অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডিদের বৈঠক

এক অঙ্কের সুদ কার্যকর প্রজ্ঞাপন দিয়েই

আদালতে নিষ্পত্তির পরই প্রজ্ঞাপন * অর্থ উপার্জন করে বেতন নিতে হবে, নতুন করে মূলধন দেয়া হবে না * আগামী সাত দিনের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা দাখিলের নির্দেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রজ্ঞাপন জারি করেই ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকর করা হবে। সুদের হার কত হবে প্রজ্ঞাপনেই তা উল্লেখ থাকবে। তবে ঋণখেলাপির এক্সিট প্ল্যান নিয়ে আদালতে বিচারাধীন বিষয়টি সুরাহা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আশা করি শিগগিরই এর সুরাহা হবে। রোববার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আগামীতে ব্যাংকগুলোকে আর নতুন করে কোনো মূলধন দেয়া হবে না। অর্থ উপার্জন করেই তাদের বেতন-ভাতা নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, গেল সপ্তাহে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকে নতুন করে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেয় সরকার। রোববার আগারগাঁও এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী তাদের নিয়ে প্রথম বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার প্রমুখ।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের কর্মপরিকল্পনা দাখিলের জন্য চেয়ারম্যান ও এমডিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মূলত দায়িত্ব পাওয়ার পর ভবিষ্যতে কিভাবে ব্যাংক পরিচালনা করবেন সে সংক্রান্ত একটি কর্মপরিকল্পনায় আমার কাছে তারা দাখিল করবেন। এ নিয়ে আগামী রোববার পুনরায় তাদের সঙ্গে বৈঠক হবে। কর্মপরিকল্পনা পাওয়ার পর আলোচনা ও পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত করা হবে। আশা করি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন করে যাদের বসানো হয়েছে তারা প্রত্যেকে পারদর্শী। জীবনের বড় একটি সময় ব্যয় করে এ খাতে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তারা ভালো করবেন।

ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রায় সময় বলা হয় ব্যাংকিং খাতে তারল্যের অভাব। কিন্তু এই মুহূর্তে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য আছে ৯২ হাজার কোটি টাকা। এটি চাইলে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যবহার করা যাবে।

প্রজ্ঞাপন জারি করে সিঙ্গেল ডিজিটে সুদের হার করা হবে বলেছিলেন, কিন্তু সুদ হার ঠিক করবে বাজার, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে সরকার অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজার অর্থনীতি অনুসরণ করে আমেরিকা। কিন্তু তাদের অবস্থা দেখেন। সংকটে পড়ে মুদ্রা ছাপিয়ে আবার বাজারে ছাড়ছে। এটি কোন অর্থনীতিতে পড়ে। বাংলাদেশের সরকার মানুষের জন্য। অর্থনীতি হচ্ছে একটি সোশ্যাল সায়েন্স। এর অবস্থা সবখানে আছে। সাধারণ মানুষের জন্য যেটি ভালো হবে সরকার তা করবে।

তাহলে কি সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণের সুদহার কার্যকর করতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই করা হবে। এখন আদালতে একটি মামলা চলছে। এটি উঠে গেলেই তা করা হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় নতুন করে সময় দেয়া হবে। আর সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিট বলতে কত হবে সেটিও প্রজ্ঞাপনে ঠিক করে দেয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ নিয়ে আমরা সব সময় কথা বলি। আমি বলব, খেলাপি ঋণ কমার সুযোগ নেই। কারণ ঋণখেলাপি কমাতে যে এক্সিট প্ল্যান দেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হয়নি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানোর জন্যই এক্সিট প্ল্যান করেছিলাম। এখন সেটি আদালতে বিচারাধীন আছে। আর আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলা যাবে না। আশা করি খুব শিগগির এর সুরাহা হবে। আর ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের এক্সিট প্ল্যান কার্যকর হলে একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর বলেছিলেন, খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়বে না। কিন্তু এখন বাড়ছে। এটাকে কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনার দৃষ্টিতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আমার দৃষ্টিতে বাড়েনি। কারণ খেলাপি ঋণ বাড়বে না আমি বলেছি, একই সঙ্গে আমি একটি এক্সিট প্ল্যানও প্রণয়ন করেছি। কিন্তু সেটি কার্যকর করতে পারিনি। যে কারণে খেলাপি ঋণ কমেনি।

আপনি কি মনে করেন এক্সিট প্ল্যান বাস্তবায়ন হলে খেলাপি ঋণ কমবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অবশ্য সেটি মনে করি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মপরিকল্পনার মধ্যে সরকারের চাহিদা কি জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়তে দেয়া যাবে না। ব্যাংকগুলোকে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ মুনাফা করতে হবে। মুনাফা করেই তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নিতে হবে। আর ব্যাংকগুলোকে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো মূলধন জোগান দেয়া হবে না। এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। চলতি বছর বাজেটে এ জন্য বরাদ্দ রাখা হয়নি। ব্যাংকগুলো সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করবে।

সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে ব্যাংকের বাইরে রফতানি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামীতে রফতানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এমন কয়েকটি রিপোর্ট আমার চোখে পড়ছে। এটি একদম সঠিক নয়। কারণ ২০০৮ সালে বিশ্ব মন্দাতেও আমাদের রফতানি খাত আক্রান্ত হয়নি। কারণ বাংলাদেশ যেসব পণ্য রফতানি করছে এর চাহিদা সব সময় আছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মানুষগুলোর এসব পণ্য ব্যবহার করতেই হবে। ফলে রফতানি হ্রাস পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এছাড়া দেশের পুঁজিবাজারেও বিদেশের কোনো অর্থ নেই। যে কারণে রফতানির বাজার ক্ষতির সম্মুখীন নেই।

এ সময় প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ রোববার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, চলতি অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। আমি একটি কথা বলতে চাই, বর্তমান যেসব কার্যক্রম চলছে এটি অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের জডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের নিচে নামবে না। কারণ অবকাঠামোগুলোতে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে এর ফলাফল এ বছর থেকে পাওয়া শুরু হবে। ফলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি হবে। তাই অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে আগামীতে উদ্বেগের কিছু নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×