সাভারে ট্যানারির বর্জ্য

দূষণের কবলে ধলেশ্বরী

কমে গেছে মাছ ও অন্য জলজ প্রাণীর বিচরণ

  মতিউর রহমান ভাণ্ডারী, সাভার ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধলেশ্বরী নদী

সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্প নগরীতে ভয়ংকর বর্জ্য বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর ফলে দূষণের কবলে পড়েছে ধলেশ্বরী নদী। কোরবানির ঈদের আগেই ধারণা করা হয়েছিল সিটিপির সক্ষমতার দ্বিগুণ বর্র্জ উৎপাদন হবে এবার। কিন্তু বিসিক যথা সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বর্জ্য ধলেশ্বরীতে গিয়ে পড়ছে। ফলে দূষিত হচ্ছে পানি।

চামড়া শিল্প নগরী ঘুরে দেখা যায়, বিসিকের ১৫৫টি ট্যানারির বিপরীতে ডাম্পিং ইয়ার্ডের জায়গার পরিধি খুবই কম। সেখানে ফেলা হচ্ছে ট্যানারির উৎপাদিত কঠিন বর্জ্য পশুর কান, লেজ, শিং, হাড়, লোম, চামড়ার কাটপিস, গোশতের ঝিল্লি ইত্যাদি। ডাম্পিং ইয়ার্ডে ১১৩টি কারখানার বর্জ্য বৃদ্ধি পেতে পেতে বর্তমানে বিশাল ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এসব বর্জ্যরে শেষ ঠিকানা হচ্ছে ধলেশ্বরী। এ বর্জ্য নদীর পানি দূষণের পাশাপাশি এলাকায় ছড়াচ্ছে ব্যাপক দুর্গন্ধ। যা বিসিকের জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্প এলাকার বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে গেলে, তরল বর্জ্যরে পাশাপাশি কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়- যেমন পশুর কান, লেজ, শিং, হাড়, লোম, চামড়ার কাটপিস, গোশতের ঝিল্লি ইত্যাদি। এগুলো কারখানার একই পাইপলাইনে ফেলে দেয়া হয়। আর কিছুটা ফেলে দেয়া হয় ডাম্পিং ইয়ার্ডে। হেমায়েতপুর হরিণধরা এলাকায় বিসিকের চামড়া শিল্প নগরী প্রকল্পটিতে মোট জমির পরিমাণ ১৯৪ দশমিক ৪০ একর। এর মধ্যে সিইটিপির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৭ একর। আর কঠিন বর্জ্য ডাম্পিং ইয়ার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৬ একর জমি।

চামড়া শিল্প নগরীতে ডাম্পিং ইয়ার্ডের জন্য বরাদ্দকৃত জমি পর্যপ্ত কিনা জানতে চাইলে সাভার চামড়া শিল্প নগরীর (বিসিক) প্রকল্প পরিচালক জিতেন্দ্র নাথ পাল বলেন, ডাম্পিং ইয়ার্ডগুলো অস্থায়ী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৫৫টি ট্যানারির উৎপাদিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এ জমি সীমিত। স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড করা হলে আর কোনো সমস্যা হবে না।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছু ট্যানারি প্রতিষ্ঠান গাজীপুর ও অন্য জায়গা থেকে অতিরিক্ত বর্জ্য এনে এখানে ফেলছিল। এই অপরাধে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।’ সাভারের নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম (ঠান্ডু মোল্লা) বলেন, ট্যানারির দূষিত বর্জ্যে বুড়িগঙ্গা নদী আগে যে ভাবে দূষণ হতো, এখন দূষণ হচ্ছে ধলেশ্বরী নদী। খুব অল্প সময়ে ধলেশ্বরীর পানির রঙ পুরোপুরি বদলে গেছে। আগে এ নদীতে ফেলা হতো পোশাক কারখানার বর্জ্য। আর এখন ফেলা হচ্ছে ট্যানারির অপরিশোধিত বর্জ্য। নদীতে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বিচরণ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×