যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে রাঙ্গামাটি পৌরসভার মেয়র: ব্যর্থতা থাকলে জনগণ বিচার করবে

  সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুগান্তরে প্রকাশিত রাঙ্গামাটি মেয়রের সাক্ষাৎকার

চারদিকে উঁচুনিচু সবুজ পাহাড়। পাহাড়েরর ভাঁজে ভাঁজে ঝরনাধারা। সামনে পরিবেষ্টিতে স্বচ্ছ কাপ্তাই হ্রদ। পাহাড়, হ্রদ আর ঝরনার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক পরিবেশে সমৃদ্ধ রাঙ্গামাটি পৌরসভা। ১৯৭২ সালের ৮ মে পৌরসভাটির যাত্রা। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই পৌরসভার আয়তন ৬৪ দশমিক ৭২ বর্গকিলোমিটার। বর্তমান জনসংখ্যা ৮৬ হাজার ২৭৮ জন।

প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভার মোট ৫৭ হাজার ৭৮৪ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৩২ হাজার ১০৮ জন এবং নারী ২৫ হাজার ৬৮৬ জন। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আকবর হোসেন চৌধুরী। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন তিনি। গ্রহণ করেছেন মেগা প্রকল্প, যেগুলোর বাস্তবায়ন চলছে। পৌর এলাকার উন্নয়ন ও পৌরবাসীর সুবিধার জন্য শহরে অটোরিকশা স্টেশন, পুলিশ বক্স, ফুটপাত ও কিচেন মার্কেট নির্মাণ, রাস্তা প্রশস্তকরণ, পৌরসভার নিজস্ব জমি বা স্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার ও রেকর্ডিকরণ, গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণ বন্ধে খোঁয়াড় নির্মাণসহ বিভিন্ন গণমুখী কাজ করেছেন তিনি।

নির্বাচনের আগে তার প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিল পৌরসভায় বসবাসকারী সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রাখা। তাও বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এর পরও অনেক কাজই করতে পারেননি তিনি। পৌরসভার এখতিয়ারভুক্ত জলাশয়, হাটবাজার, ঘাট ও বাস টার্মিনাল ইজারা দিতে পারেননি।

দায়িত্ব পলনকালে নিজের সফলতা-ব্যর্থতার কথা জনাতে যুগান্তরের মুখোমুখী হয়েছিলেন মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতির ৮০ ভাগ পূরণ করতে পেরেছি। বাকি ২০ ভাগ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। আমার প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিল সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রাখা। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা রাখতে সফল হয়েছি বলে মনে করি। ব্যর্থতা বলতে তেমন কিছু নেই বলে মনে করি। তারপরও যদি থেকে থাকে, তা জনগণ বিবেচনা করবে।’

তিনি বলেন, ‘পৌরসভার নিজস্ব অফিস ভবনের জায়গা এবং রিজার্ভ বাজারে পৌরসভার রেস্টহাউসের জায়গা দখলমুক্ত করেছি। রাঙ্গামাটিতে ঘটে যাওয়া ২০১৭ সালের ১৩ জুনের ভয়াল পাহাড় ধসের ঘটনায় জমি ও বাড়িঘরহারা অসহায় সাধারণ মানুষের জন্য ৭২টি শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে ৬ হাজার পরিবারের মধ্যে ৬০০ টন খাদ্যশস্য বিতরণ করেছি।

বর্তমানে সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে রাঙ্গামাটি পৌরসভার অবস্থান দ্বিতীয়। তবে যে কাজটি বারবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি, তা হল স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপন জারি থাকার পরও প্রশাসনিক আইনের জটিলতার কারণে পৌরসভার এখতিয়ারভুক্ত জলাশয়, হাটবাজার, ঘাট ও বাস টার্মিনাল ইজারা দিতে পারছি

না।’ অভিযোগ আছে, উন্নয়ন কাজে টেবিলে-টেবিলে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন? এ প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমার অফিস এখন দুর্নীতিমুক্ত। প্রত্যেকটি কাজের সঠিক মনিটরিং করা হচ্ছে। তারপরও যদি কোনো অভিযোগ আসে, তাৎক্ষণিক যাচাই করে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

জলাবদ্ধতার নিরসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এখানে পৌরসভায় জলাবদ্ধতা নেই বললেই চলে। এরই মধ্যে ফুটপাত দখলমুক্ত করে জনগণের চলাচলের জন্য নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। ড্রেনেজ সংস্কার করা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী নতুন করে ড্রেনেজ নির্মাণ করা হয়েছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি- এ ধরনের অপরাধ থেকে পৌর এলাকাকে মুক্ত করেছি।’

মেয়র বলেন, ‘পৌরবাসীর দেয়া করের টাকায় সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন, রাস্তা-সিঁড়ি-ড্রেন নির্মাণ করে দিয়েছি। শহর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখছি। যারা নিয়মিত সর্বোচ্চ কর পরিশোধ করেন, তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ক্রেস্ট দিয়ে থাকি। এতে পৌরবাসী কর পরিশোধ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। শিক্ষার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দফতর ও বিভাগীয় কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে সরকারের গ্রহণ করা পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার উপকরণসহ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ও মানোন্নয়নে কর্তব্যরত আবাসিক চিকিৎসক, সিভিল সার্জনসহ চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের নিয়ম মেনে সেবা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

পৌরসভার সেবার মান সম্পর্কে মেয়র বলেন, বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণের জন্য শহরে তিন একর জায়গা কিনে অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। জনগণের সুবিধার জন্য দাফতরিক কাজগুলো ডিজিটালাইজড ও কাজের মান বাড়াতে সেবকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা হয়েছে। নাগরিক সুবিধার জন্য সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনফারেন্স রুম নির্মাণ করা হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে রোগী পরিবহনে অত্যাধুনিক মানসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে। লাশ পরিবহনের জন্য মিনি ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন পর্যটকদের জন্য ভিআইপি রেস্টহাউস এবং পর্যটকদের সুবিধার জন্য শহরের তবলছড়ি এলাকায় আধুনিক মানের রেস্টহাউস নির্মাণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে শহরের ভেদভেদী এলাকায় একটি কিচেন মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×