ঢাকা ওয়াসার সেবাবঞ্চিত নগরবাসী

প্রতিদিন নদী ও খালে ২২৫ কোটি লিটার পয়ঃবর্জ্য

৮০ ভাগ এলাকায় স্যুয়ারেজ লাইন নেই * সংক্রামক ব্যাধি থেকে ক্যান্সার হওয়ার শঙ্কা * বছরে ২১৭ কোটি টাকা লুট করছে ওয়াসা

  মতিন আব্দুল্লাহ ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারির অস্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ডে ফেলা হচ্ছে কঠিন বর্জ্য। দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। রোববারের ছবি। ছবি: যুগান্তর
সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারির অস্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ডে ফেলা হচ্ছে কঠিন বর্জ্য। দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। রোববারের ছবি। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা মহানগরীর সর্বত্র ওয়াসার স্যুয়ারেজ (পয়ঃবর্জ্য) পাইপলাইন নেই। মহানগরীর ২০ ভাগ এলাকায় স্যুয়ারেজ সিস্টেম থাকলেও বাকি ৮০ ভাগ এলাকায় তা নেই। ফলে প্রতিদিন ৮০ ভাগ এলাকার ২২৫ কোটি লিটার পয়ঃবর্জ্য সরাসরি ডোবা, নালা, খাল ও চারপাশের নদীতে গিয়ে মিশছে।

পানি নিষ্কাশন ড্রেনের মাধ্যমে মানববর্জ্য অপসারিত হওয়ায় পানি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পয়ঃবর্জ্য থেকে চর্মরোগ হতে পারে। এর সংস্পর্শে মুখ, গলা, নাড়িভুঁড়ি সর্বত্র ইনফেকশন হতে পারে। এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু পয়ঃবর্জ্য কার্যকরভাবে অপসারণে ঢাকা ওয়াসার কোনো উদ্যোগ নেই। বরং সেবা না দিয়ে তারা নগরবাসীর কাছ থেকে বছরে ২১৪ কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে ওয়াসা নতুন করে কোনো এলাকায় স্যুয়ারেজ পাইপলাইন স্থাপন করেনি। আর বিদ্যমান স্যুয়ারেজ পাইপলাইন, স্যুয়ারেজ লিফট স্টেশন ও স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে বিদ্যমান ২০ ভাগ এলাকার পাইপলাইনও সঠিকভাবে কাজ করছে না।

পুরনো পাইপলাইন ফেটে পয়ঃবর্জ্য ওয়াসার পানি নিষ্কাশন ড্রেন হয়ে নদী, খাল ও ডোবায় মিশছে। ১৯৯২ সালে গড়ে তোলা শহরের একমাত্র পাগলা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট দৈনিক সর্বোচ্চ ৬ কোটি ৫০ লাখ লিটার স্যুয়ারেজ শোধন করতে পারে। বাকি প্রায় ২২৫ কোটি লিটার স্যুয়ারেজ যত্রতত্র মিশে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার এক প্রকৌশলী বলেন, ঢাকা ওয়াসা দৈনিক ২৩২-২৩৫ কোটি লিটার পানি নগরবাসীকে সরবরাহ করে। একই হিসাবে দৈনিক শহরে ২৩২-২৩৫ কোটি লিটার স্যুয়ারেজ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ওয়াসা মাত্র ছয় কোটি ৫০ লাখ লিটার স্যুয়ারেজ দৈনিক শোধন করতে পারে। বাকি ২২৫ কোটি লিটার স্যুয়ারেজ সরাসরি নদী ও খালে পড়ছে। এসব বর্জ্য দুই কোটি নগরবাসীর জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে।

এ প্রসঙ্গে নগর বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে স্যুয়ারেজ লাইনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করছে না ঢাকা ওয়াসা। এ কারণে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন অকেজো হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় স্যুয়ারেজ ও খাবার পানি সরবরাহ লাইন এক হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বেশির ভাগ স্যুয়ারেজ মিশছে রাজধানীর চারপাশের নদী, খাল ও ডোবায়।

