তবতার মিল পাওয়া গেলে ওয়ান টাইম লক করে তা ভারতে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হবে। আর কাগজের সঙ্গে পণ্যের মিল পাওয়া না গেলে কাস্টমস আইন ১৯৬৯ এবং প্রচলিত অন্যান্য আইন ও বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়ার ৬(২) ধারায় নন-কনটেইনার পণ্যের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ ধরনের পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের পরই কাস্টমস কর্মকর্তারা ৫ শতাংশ পণ্য ডিক্লারেশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে। এর পর কাভার্ড ভ্যান বা ট্যাংকারে ঢুকিয়ে ইলেকট্রনিক সিল ও লক করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×