তিনি বলেন, পানি ও পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছি। এতে আমার মনে হয়েছে, বর্তমান ঢাকা ওয়াসার পাঁচ শতাংশ স্যুয়ারেজ লাইনও ঠিক নেই। এ কারণে পাগলা শোধনাগারে খুবই কম পরিমাণ স্যুয়ারেজ পৌঁছে। তিনি আরও বলেন, আবার পাগলায় যে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আছে, তা কোনোভাবেই নগরবাসীর পয়ঃবর্জ্যরে পাঁচ শতাংশের বেশি শোধনের ক্ষমতা রাখে না। আবার পুরো নগরীর পয়ঃবর্জ্য একটিমাত্র স্থানে নিয়ে যাওয়াও অনেক জটিল। কাজেই অবশিষ্ট পয়ঃবর্জ্য শোধনে নগরীতে আরও কয়েকটি প্ল্যান্ট তৈরি করা জরুরি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আজহারুল হক যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা ওয়াসার একমাত্র স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পাগলায়। বর্তমানে ওই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কার্যকর নেই; কিছুদিনের মধ্যে সেটির সংস্কার কাজ শুরু হবে। সংস্কারকাজ চলার সময় রাজধানীর কোনো পয়ঃবর্জ্য পাগলায় শোধন হবে না।

তিনি আরও বলেন, এখন রাজধানীতে প্রতিদিনের উৎপাদিত পয়ঃবর্জ্য ঢাকার খাল, নদী ও ডোবায় মিশছে। হাতিরঝিল এখন বড় পয়ঃবর্জ্য আধারে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে। নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করা গেলে অন্তত ১০ বছর লাগবে ঢাকা শহরের স্যুয়ারেজ সিস্টেম কার্যকর করতে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপার) সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল মতিন যুগান্তরকে বলেন, পয়ঃবর্জ্য মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বলে শরীর থেকে তা বেরিয়ে যায়। কিন্তু পয়ঃবর্জ্য অব্যবস্থাপনায় সেসব মানুষের মুখে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, পয়ঃবর্জ্য শরীরে লাগলে চর্মরোগ হতে পারে। এর সংস্পর্শে মুখ, গলা, নাড়িভুঁড়ি সর্বত্র ইনফেকশন হতে পারে। এর দূষণ থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা ওয়াসার কিছু এলাকায় স্যুয়ারেজ সিস্টেম আছে। আর অন্যসব এলাকায় স্যুয়ারেজ সিস্টেম গড়ে তুলতে পাঁচটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরির কাজ চলছে।

পাগলা, দাসেরকান্দি, উত্তরা, মিরপুর ও রায়েরবাজার এলাকায় এসব গড়ে তোলা হবে। এরই মধ্যে দুটির কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলো দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু হবে এবং শহরে স্যুয়ারেজ পাইপলাইনও গড়ে তোলা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের যেসব এলাকায় পয়ঃবর্জ্য পাইপলাইন গড়ে উঠেনি, সেসব এলাকায় পয়ঃবর্জ্য গড়ে তুলতে ৫-৭ বছর সময় লাগতে পারে। তবে কাজ শুরু করে জমি অধিগ্রহণসহ অন্যসব জটিলতার সৃষ্টি হলে সময় আরও বেশি লাগতে পারে।

ঢাকা ওয়াসার এক প্রকৌশলী জানান, স্যুয়ারেজ সেবার নামে ঢাকা ওয়াসা রাজধানীবাসীর সঙ্গে রীতিমতো প্রতারণা করছে। কেননা ১০ বছরেরও বেশি সময় স্যুয়ারেজ পাইপলাইন সংস্কারের জন্য সামান্য পরিমাণ অর্থও খরচ করা হয়নি। এ কারণে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন নেটওয়ার্ক নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, স্যুয়ারেজ পাইপলাইন অনুযায়ী গুলশান-বনানী এলাকার পয়ঃবর্জ্যগুলো হাতিরঝিলের নিচে স্থাপিত পাইপলাইন দিয়ে নিষ্কাশন হওয়ার কথা। কিন্তু হাতিরঝিলের নিচ দিয়ে বসানো স্যুয়ারেজ পাইপলাইনগুলো অকেজো। এ কারণে গুলশান-বনানী এলাকার পয়ঃবর্জ্য হাতিরঝিলে মিশে লেকের পানি নষ্ট করছে। এ পানি বেগুনবাড়ী খাল দিয়ে বালু নদীতে মিশছে।

অন্য এক প্রকৌশলী জানান, ঢাকা ওয়াসা ১০-১৫ বছরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কাজে এককভাবে মনোনিবেশ করেছে। এ কারণে পানি সরবরাহ খাতে মোটামুটি সাফল্য এসেছে। আর পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশন ও পানি নিষ্কাশন খাতে মনোযোগ না দেয়ায় এ দুটি খাতের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। তিনি বলেন, স্যুয়ারেজ সেক্টরের বড় সমস্যা-পাইপলাইনগুলোর ৯৫ ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। পাগলা শোধনাগার পর্যন্ত স্যুয়ারেজ পাইপ নেটওয়ার্ক রয়েছে খুবই কম এলাকার। এ কারণে অল্প কিছু এলাকার স্যুয়ারেজ পাগলা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে যাচ্ছে। বাকি এলাকার পয়ঃবর্জ্য নগরীর পানি নিষ্কাশন ড্রেনের মাধ্যমে নদী, খাল ও ডোবায় পড়ছে।

ঢাকা ওয়াসার স্যুয়ারেজ বিভাগের এক প্রকৌশলী যুগান্তরকে বলেন, বছরে পানি ও স্যুয়ারেজ পাইপলাইন পরিষ্কারে প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। তবে এটা খুব যথেষ্ট নয়। এ বরাদ্দ দিয়ে বছরে একবার ড্রেনগুলো কোনো রকমভাবে পরিষ্কার করে সচল রাখছি।

তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসার যেসব মডস জোনে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন নেই, সেসব জোনে আমাদের চেয়ে ১৫-২০ লাখ টাকা কম বরাদ্দ দেয়া হয়। এর বাইরে স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনায় জোন থেকে আর কোনো কাজ করা হয় না। অনেকদিন ধরে শুনছি, ওয়াসার স্যুয়ারেজ পাইপলাইনগুলো নতুন করে তৈরি করতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে; কিন্তু কোনো কিছু তো দেখছি না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সেবা না দিয়েও স্যুয়ারেজ (পয়ঃবর্জ্য) খাতে রাজধানীবাসীর কাছ থেকে বছরে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ২১৪ কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। এমনকি প্রতিবছর স্যুয়ারেজ সেবার ওপর বাড়াচ্ছে করও। নিরুপায় নগরবাসী বাধ্য হয়ে এ অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করছে।

নিয়ম অনুযায়ী রাজধানীর মানুষের মলমূত্র (পয়ঃবর্জ্য) বাসাবাড়ি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের পাগলার স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে নেয়ার কথা ঢাকা ওয়াসার। এরপর তা পরিবেশবান্ধব উপায়ে শোধন করার কথা। এ শর্তে রাজধানীর বড় একটি অংশের (সব স্থানে নয়) বাসাবাড়িতে স্যুয়ারেজ সার্ভিস সংযোগ দিয়েছে সংস্থাটি। এ সংযোগ বাবদ পানির বিলের প্রায় সমপরিমাণ টাকা বাসাবাড়ি থেকে আদায় করছে ওয়াসা।

তারা আরও জানান, রাজধানীর ২০ ভাগ এলাকায় স্যুয়ারেজ পাইপলাইন থাকলেও উৎপাদিত বর্জ্যরে মাত্র পাঁচ শতাংশ পরিশোধন করতে পারছে ওয়াসা। বাকি ৯৫ শতাংশ পয়ঃবর্জ্য পানি নিষ্কাশনের নালা হয়ে মিশছে রাজধানীর চারপাশের নদী, ভেতরের খাল ও জলাধারে। দূষিত হচ্ছে পানি ও পরিবেশ। এ থেকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিরূপ প্রভাব পড়ছে জনজীবনে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সেবা না দিয়ে অর্থ আদায় অনৈতিক। এটি জনগণের অর্থ লুটপাট ছাড়া কিছুই নয়। এর ওপর দূষণের মাধ্যমে শহরবাসীর ক্ষতি করা হচ্ছে।

ঢাকা ওয়াসার তথ্যমতে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে স্যুয়ারেজ খাতে ১১২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৩৩ কোটি ৯ লাখ টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৬৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৯২ কোটি ৪১ লাখ টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২০৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২০৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২১৬ কোটি ৯ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। এরপর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২২ শতাংশ স্যুয়ারেজ বিল বৃদ্ধি করায় পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

প্রতিবছর পাঁচ শতাংশ হারে বিল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে প্রায় ১৩ লাখ টাকা স্যুয়ারেজ বিল বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ২১৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকায়। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে একই হারে স্যুয়ারেজ ট্যাক্স বৃদ্ধি করায় প্রায় ১৪ লাখ টাকা বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ২১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকায়। একই হারে চলতি অর্থবছরেও স্যুয়ারেজ বিল বাড়ানো হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসা স্যুয়ারেজ পাইপলাইন মেরামত বাবদ বছরে পাঁচটি জোনে গড়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা করে খরচ করছে। এর বাৎসরিক পরিমাণ ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। একই সঙ্গে পাগলা পয়ঃশোধনাগারের বিভিন্ন সংস্কারে বছরে খরচ করছে আরও প্রায় দেড় কোটি টাকা। তবে এর বাইরে ঢাকা ওয়াসার আর কোনো খরচ নেই। অর্থাৎ, ঢাকা ওয়াসা স্যুয়ারেজের রক্ষণাবেক্ষণে বছরে ২ কোটি ২৭৫ লাখ টাকা খরচ করছে। স্যুয়ারেজ থেকে আয়ের আরও ২১৪ কোটি টাকা অবশিষ্ট থাকছে।

ঢাকা ওয়াসার ১০ বছরের বাজেট প্রতিবেদন ঘেঁটে এ খাতে খুবই সামান্য ব্যয় পাওয়া গেছে। জনগণের কাছ থেকে লুটে নেয়া এসব টাকা ওয়াসা অন্যসব কার্যক্রম পরিচালনায় খরচ করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা ওয়াসার জোন-১, ২, ৩, ৫ ও ৬ এর আওতায় রাজধানীর পুরান ঢাকা, ধানমণ্ডি-মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকা, বাসাবো-গেণ্ডারিয়াসহ আশপাশের এলাকা, গুলশান-বনানী-বারিধারা, মতিঝিল, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, মগবাজার এলাকা, দনিয়া-শ্যামপুরসহ আশপাশে ঢাকা ওয়াসার ৯৩৪ কিলোমিটার স্যুয়ারেজ পাইপলাইন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এ লাইন যুক্ত হওয়ার কথা পাগলার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামত না করায় লাইনের ৯৫ শতাংশ এখন অকেজো। ফলে এসব পয়ঃবর্জ্য সেখানে যাচ্ছে না।

আবার একটি এলাকায় একটি-দুটি ড্রেন থাকলেও পুরো এলাকার হোল্ডিং থেকে স্যুয়ারেজ ট্যাক্স আদায় করছে ওয়াসা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×